Posts

Showing posts from June, 2025

রাজনৈতিক দল কি? রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি লিখ

Image
রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা এবং কার্যাবলি আলোচনা ভূমিকা: রাষ্ট্র হলো একটি জাতির রক্ষা কবজ। কারণ রাষ্ট্র ছাড়া কোন জাতি টিকে থাকতে পারে না। রাজনৈতিক দল ছাড়া আবার কোন রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে না। কারণ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে। কারণ রাজনৈতিক দল সবসময় চায় তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ করুক। এজন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দল তার সুবিধামত সরকার গঠন করতে চায়। এখানেই শেষ নই। রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সুষ্ঠু সরকার গঠন করা হয় কারণ, রাজনীতি হলো গণতন্ত্রের প্রাণ আর এ গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্যই রাজনৈতিক দল কাজ করে যা সরকার গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক দল সর্বদা রাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ, তারা সর্বদা সুষ্ঠু সরকার গঠনের জন্য কাজ করে। রাজনৈতিক দল এমন একটি সংঘ যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়ে থাকে। রাজনৈতিক দল সব সময় জনগণের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্ঠা করে। কারণ এখানে জনগণ  ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি গোষ্ঠী যারা সবসময়বেধ উপায়ে ক্ষমতা...

আসাবিয়া কী? রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে আসাবিয়ার গুরুত্ব আলোচনা

Image
আসাবিয়ার সংজ্ঞা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে আসাবিয়ার গুরুত্ব ভূমিকা:- আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে ইবনে খালদুন পরিচিত। তিনি সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাসের অগ্রদূত এবং তার অনন্য অবদান হলো আসাবিয়া তত্ত্ব। আসাবিয়া শব্দটি সামাজিক সংহতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই তথ্যটি আবিষ্কার করেন সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন। আসাবিয়া তত্ত্বে তিনি গোষ্ঠী সংহতির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত। আসাবিয়া: ইবনে খালদুন তার আসাবিয়া তত্ত্বে বলেন যে, রাষ্ট্র পারিবারিক বন্ধনের সংহতির মাধ্যমে গঠিত হয়। রাষ্ট্র ঐতিহ্যের বন্ধন ও গোষ্ঠী সংহতি দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা রাষ্ট্র তৈরির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। এই সংহতিকেই ইবনে খালদুন আসাবিয়া তত্ত্ব বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, আসাবিয়া কোনো ধরনের শর্তযুক্ত নয় এটি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজে কার্যকর হতে পারে। এই তত্ত্বে তিনি বলেন, রাষ্ট্র তৈরির জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ববোধ, পরস্পরের প্রতি দয়ামায়া, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। এসবের সমন্বিত রূপই হলো সংহতি বা আসাবিয়া। ইবনে খালদুনের আসাবিয়া তত্ত্ব ব্যাপকভাবে পরি...

চলক কী? সামাজিক গবেষণায় চলকের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ

Image
চলকের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের গবেষণায় চলক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চলক হচ্ছে এমন এক ধরনের মান, গুণ, অবস্থা, বৈশিষ্ট্য যা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান করা হয় এবং যা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিভিন্নরূপে প্রকাশ পায়। পরিবর্তনশীলতা চলকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সমাজবিজ্ঞানে চলক গবেষণার ভিত্তি গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। চলক নিয়েই গবেষণার কাজ। চলকের সংজ্ঞা দেওয়া এক চলকের সাথে অন্য চলকের সম্পর্ক আছে কি না তার অনুসন্ধান করাই হলো সমাজবিজ্ঞান গবেষণার মূখ্য কাজ। চলকের সংজ্ঞা (Definition of variable): সাধারণ কথায় যা পরিবর্তিত হয় তাই চলক। চলক মূলত এমন এক ধরনের গুণ, বৈশিষ্ট্য, অথবা অবস্থা যা একই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি, একক কিংবা ঘটনা পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অন্যভাবে বলা যায় যে ধারণা একাধিক মূল্যমান ধারণ করে তাকে চলক বলে। প্রামাণ্য সংজ্ঞা বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন নিম্নে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা দেওয়া হলো Johan Galtung (1969:29) চলকের সংজ্ঞায় বলেন 'A Variable is a set if values that form a class...

ম্যালথাস কে ছিলেন? জনসংখ্যা নব্য-ম্যালথাসীয় তত্ত্ব আলোচনা কর

Image
ম্যালথাসের পরিচয় এবং জনসংখ্যায় নব্য-ম্যালথাসীয় তত্ত্ব আলোচনা ভূমিকা:- যেসব মনীষী এবং চিন্তাবিদ জনসংখ্যা বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন তাদের মধ্যে টমাস রবার্ট ম্যালথাস অন্যতম। জনসংখ্যা বিষয়ে তার তত্ত্বটি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। ম্যালথাসের পরিচয়: টমাস রবার্ট ম্যালথাস ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ ধর্মযাজক এবং অর্থনীতিবিদ। ১৭৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জিসার্স কলেজে পড়াশোনা করেন।তিনি ১৭৯৩ সালে কলেজ থেকে ফেলো ডিগ্রি লাভ করেন ম্যালথাস ১৮০৪ সালে বিয়ে করেন এবং এ বছরেই তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর Haileybury কলেজ এ হিস্টরি এন্ড পলিটিক্যাল ইকোনোমি বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি সফলতার সাথে অধ্যাপনা করেন। ম্যালথাসের জনসংখ্যা বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ An Eassy on the principle of population এ বইটি দুই খন্ডে বিভক্ত ছিল। প্রথম খন্ডটি প্রকাশিত হয় ১৭৯৮ সালে। বইটি প্রকাশের সাথে সাথে সব মহলে দারুণ উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করে। ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত এ বিখ্যাত গ্রন্থেই তিনি তার জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্যটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।এ তথ্যে তিনি খাদ্য উৎপাদন এবং জনসংখ্যা বৃ...

উন্নয়নের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাসমূহ আলোচনা কর

Image
বাংলাদেশের উন্নয়নের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা আলোচনা ভূমিকা:- উন্নয়ন একটি ব্যাপক শব্দ যা অন্তর্ভুক্ত করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তন যা অবিচ্ছেদ্যভাবে পরস্পরের সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ভীষণ গুরুত্ব লাভ করে। বর্তমান প্রায় সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। কোন দেশের সাফল্যের প্রথম শর্ত হচ্ছে তার সার্বিক দিক থেকে উন্নয়ন করা। তবে এ উন্নয়ন কাঠামোই অনেক সময় অনেক প্রতিবন্ধকতা দেখা যায় যার ফলে উন্নয়ন ব্যহত হয়। উন্নয়নের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাসমূহ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এদেশের উন্নয়নের বহু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে নিম্নে উন্নয়নের কাঠামোগত প্রতিবন্ধী কত সমুহ উল্লেখ করা হলো। ১। সামাজিক সমস্যা বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত। একটি হলো উচ্চ শ্রেণী আরেকটি হলো সাধারণ শ্রেণি। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তারা অতি কষ্টে জীবন যাপন করে। নিম্ন শ্রেণি মোটামুটি ভালো আবার রাজনীতির পালাবদলে কোন কোন ব্যক্তি লুটপাট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতা...

জনসংখ্যার উপর স্থানান্তর গমনের প্রভাব আলোচনা কর

Image
জনসংখ্যার উপর স্থানান্তর গমনের প্রভাব আলোচনা ভূমিকা:- উন্নত দেশ বা অনুন্নত দেশ সব দেশেই গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর হতে শহরে স্থানান্তর সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে সব দেশে একই কারণ বিদ্যমান তা নয়। কোন দেশে বিকর্ষণজনিত কারণে আবার কোন কোন দেশে আকর্ষণ জনিত কারণে জনসংখ্যা স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। জনসংখ্যা স্থানান্তর গমনের প্রভাবসমূহ  ১। জনসংখ্যার উপর গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের ফলে শহরে আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের জনসংখ্যা ও ঘনত্ব বাড়ছে। গ্রামের লোক শহরমুখি হচ্ছে বলেই শহর ও শহরের আশেপাশের শিল্প কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ হচ্ছে। বাংলাদেশের শহর ও শহরের আশেপাশে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। এসব খাতে নারী পুরুষ জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অতিরিক্ত লোকের চাপ পড়ছে শহরের বিভিন্ন খাতে। বিশেষ করে শহর এলাকায় দেখা দিচ্ছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত চাহিদা। ক্রেতার প্রতিযোগিতার কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে পণ্যর মূল্য।  ২। জনসংখ্যার উপর গ্রাম থেকে গ্র...

বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের কারণ ও প্রভাব আলোচনা কর

Image
বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের কারণসমূহ ও প্রভাব ভূমিকা:- মানুষ জীবনের প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে নতুনভাবে বসবাস করলেই স্থানান্তর গমন হয়। মানব সমাজে এটি একটি অতি সাধারণ প্রবণতা। বিশেষ করে অনুন্নত সমাজ থেকে অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় মানুষ স্থানান্তর গমনে উৎসাহিত হয়। যেহেতু বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত তাই এমন অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে গড়ে ওঠে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তর গমনের প্রবণতা। বাংলাদেশের গ্রাম হতে শহরে স্থান্তরের কারণ ১। বেকারত্ব: বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের অন্যতম কারণ বেকারত্ব। মানুষের তুলনায় যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ শহরের দিকে কর্মসংস্থানের আশায় স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। ২। ব্যবসা বাণিজ্য: বাংলাদেশে গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। ফলে গ্রামের ধনী শ্রেণীর লোকজন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যর জন্য শহরে স্থানান্তরিত হয়। ৩। দারিদ্র্য: এদেশের গ্রাম এলাকায় অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র তারা দুবেলা দুমুঠো অন্যের জোগাড় করতে পারে না। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠী উন্নতম জীবন ধারণের আশায় নগরে স্থানান্তরিত হয় ...

কৃষিকাজ কি? কৃষিকাজের ধরণ ও উপাদানসমূহ

Image
কৃষিকাজ কী? কৃষিকাজের ধরণ ও উপাদানসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- কৃষিকাজ হলো সমাজের কৃষি ব্যবস্থার মূল ধরণ। কারণ কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রধান উপার্জন বা জীবিকার মাধ্যম হলো কৃষিকাজ। আর সভ্যতার প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কৃষিকাজ করে আসছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার কৃষিকাজ বিদ্যমান। কৃষির উপর নির্ভর করে বর্তমানে বিশ্বে ১৫০ টি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষিকাজ মানুষের সাথে কৃষির নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ সমাজব্যবস্থায় কৃষিজদ্রব্য উৎপাদন করে মানুষ তার জীবিকা নির্বাহ করে। অধুনিক যুগে কৃষিজ উৎপাদন অনেক দ্রুতগতিতে সম্ভব হচ্ছে। কৃষিজ উৎপাদন বা কাজ হলো সমাজে বেচে থাকার জন্য যেসব দ্রব্য মানুষ উৎপাদন করে তার শ্রম বা উৎপাদন প্রণালিকেই কৃষিকাজ বলে। কৃষিকাজ হলো এমন এক ধরনের উৎপাদন বা চাষাবাদ পদ্ধতি যা সমাজের সকল জনগোষ্ঠীর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে। সাধারণত মাটি চাষ হতে শুরু করে ফসল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল কর্মকান্ডকেই একত্রে কৃষিকাজ বলা হয়। কৃষিকাজের ধরণসমূহ কৃষিকাজের ধরনসমূহ: আগে শুধু ব্যক্তি নিজের জন্য কৃষিকাজ করতো এখন সকলের জন্য কৃষিকাজ করা হয়। ১। প্রান্তিক কৃষিকাজ:- সাধা...

যৌথ খামার কি? যৌথ খামারের অসুবিধাসমূহ লিখ

Image
যৌথ খামারের সংজ্ঞা এবং অসুবিধাসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করে মানুষ তার চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে। সমাজে প্রতিটি মানুষের কিছু না কিছু চাহিদা রয়েছে। মানুষ হলো প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রাণী। সমাজে বসবাসকালে মানুষকে কিছু না কিছু করে তার চাহিদা পূরণ করতে হয় । যৌথ খামার তার মধ্যে অন্যতম। যা আমাদের দেশসহ অন্যান্য দেশের জন্য বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। যৌথ খামার ব্যবস্থা হলো আমাদের দেশের একটি সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই যৌথ খামার দেশের সব জায়গায় গড়ে তোলা উচিত। যৌথ খামারের সংজ্ঞা যৌথ খামার হলো এমন এক ধরনের খামার যেখানে কৃষকরা কাজ করে। তবে তারা পারস্পরিক সহযোগিতার আলোকে একসাথে কাজ করে। যৌথ খমারে কৃষকগণ সর্বদা পরামর্শ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করে। যা আমাদের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজতান্ত্রিক দেশের ধরন যৌথ ভিত্তিক। কারন তারা সকল কাজ করে সবাইকে নিয়ে। সকল কাজ সম্পাদন করার জন্য অলাদা আলাদা জনবল আছে যা সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করে। অর্থাৎ যৌথ খামার বলতে বোঝায় গ্রামীণ সমাজে বসবাসরত নারী,পুরুষ, কৃষক, শ্রমিক যৌথভাবে যে কাজ সম্পাদন করে থাকে সেটা...

Max Weber ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব, সমালোচনা ও মূল্যায়ন

Image
ম্যাক্স ওয়েবার আমলাতন্ত্র: বৈশিষ্ট্য, গুরুত্বও সমালেচনা ভূমিকা:- Max Weber ম্যাক্স ওয়েবার সমাজ, সমাজবিজ্ঞান এবং তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো “আমলাতন্ত্র”। আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে তিনি সমাধিক পরিচিত। আমলাতন্ত্র সমাজতাত্ত্বিকভাবে প্রথম আমলাতন্ত্র সম্পর্কিত আলোচনার সূত্রপাত করেন ওয়েবার ।ম্যাক্স ওয়েবার তাঁর ‘Economy Society’ নামক গ্রন্থে আমলাতন্ত্রের আধুনিক সমাজতত্ত্ব আলোচনার সূত্রপাত হয় এবং ‘Essays or sociology’ নামক গ্রন্থে তিনি আমলাতন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয় হলো সমাজতাত্ত্বিক মতবাদ। সমাজতাত্ত্বিক মতবাদের মধ্যে সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা নীতি, তত্ত্ব, প্রত্যয় এবং সাধারণীকরণ সম্পর্কিত বিচার বিশ্লেষণ অন্তর্ভূক্ত। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার এক বিশাল অংশ হয়ে আছে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব। সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের উদ্ভব, বিকাশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের সামাজিক পটভূমি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এব...

হার্বার্ট স্পেন্সারের পরিচয় দাও। হার্বার্ট স্পেন্সার কে?

Image
হার্বার্ট স্পেন্সার এর পরিচয় ভূমিকা:- হার্বার্ট স্পেন্সার ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজ সমাজবিজ্ঞানী এবং দার্শনিক। তিনি সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার তত্ত্ব ও চিন্তাভাবনাগুলি সমাজবিজ্ঞানের মূলধারা তৈরিতে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, স্পেন্সারের বিবর্তনবাদী তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সমাজের বিকাশও প্রাকৃতিক বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত। হার্বার্ট স্পেন্সারের পরিচয়: হার্বার্ট স্পেন্সারের জন্ম ১৮২০ সালের ২৭শে এপ্রিল ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারে একটি প্রোটেস্ট্যান্ট পরিবারে। তাঁর পরিবারে সৃষ্টিশীলতা এবং তাত্ত্বিক চিন্তা চর্চা ছিল প্রধান। তার শিক্ষা জীবন এবং কর্মজীবন তাকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেয় যেখানে তিনি সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হন। শিক্ষা জীবন ও কর্মজীবন: স্পেন্সার ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র এবং তার চিন্তা-ভাবনা ছিল গভীর। তিনি প্রাথমিকভাবে কৃত্রিম কৌশল এবং উপযোগিতাবাদী শিক্ষায় মনোযোগী ছিলেন। ছাত্রজীবনে তাঁর সৎ ও কর্মঠ মানসিকতা তাকে একদিকে যেমন বিজ্ঞান ও দর্শনে দক্ষ করে তোলে, তেমনি সমা...

অগাস্ট কোঁৎ এর ত্রয়ী স্তর সূত্র ব্যাখ্যা কর

Image
অগাস্ট কোঁতের ত্রয়ী স্তর সূত্র বিস্তারিত আলোচনা ভূমিকা:- অগাস্ট কোঁৎ একজন বিখ্যাত সমাজ দার্শনিক। তিনি সমাজদর্শনের জনক হিসেবে পরিচিত। অগাস্ট কোঁৎকে (Auguste Comte) সমাজদর্শনের জনক বলার কারণ হলো তার পূর্বে আর কোন দার্শনিক এত সুস্পষ্টভাবে সমাজবিজ্ঞানের খুঁটিনাটি বিষয় ব্যাখ্যা করেননি। তার প্রতিটি আলোচনায় ছিলো সমাজবিজ্ঞানের অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রেরণা স্বরুপ।  অগাস্ট কোঁৎ-এর ত্রয়ী স্তর সূত্র অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) তাঁর সমাজদর্শনের আলোচনায় ত্রয়ী স্তরের কথা উল্লেখ করেছেন। এই ত্রয়ী স্তরের প্রতিটি স্তরই সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।অগাস্ট কোঁতের ত্রয়ী স্তর সূত্র প্রধানত মানব বৃদ্ধি তথা মানব জ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অগাস্ট কোত সমাজবিজ্ঞান বলতে সব দিকের বিবেচনায় মানুষের জ্ঞান বুদ্ধির বিকাশকে বুঝিয়েছেন। অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) তার ত্রয়ী স্তরের অর্থগত ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন- “ত্রয়ী স্তর এর মূল বক্তব্য হচ্ছে এই যে, আমাদের প্রদান প্রধান ধারাগুলোর প্রত্যেকটা এবং জ্ঞানের প্রতিটি শাখা ধারাবাহিকভাবে তিনটি স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়ে থাকে।” এভাবে অগাস্ট কোঁৎ (Auguste C...

সমাজকাঠামো কি? সমাজকাঠামোর উপাদানসমূহ আলোচনা কর

Image
সমাজকাঠামোর সংজ্ঞা এবং উপাদানসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সমাজকাঠামো সমাজবিজ্ঞানপর আলোচ্য বিষয়। শুধু সমাজকাঠামোর মাধ্যমেই সমাজকে অনুধাবন করা যায়। যে কোন সমাজকে জানার জন্য সমাজের সমাজকাঠামো জানার বিকল্প নেই। কতকগুলো বিষয় দ্বারা সমাজের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সে বিষয়গুলোই সমাজকাঠামোর উপাদান। তাই উপাদান গুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজকাঠামোর বিশ্লেষণ পরিপূর্ণ হয়। সমাজকাঠামোর সংজ্ঞা সমাজবিজ্ঞান এ সমাজকাঠামো একটি স্বতন্ত্র প্রপঞ্চ হিসেবে বিবেচিত। সাধারণ সমাজ যার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তাকেই সমাজকাঠামো বলে। সমাজকাঠামোর ধারণাকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা (ক) জৈবিক ধারণা (খ) অজৈবিক ধারণা। অজৈবিক ধারণার প্রবর্তক মার্কস ও জৈবিক ধারণার সমাজতাত্ত্বিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রেড ক্লিফ ব্রাউন, ই. আর. লিচ ও মরিচ জিন্সবার্গ। প্রামাণ্য সংজ্ঞা: সমাজকাঠামো সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে কয়েকজন সমাজবিজ্ঞানীর কতিপয় সংজ্ঞা প্রদান করা হলো- ই. আর. লিচ সমাজকাঠামোকে রাজনৈতিক ক্ষমতার উপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মতে "ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতা বন্টনের যে সমষ্টি...

শিক্ষার কার্যাবলি ও গুরুত্ব আলোচনা কর

Image
শিক্ষার কার্যাবলি ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা ভূমিকা: শিক্ষা ব্যক্তিকে সচেতন, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলে। শিক্ষা একজন ব্যক্তির মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে বিকশিত করে। শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে সুশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়। সমাজে কোনো যোগ্যতম ব্যক্তিকে বাছাই করার ব্যাপারেও শিক্ষা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষা সমাজের ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে দক্ষ করে তোলে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রেই শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার কার্যাবলিসমূহ সমাজজীবনে শিক্ষার ভূমিকা সর্বদিক দিয়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে শিক্ষার ভূমিকা বা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কার্যাবলি উল্লেখ করা হলো- ১. সু-প্রবৃত্তি সমূহের বিকাশ সাধন শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষের প্রকৃতি প্রদত্ত প্রবণতাগুলোকে বিকাশিত করা এবং মানুষের মনের আদর্শ লক্ষকে প্রবিষ্ট করানো। প্রকৃত প্রস্তাবে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সুপ্ত মানসিক শক্তি বিকাশ সাধন। ২. ত্রুটিপূর্ণ মনোবৃত্তির সংশোধন শিক্সার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে শিক্ষার্থীকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা। এ মনোভাব ও মানসিকতার ত্রুটিসমূহ সংশোধন করার ...

দাসপ্রথা কি? দাসপ্রথার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা কর

Image
দাসপ্রথা কি? দাসপ্রথার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা ভূমিকা:- মানব সমাজ সর্বদায় গতিশীল। বিভিন্ন পরিবর্তন এর মধ্য দিয়ে এই গতিশীলতা তৈরী হয়। সামাজিক পরিবর্তন একটি চিরন্তন প্রথা। এক সমাজ পরিবর্তিত হয়ে অন্য সমাজে রুপ লাভ করে এবং পৃথিবীর কোন সমাজ ব্যবস্থায় চিরস্থায়ী থাকে না। এরূপ বিভিন্ন পরিবর্তনের এক পর্যায়ে সমাজে এই দাসপ্রথার উদ্ভব ঘটে। দাস সমাজ মূলত দাস প্রথার উপরই প্রতিষ্ঠিত তবুও এ প্রথার মধ্যে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। দাসপ্রথার সংজ্ঞা দাসপ্রথা হলো এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান যা ব্যক্তিগত পর্যায়ে আধিপত্যের বশ্যতা সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। এ সম্পর্কের যাত্রা খুবই গভীর এবং বিস্তৃত। দাস প্রথায় একদিকে যেমন দাস মালিকের হাতে রয়েছে দাসের জীবন-মরণ এর অধিকার অন্যদিকে রয়েছে সুনিশ্চিতভাবে প্রণীত পারস্পরিক দায়দায়িত্বের এবং আইন প্রণয়নের অধিকার। কিন্তু এসবের মূল কথা হলো আপন স্বার্থ হাছিল করার জন্য দামকে কাজে বাধ্য করার অধিকার। সমগ্র পৃথিবীতে দাসপ্রথা কলঙ্কজনক অধ্যয়ের সূচনা করেছে। আদিম সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা পতনের মধ্য দিয়েই মূলত দাসপ্রথার উদ্ভব ঘটে। সমগ্র প্রাচীন কাল জুড়েই প...

শিল্পবিপ্লবের সুফল কুফল। শিল্প বিপ্লবের ফলাফল আলোচনা কর

Image
শিল্পবিপ্লবের সুফল কুফল এবং ফলাফল আলোচনা ভূমিকা: মানবজীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। শিল্পবিপ্লব (Revolution) মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক জীবনের সর্বক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ফলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তীতে ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহে পরিবর্তন ঘটে। শিল্পবিপ্লবের সুফলের পাশাপাশি কিছু কুফলও ছিল। আজ আমরা শিল্পবিপ্লবের সুফল-কুফল/ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব। শিল্প বিপ্লব (Revolution) এর সুফল নিম্নে শিল্পবিপ্লবের সুফল আলোচনা করা হলো- ১। আমদানি বৃদ্ধি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদনের ফলে শুধু রপ্তানিই বৃদ্ধি পায় না, বরং উৎপাদিত পণ্যের জন্য প্রচুর পরিমাণ কাঁচামাল আমদানিও করতে হচ্ছে। ২। সম্পদের সদ্ব্যবহার প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে শিল্পায়ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ৩। নিরাপত্তা কর্মসূচি শিল্পবিপ্লবের সুফল এর মধ্যে নিরাপত্তা কর্মসূচি অন্যতম। অদৃষটপূর্ব ঘটনাসমূহ (দূর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, বার্ধ্যক্যতা, ম...

সালিশ কি? বাংলাদেশের সালিশের প্রকৃতি সম্পর্কে লিখ

Image
সালিশ কি? বাংলাদেশের সালিশের প্রকৃতি আলোচনা ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের শতকরা ৬০ ভাগ লোক প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বেশি ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। আর গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার হার অনেক কম। বাংলার গ্রামের মানুষের মধ্যে যেকোন ধরনের বিচার করার জন্য সালিশ প্রথা অন্যতম। কারণ, গ্রামের মানুষের মধ্যে সালিশ প্রথার মাধ্যমে যে কোনো ধরনের গ্রাম পর্যায়ের অপরাধের বিচার করা হয়। সালিশের সংজ্ঞা সালিশ হলো এমন এক ধরনের বিচার ব্যবস্থা যা গ্রামাঞ্চলের মধ্যে কোন ধরনের অপরাধ সংঘঠিত হলে তা গ্রামের মাতবর, মেম্বার, চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পরিচালিত হয়। সালিশ ব্যবস্তা যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি বিচারব্যবস্থা যা সমাজব্যবস্থার জন্য এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমাদের সমাজের সকল জায়গায় কোন না কোন ধরনের অপরাধ সংঘঠিত হয়।আর এ সব অপরাধ সংঘঠিত হলে গ্রামের মাতবররা সবাই মিলে তার বিচার কার্য সম্পন্ন করে। আর গ্রামের সকল কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো এসব মন্ডল , মাতবরের উপর নির্ভর করে। কারণ এরা গ্রামের সকল আচার অনুষ্ঠান পালনের জন্য এসব নেতার উপর নির্ভর ...

অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) কে ছিলেন? অগাস্ট কোঁতকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয় কেন?

Image
অগাস্ট কোঁতের পরিচয় এবং সমাজবিজ্ঞানের জনক বলার কারণ আলোচনা ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজ সচেতন দার্শনিকদের চিন্তা-চেতনার ফসল। এই সমাজ সচেতন দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম হলেন সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ। তার সমাজ সম্পর্কিত চিন্তা ও তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি তার মেধা দিয়ে সমাজবিজ্ঞানের মত একটি বিজ্ঞানকে স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে দাড় করান। অগাস্ট কোঁতের পরিচয়: অগাস্ট কোঁত (ওগ্যুস্ত কোঁৎ) ১৭৯৮ সালের ১৯শে জানুয়ারী মাসে ফ্রান্সের মোঁপেলিয়েরে মন্টোবলিয়ারে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিলো ইসিডোর অগাস্ট মেরি ফ্রাঙ্কোস এক্সেভিয়ার কোঁতে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী। অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) ছাত্র অবস্থায় খুবে মেধাবী ছিলেন। ১৮১৪ সালে তিনি ইকোল পলিটেকনিকে তিনি ভর্তি হন। নানা জটিলতায় তিনি তাঁর শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করতে পারেননি। ১৮১৭  সালে সেইন্ট সাইমনের সাথে পরিচিত হওয়ার পর থেকে অগাস্ট কোঁৎ এর চিন্তা জগৎ এর ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি  Positive Philosophy গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ১৮৩০ সালে প্রকাশিত হয়। অগাস্ট কোঁতকে সমাজবিজ্...

গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান কী? গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়সমূহ লিখ

Image
গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও আলোচ্য বিষয়সমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সভ্যতার উষাকাল থেকে যৌথবদ্ধ মানুষ একত্রে থাকার সুযোগ সুবিধা এবং সমস্যা নিয়ে ভেবেছে।সমাজজীবনকে অর্থবহ করার নানা উপায় ও কৌশল উদ্ভবন করেছেন। ফলে জম্ম হয় বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানের, দর্শন শাস্ত্র, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের, ইতিহাসের মনস্তত্ত্বের সবশেষে আত্মপ্রকাশ করেছে একদিকে আদি মানব চিন্তার মতই প্রাচীন আবার অন্যদিকে প্রতি দিনের সংবাদপত্রের মতই নতুন বিজ্ঞান সমাজবিজ্ঞান। গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান আমরা জানি, প্রাচীনতম স্থায়ী জনসমষ্টি হচ্ছে গ্রাম। গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার সমাজবিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞানের যে শাখাটি গ্রামীণ মানুষের যীবনযাত্রা, আচার-আচরণ, ধ্যান-ধারণা ও গ্রাম সমাজের সংগঠন, কাঠামো প্রক্রিয়া এর মৌলিক সামাজিক ব্যবস্থাসমূহ এবং পরিবর্তনকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে থাকে তাকেই গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বলা হয়। প্রামাণ্য সংজ্ঞা গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী নানা ধরনের  অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন । নিম্নে তাদের অভিব্যক্ত কয়েকটি উ্রল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো। গ্রামীণ স...

ভূমিসংস্কার কী? ভূমিসংস্কারের গুরুত্ব আলোচনা কর

Image
ভূমিসংস্কার বলতে কী বুঝ? ভূমিসংস্কারের গুরুত্ব আলোচনা ভূমিকা:- প্রাক ভারতে ভূমি মালিকানা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদরা ভিন্ন মতামত পোষণ করেন।ভূমিতে ব্যক্তি মালিকানা বা রাষ্ট্রীয় মালিকানা বা গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মালিকানার কথা বিভিন্ন জন বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে ক্ষুদ্রার্থে হলে ভূমিতে মালিকানা ছিলো। এক কথায় ভূমি বিষয়ে যে সংস্কার আইন তৈরী করা হয় তাই ভূমি সয়স্কার আইন নামে পরিচিত। ভূমিসংস্কারের সংজ্ঞা সাধারণভাবে ভূমিসংস্কার বলতে বুঝায় চাষির নিকট জমি ও কৃষি আয়ের পুনঃবন্টনকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এদেশের সরকার ৮০ জন Gundar Mydral এর মতে ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে আমরা মানুষ এবং জমির মধ্যে সম্পর্কের একটি পরিকল্পিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন বুঝি। প্রামাণ্য সংজ্ঞা বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবীদ, তাত্ত্বিক ও ভূমি বিশেষজ্ঞ ভূমি সংস্কার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ প্রদান করেছেন। নিম্নে তা উপস্থাপন করা হলো- অধ্যাপক এম এ হামিদ বলেন পল্লীউন্নয়নের লক্ষ্যে অস্তিত্বমান ভূমিব্যবস্থার সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করে তার সংস্থারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ...