Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts

ইকোপার্ক কি? বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত ইকোপার্কসমূহ সম্পর্কে লিখ

বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন ইকোপার্কসমূহ সম্পর্কে লিখ

ভূমিকা: বাংলাদেশের মোট আয়তনের ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি, যা দেশের মোট আয়তনের ১৭.০৩ ভাগ। ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমির মধ্যে বনবিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১৫২ হেন্দ্রর যা দেশের মোট আয়তনের ১০.৬ ভাগ। জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন ৭৩ মিলিয়ন হেক্টর ইউএসএফ ল্যান্ড এবং অবশিষ্ট ২৭ মিলিয়ন হেক্টর গ্রামীণ বনাঞ্চল হিসেবে পরিগণিত। ইকোপার্ক এসব বনাঞ্চলের একটি।

ইকোপার্ক কি? বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত ইকোপার্কসমূহ

ইকোপার্ক:

ইকোপার্ক (Ecopark) হলো Ecological Pat এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে জীববৈচিত্রোর উপর কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার না করে বিনোদন উদ্যান গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বনাঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে চিহ্নিত করে একটি নিবিড় ব্যবস্থাপনার আওতায় তাকে নিয়ে আসা হয়। এখানে জীববৈচিত্র্য রক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। জীববৈচিত্র্য রক্ষ্য করীর জন্য উদ্ভিদের বৈরিতা রপ বলা হয় Flora এবং প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষার অংশকে বলা হয় Fauna। এজন্য বলা হয় এখানে Flora Fauna এর সমন্বয় ঘটানো হয়। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিতভাবে বায়ুসংস্থান গড়ে তোলার উপর জোর দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক Ecotourism Society ইকোপার্কের সংজ্ঞায়ন করতে বলেন, it is not a simple marginal activity to france protection of the environment, but it is a major of the national economy

বাংলাদেশের ইকোপার্কসমূহ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে বাংলাদেশের বন বিভাগ নিম্নোক্ত ৯টি ইকোপার্ক স্থাপন করেছে। দেশের অভ্যন্তরে এগুলো হলো-

১. সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক:

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ রিজার্ভফরেস্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চিরসবুজ বনাঞ্চলে ১৯৯৯ সালে ৮০৬ হেক্টর জায়গা নিয়ে ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক। পার্কের প্রধান গৈট হতে ৫ কি মি. ভিতরে চন্দ্রনাথ শিবমন্দির অবস্থিত। মন্দিরের ভিতর থেকে ২৫২টি সিঁড়ি এবং পাহাড়ের পাদদেশে ১৬০০টি সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে উঠতে হয়। ফাল্গুনে শিবসংক্রান্তিতে দেশ বিদেশের বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীদের কীর্তনে মুখর হয়ে পড়ে পুরো অরণ্য। পাহাড়ের উচ্চতা ৪১০ মি. সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সব ঝরনা এক হয়ে তৈরি হয়েছে সহস্রধারা ও সুপ্তধারার মতো প্রবহমান প্রাকৃতিক ঝরনা। পার্কের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫৪ রকম চিরসবুজ উদ্ভিদ রয়েছে। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর সমাহার।

২. বাঁশখালী ইকোপার্ক:

চট্টগ্রাম শহর হতে ৫০ কি.মি দক্ষিণ-পশ্চিমে বাঁশখালী উপজেলার বামেরছড়া ও ভানেরছড়া এলাকার সমন্বয়ে ২০০৩ সালে ১০০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক গঠিত হয়। এটি জলদি অভয়ারণ্যের রেঞ্জের জলদি ব্লকে অবস্থিত। ছোট ছোট পাহাড় ও টিলা নিয়ে গঠিত বামেরছড়া ও ভানেরছড়া বাঁধ তৈরির ফলে উক্ত এলাকায় অপরূপ কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। এক সময় এই এলাকা প্রাকৃতিক বন ও জীবজন্ততে পরিপূর্ণ ছিল। বর্তমানে কালের বিবর্তনে তার আনকটিই মলিন হয়ে গেলেও পরবর্তীতে বর্তমানে পার্ক এলাকায় ৬৭৪ হেক্টর বনভূমিতে বাফার, ভেষজ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর বাগান করা হয়েছে।

৩. মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক:

পাথরিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের পশ্চিম পাদদেশে অবস্থিত জলপ্রপাতকে ঘিরে ২০০১ সালে পাঁচশত একরের বিশাল জায়গা জুড়ে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক তৈরি। এই মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ৭০ কি.মি. উত্তরে এবং বড়লেখা উপজেলা কাঁঠালতলী বাজার থেকে ৮ কি.মি. পূর্বে অবস্থিত। পার্কের পাশ দিয়ে মাধবছড়া নামে একটি ঝরণা প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম পাহাড়ি ঝরণা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও পরীবৃত্ত এখানেই অবস্থিত। এছাড়া আশেপাশে অনেক টিলা অবস্থিত। পার্কে নানারকম প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও বৃক্ষ রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য পরবর্তীতেও বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এখানে বিচিত্র রকমের পাখি ও বন্যপ্রাণীও দেখতে পাওয়া যায়।

৪. মধুটিলা ইকোপার্ক:

শেরপুর জেলার নলিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের সমশচূড়া ও পোড়াগাঁও মৌজার ৩৮০ একর জায়গা জুড়ে ১৯৯৯ সালে মধুটিলা ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমানাসংলগ্ন গারো পাহাড়ের পাদদেশে দিগন্তজোড়া সবুজ বনরাজি বেষ্টিত এবং পাহাড়, ঝরনা, টিলা ও লেক সুশোভিত ইকোপার্কটি পর্যটকদের জন্য আকর্যণীয় করে তোলা হয়েছে। এখানে নানা ধরনের জানা-অজানা গাছের সাথে সাথে রয়েছে নানা ধরনের পশু ও প্রাণিবৈচিত্র্য।

৫. বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক:

পরিবেশ ও প্রতিবেশগত উন্নয়নের লক্ষে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর গাইড বাঁধ এলাকা সংরক্ষণের নিমিত্তে ২০০৭ সালে ১২৪ একর জায়গা নিয়ে যমুনা সেতুটির পশ্চিমপাড়ে বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়। ১৯৯৮ সালে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবার পর পরই সেতুবিভাগ পারিপার্শ্বিক এলাকায় বনায়ন শুরু করে। সামাজিক বনায়ন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারক, শোভাবৃদ্ধিকারী গাছ ও ফুলের চারা রোপণের মাধ্যমে এখানে বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

৬. কুয়াকাটা ইকোপার্ক:

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড় উপজেলায় গঙ্গামতি লতাচাপলী, খাজুরা এবং বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার টেংরাগিরি মৌজায় ১৩৯৮৪ একর জায়গা নিয়ে ২০০৫ সালে কুয়াকাটা ইকোপার্ক নির্মিত হয়। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, বঙ্গোপসাগর, রামনাবাদ নদী, আন্ধারমানিক নদী, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনার সন্নিকটে এই ইকোপার্ক অবস্থিত। এখানে আগেই অনেক ধরনের বৃক্ষ ছিল। পরে আরও অনেক ধরনের বৃক্ষ রোপণ করে ইকোপার্ককে আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

৭. টিলাগড় ইকোপার্ক

সিলেট জেলার সদর থেকে পূর্ব দিকে ৮ কি.মি. দূরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন টিলাগড় রিজার্ভ ফরেস্টের ১১২ একর জায়গা নিয়ে ২০০৬ সালে টিলাগড় ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়েছে। ইকোপার্কের মধ্য দিয়ে একটি ছড়া প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও টিলাগড় বিজার্ভ ফরেস্টের মধ্যে ছোট বড় কয়েকটি টিলা নিয়ে পার্কটি অবস্থিত। এখানে অনেক ধরনের প্রাণী ও বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরাজি দেখা যায়।

৮. জাফলং গ্রিনপার্ক:

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখেল সংরক্ষিত বনভূমিতে জ্যাফলং গ্রিনপার্ক অবস্থিত। এই পার্কটি ৫৩৭ একর জায়গা নিয়ে ২০০৮ সালে স্থাপিত হয়। গভীর সবুজ বন বনানী এবং সিলেট তামাবিল সড়কের দুই পাশের নয়নাভিরাম বাগান, ডাউকি নদীর স্বচ্ছ জলে বহমান পাহাড়ি ঝরনা-সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার জাফলং।

৯. বড়শীজোড়া ইকোপার্ক:

মৌলভীবাজার শহরের ১ কিমি দক্ষিন-পশ্চিমে ৮৮৭ একর সংরক্ষিত বনভূমির সমন্বয়ে ২০০৬ সালে বড়শীজোড়া ইকোপার্ক গঠিত হয়। এই বনভূমি ১৯১৬ সালে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষিত হয়। এই ধনভূমিতে রয়েছে অনেক রকম গাছ এবং অনেক প্রাণিবৈচিত্র্য।

১০. রাজেশপুর ইকোপার্ক:

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র ২.২ কিলোমিটারের মধ্যে এই রাজেশপুর ইকোপার্ক অবস্থিত। এটা কুমিল্লা জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কুমিল্লা সদর জোড় কানন উপজেলায় অবস্থিত এই বনভূমি। এই ইকোপার্ক ত্রিপুরা রাজ্যের গহীন অরণ্যের সাথে সংযুক্ত। তাই মাঝে মাঝে বাঘ, সিংহ, হরিণের মতো পশুদের দেখা মেলে এই ইকোপার্কে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ইকোপার্ক শুধু বন ব্যবস্থাপনার অংশ নয়। বরং দেশ-বিদেশি ভ্রমণ ও প্রকৃতিপ্রেমী লোকজনের বিনোদনের পাশাপাশি ঐ বিশেষ প্রতিবেশ বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। সেই সাথে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জনমনে সচেতনা সৃষ্টি হয়।

১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ বিজয় দিবস ইতিহাস, তাৎপর্য ও উদযাপন

১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ বিজয় দিবস: ইতিহাস, তাৎপর্য ও উদযাপন

ভূমিকা: বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে বিজয় দিবস এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় অধ্যায়।বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় দিন। প্রতিটি বছর ১৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ এই দিনে, আমরা স্মরণ করি সেই মহান অর্জন, যা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে।

১৯৭১ সালের এই দিনে, দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সেনারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এই দিন চিহ্নিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয়। তাই এই দিনটি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের জাতীয় অহংকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে করিয়ে দেয়এবং এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে  বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ পায়।

১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ বিজয় দিবস


বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও বাঙালিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত ছিল। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সবই ছিল এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধাপ। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চলাইট”-এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই ভয়াল রাতের পর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ।


মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের পথচলা

মুক্তিযুদ্ধ ছিল অসম শক্তির লড়াই। একদিকে আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার স্বপ্নে যুদ্ধে নেমেছিল। দেশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধ চালান এবং বাইরে প্রশিক্ষণ নিয়ে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এই যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হন, দুই লক্ষের বেশি মা-বোন সম্ভ্রম হারান এবং প্রায় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। গ্রাম, শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথাও রেহাই পায়নি ধ্বংসযজ্ঞ থেকে। তবুও বাঙালির মনোবল ভাঙেনি। একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই একটাই লক্ষ্য ধারণ করেছিল স্বাধীনতা।

অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। লাল-সবুজের পতাকা উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশে। সেই দিনই চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।


বিজয় দিবসের তাৎপর্য

বিজয় দিবস আমাদের কাছে কেবল একটি উৎসবের দিন নয়, এটি আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার মূল্য বোঝার দিন। এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়, এটি রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। 

এই দিনটি আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, মাথা উঁচু করে বাঁচতে এবং নিজের দেশকে ভালোবাসতে। বিজয় দিবস বাঙালি জাতিকে ঐক্যের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেয়।


বিজয় দিবস উদযাপন

প্রতি বছর সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। দিনটির সূচনা হয় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলো লাল-সবুজের পতাকায় সজ্জিত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। টেলিভিশন ও পত্রিকায় বিশেষ অনুষ্ঠান ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো হয়, যাতে তারা বিজয়ের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে।


নতুন প্রজন্ম ও বিজয় দিবস

আজকের তরুণ প্রজন্ম স্বাধীন দেশে জন্মেছে। তারা যুদ্ধ দেখেনি, শরণার্থীর জীবন যাপন করেনি। তাই বিজয় দিবসের গুরুত্ব তাদের কাছে কখনো কখনো আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু এই প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

তাদের জানতে হবে কীভাবে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল এবং কারা এই স্বাধীনতার নায়ক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হবে বিজয় দিবসের প্রকৃত শিক্ষা।


আমাদের দায়িত্ব ও করণীয়

বিজয় দিবস আমাদের শুধু অতীত স্মরণ করতে বলে না, ভবিষ্যতের দিকেও তাকাতে শেখায়। স্বাধীনতার সুফল তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অর্থ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেশের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করা।

একজন নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলা, দায়িত্বশীল হওয়া, শিক্ষা ও নৈতিকতায় নিজেকে গড়ে তোলাও বিজয় দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ।

উপসংহার: বিজয় দিবস বাঙালি জাতির জীবনে এক অনন্য গৌরবের দিন। এই দিন আমাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় এবং স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করতে শেখায়। শহীদদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

আসুন, বিজয় দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নিই। তবেই মহান বিজয় দিবসের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা হবে অর্থবহ ও চিরস্থায়ী।

বিদেশে পড়াশোনা ও স্কলারশিপ: সম্পূর্ণ গাইড (দেশভিত্তিক স্কলারশিপ তালিকাসহ)

বিদেশে পড়াশোনা ও স্কলারশিপ: সম্পূর্ণ গাইড (দেশভিত্তিক স্কলারশিপ তালিকাসহ)

ভূমিকা:- বিদেশে পড়াশোনা আজকের তরুণদের স্বপ্নের বাস্তব রূপ। উন্নত শিক্ষা, আধুনিক গবেষণা সুবিধা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং গ্লোবাল ক্যারিয়ার এসব কারণে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া, তুরস্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চান অনেকেই।

বিদেশে পড়াশোনা ও স্কলারশিপ: সম্পূর্ণ গাইড

কিন্তু অনেক সময় খরচের কথা ভেবে অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে যায়। অথচ এখন বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বড় Fully Funded ও Partially Funded Scholarship প্রদান করছে। সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি থাকলে বিদেশে পড়াশোনা করা খুবই সম্ভব।


এই আর্টিকেলে আমরা জানবো

✔ বিদেশে পড়াশোনার কারণ

✔ সুবিধা

✔ আবেদন প্রক্রিয়া

✔ যোগ্যতা

✔ জনপ্রিয় দেশ

✔ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের শীর্ষ স্কলারশিপগুলোর বিস্তারিত তালিকা



বিদেশে পড়াশোনা কেন করবেন?

১. বিশ্বমানের শিক্ষা পাওয়া যায়:

উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাব, বিশেষায়িত কোর্স, গবেষণা সুযোগ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছে। এতে গ্লোবাল মানের স্কিল তৈরি হয়।


২. চাকরির সুযোগ অনেক বেশি:

বিদেশি ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় দেশে–বিদেশে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।


৩. ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বে উন্নতি:

নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, নিজ দায়িত্বে থাকা সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব গুণ অনেক বাড়ে।


৪. আন্তর্জাতিক কানেকশন তৈরি:

বিভিন্ন দেশের বন্ধু, শিক্ষক ও রিসার্চারদের সাথে সম্পর্ক ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারকে আরও শক্তিশালী করে।



জনপ্রিয় বিদেশি শিক্ষাগন্তব্য

* যুক্তরাষ্ট্র

* কানাডা

* যুক্তরাজ্য

* অস্ট্রেলিয়া

* জাপান

* দক্ষিণ কোরিয়া

* জার্মানি

* নেদারল্যান্ডস

* সুইজারল্যান্ড

* তুরস্ক


স্কলারশিপের ধরন

১. Fully Funded Scholarship: এগুলোতে থাকে- 

✔ টিউশন ফি

✔ বাসস্থান

✔ খাবার

✔ মাসিক ভাতা

✔ বিমানের ভাড়া

✔ স্বাস্থ্যবিমা ফলে প্রায় কোনো ব্যক্তিগত খরচ ছাড়াই পড়াশোনা করা সম্ভব

২. Partial Scholarship: টিউশন ফি বা থাকার খরচের আংশিক সহায়তা করে।

৩. Merit-based Tuition Waiver: ভালো ফলাফল হলে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই ছাড় দেয়।


স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:

* ভালো GPA

* ইংরেজি দক্ষতা (IELTS/TOEFL/Duolingo)

* SOP বা Statement of Purpose

* ২–৩টি Recommendation Letters

* প্রফেশনাল Academic CV

* রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স (মাস্টার্স/পিএইচডি এর জন্য)

* কাজের অভিজ্ঞতা (Chevening/DAAD এর ক্ষেত্রে)


স্কলারশিপ পাওয়ার ধাপসমূহ:

1. দেশ ও কোর্স নির্বাচন

2. স্কলারশিপ অনুসন্ধান

3. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ

4. অনলাইন আবেদন (University Portal)

5. ইন্টারভিউ (কিছু স্কলারশিপে)

6. অফার লেটার পাওয়া

7. ভিসা আবেদন


বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্কলারশিপগুলোর বিস্তারিত তালিকা:

১. Chevening Scholarship (United Kingdom)

ধরন: Fully Funded

স্তর: মাস্টার্স (১ বছর)

সুবিধা:

* সম্পূর্ণ টিউশন ফি

* মাসিক ভাতা

* বিমান ভাড়া

* UK-তে থাকা ও যাতায়াত ব্যয়

যোগ্যতা:

* ভালো GPA

* কমপক্ষে ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা

ডেডলাইন: আগস্ট–নভেম্বর


২. Erasmus Mundus Scholarship (Europe):

ধরন: Fully Funded

স্তর: Joint Master’s

সুবিধা:

* সম্পূর্ণ টিউশন

* মাসিক ১১০০–১২০০ ইউরো

* একাধিক দেশে পড়াশোনার সুযোগ

ডেডলাইন: অক্টোবর–জানুয়ারি


৩. Fulbright Scholarship (United States):

ধরন: Fully Funded

স্তর: মাস্টার্স ও পিএইচডি

সুবিধা: 

* টিউশন ফি

* স্টাইপেন্ড

* স্বাস্থ্যবিমা

* বিমান ভাড়া

ডেডলাইন: এপ্রিল–অক্টোবর


৪. MEXT Scholarship (Japan)

ধরন: Fully Funded

স্তর: ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি

সুবিধা:

* পুরো ফ্রি পড়াশোনা

* ফ্রি বিমান টিকিট

* মাসিক স্কলারশিপ ভাতা

* ডরমিটরি

ডেডলাইন: এপ্রিল–জুন


৫. Global Korea Scholarship — GKS (South Korea)

ধরন: Fully Funded

স্তর: ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি

সুবিধা:

* টিউশন ফি ১০০%

* মাসিক ভাতা

* ১ বছরের ভাষা কোর্স

* বিমান ভাড়া

ডেডলাইন: ফেব্রুয়ারি–মার্চ


৬. DAAD Scholarship (Germany):

ধরন: Fully Funded

স্তর: মাস্টার্স / পিএইচডি

সুবিধা:

* টিউশন ফি ছাড়

* মাসিক স্টাইপেন্ড

* স্বাস্থ্যবিমা

* ভ্রমণ খরচ

ডেডলাইন: আগস্ট–অক্টোবর


7. Australia Awards Scholarship

ধরন: Fully Funded

স্তর: মাস্টার্স

সুবিধা:

* টিউশন

* বিমান ভাড়া

* মাসিক ভাতা

* Establishment allowance

ডেডলাইন: ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল


8. Turkiye Burslari Scholarship (Turkey):

ধরন: Fully Funded

স্তর: ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি

সুবিধা:

* টিউশন

* বাসস্থান

* মাসিক ভাতা

* টার্কিশ ভাষা কোর্স

ডেডলাইন: জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি


9. Chinese Government Scholarship — CSC (China):

ধরন: Fully Funded

স্তর: ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি

সুবিধা:

* ফ্রি টিউশন

* ডরমিটরি

* মাসিক ভাতা

ডেডলাইন: ডিসেম্বর–এপ্রিল


10. Holland Scholarship (Netherlands):

ধরন: Partial Funded

সুবিধা:

এককালীন ৫,০০০ ইউরো

ডেডলাইন: ফেব্রুয়ারি–মে


11. Swiss Government Excellence Scholarship (Switzerland):

ধরন: Fully Funded

স্তর: পিএইচডি / পোস্টডক

সুবিধা:

* সম্পূর্ণ স্টাইপেন্ড

* বাসস্থান সহায়তা

* স্বাস্থ্যবিমা

ডেডলাইন: সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর


12. Commonwealth Scholarship (UK):

ধরন: Fully Funded

স্তর: মাস্টার্স ও পিএইচডি

সুবিধা:

* টিউশন

* স্টাইপেন্ড

* ভ্রমণ ভাতা

ডেডলাইন: আগস্ট–অক্টোবর


সংক্ষেপে আরও কিছু জনপ্রিয় স্কলারশিপ

* Rhodes Scholarship

* Gates Cambridge Scholarship

* Knight-Hennessy (Stanford)

* Joint Japan/World Bank Scholarship

* Aga Khan Foundation Scholarship

* Brunei Darussalam Scholarship


উপসংহার: বিদেশে পড়াশোনা ও স্কলারশিপ অর্জন মোটেও অসম্ভব নয় যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা যায়। ভালো রেজাল্ট, ইংরেজি দক্ষতা, পরিষ্কার SOP এবং সময়মতো আবেদন এসব মিললে যেকোনো শিক্ষার্থী খুব সহজেই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে পারে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় প্রতিটি উন্নত দেশই মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায় এবং তাদের শিক্ষার পুরো খরচ বহন করে।

ভূমিকম্প কি? প্রভাব, করণীয় ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নির্দেশিকা

 ভূমিকম্প: প্রভাব, করণীয় ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নির্দেশিকা


ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ করে সঞ্চিত শক্তির মুক্তির কারণে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক কম্পন যা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এটি পৃথিবীর অন্যতম বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি, স্থাপনা, সেতু, রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দিতে পারে এবং বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই ভূমিকম্প সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রস্তুতি সকলের জন্য জরুরি।

ভূমিকম্প কি? প্রভাব, করণীয় ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি


ভূমিকম্প কি?

ভূমিকম্প (Earthquake) হলো পৃথিবীর ভূগর্ভে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পাওয়ার ফলে সৃষ্ট কম্পন। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ শক্ত প্লেট দিয়ে তৈরি, যেগুলো সবসময় ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। এই প্লেটগুলো যখন একে অপরের সাথে সংঘর্ষে আসে, সরে যায় বা ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে, তখন তাদের ভেতরে প্রচুর শক্তি জমা হয়। কোনো এক পর্যায়ে এটি আর ধরে রাখতে না পেরে হঠাৎ ফেটে যায় এবং কম্পনের সৃষ্টি হয় এটাই ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রকে বলা হয় হাইপোসেন্টার, আর ভূমি পৃষ্ঠে সেই কেন্দ্রের ঠিক উপরের স্থানকে বলা হয় এপিসেন্টার।


ভূমিকম্পের মাত্রা কিভাবে মাপা হয়?

✔ রিক্টার স্কেল (Magnitude)

এই স্কেলে ভূমিকম্পের শক্তি মাপা হয়।

3.0 – ছোট

5.0 – মাঝারি

7.0+ – বড় ও ধ্বংসাত্মক


✔মারকেলি স্কেল (Intensity)

মানুষ কতটা অনুভব করেছে সেটা মাপা হয়।



ভূমিকম্পের সময় কী হতে পারে?

* ভবন কাঁপতে থাকা

* দেয়ালে ফাটল

* জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া

* রাস্তা ফেটে যাওয়া

* গ্যাস লাইন লিক

* বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

* আতঙ্কে মানুষের হুড়োহুড়ি

এ সময় শান্ত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ভূমিকম্প হলে করণীয়

ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রাণ রক্ষা করতে পারে। নিচে ঘরে, বাইরে এবং গাড়িতে থাকা অবস্থায় করণীয় তুলে ধরা হলো-


যদি আপনি ঘরের ভেতরে থাকেন

✔ ১.Drop, Cover, Hold On পদ্ধতি অনুসরণ করুন

* মাটিতে বসে পড়ুন

* মজবুত টেবিল/ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন

* টেবিলের পা শক্ত করে ধরে থাকুন

✔ ২. দরজা বা জানালার কাছে যাবেন না, এগুলো থেকে কাচ ভেঙে আঘাত লাগতে পারে।

✔ ৩. লিফট ব্যবহার করবেন না, সবসময় সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

✔ ৪. রান্নাঘরে থাকলে চুলা বন্ধ করে বের হয়ে আসুন, গ্যাস লিক হয়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

✔ ৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকুন


যদি আপনি বাইরে থাকেন

* ভবন, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে যান

* খোলা মাঠে থাকলে সবচেয়ে নিরাপদ

* সেতুর নিচে বা ভবনের ছায়ায় দাঁড়াবেন না


যদি গাড়িতে থাকেন

* গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান

* সেতু, ফ্লাইওভার, বিল্ডিংয়ের নিচে নয়

* গাড়ির ভেতরেই থাকুন কম্পন থামা পর্যন্ত


ভূমিকম্পের আগে করণীয় (পূর্বপ্রস্তুতি)

ভূমিকম্প কখন হবে কেউ বলতে পারে না, তাই প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

✔ ১. জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন

ব্যাগে রাখুন- পানি, শুকনো খাবার, টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, ওষুধ, ফার্স্ট এইড, কাগজপত্রের কপি, নগদ টাকা।

✔২. ঘরের ভারী জিনিসপত্র সুরক্ষিতভাবে বসান

* আলমারি/শোকেস দেয়ালের সাথে স্ক্রু দিয়ে বেঁধে রাখুন

* গ্লাসের জিনিসপত্র নিচের তাকে রাখুন

✔৩. পরিবারকে ভূমিকম্প মহড়া শেখান

সন্তানদের Drop–Cover–Hold অনুশীলন করান।

✔৪. গ্যাস লাইন, ইলেকট্রিক লাইন নিয়মিত চেক করুন

✔৫. বের হওয়ার পথ আগে থেকে ঠিক করে রাখুন


ভূমিকম্পের পর করণীয় (পরবর্তী কার্যক্রম)

ভূমিকম্প থেমে গেলেও বিপদ কাটে না। পরবর্তী সময়ে সতর্ক থাকতে হবে।

✔১. ভবন চেক করুন- ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবনে প্রবেশ করবেন না।

✔২. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন চেক করুন, লিক বা শর্ট সার্কিট হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

✔৩. লিফট ব্যবহার করার পূর্বে চেক করুন , লিফট আটকে যেতে পারে।


✔৪. পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাহায্য করুন

বিশেষ করে

* শিশু

* বৃদ্ধ

* অসুস্থ

* প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা

✔৫. রেডিও বা মোবাইল দিয়ে খবর শুনুন, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

✔৬. আফটারশক বা পরাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন, ভূমিকম্পের পর আবারও ছোট বা বড় কম্পন হতে পারে।

✔৭. রক্তদান ও জরুরি সেবায় যুক্ত হোন (যদি সম্ভব হয়)


বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি

বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের কাছে অবস্থিত হওয়ার কারণে ঝুঁকি অনেক বেশি। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় অঞ্চল ১ম ও ২য় শ্রেণীর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে।

ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।


উপসংহার: ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিন্তু সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতি জীবন রক্ষা করতে পারে। ভূমিকম্পের সময় শান্ত থাকা, Drop Cover Hold পদ্ধতি অনুসরণ করা, পরিবারকে প্রস্তুত রাখা এবং পরবর্তীকালে নিরাপদ পদক্ষেপ নেওয়া এসবই আমাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। নিজের এবং সমাজের সুরক্ষার জন্য সবাইকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখতে হবে।

অনার্স, মাস্টার্স ও চাকরির ভাইভা প্রস্তুতি, পার্থক্য ও সফলতার কৌশল

 অনার্স, মাস্টার্স ও চাকরি ভাইভার প্রস্তুতি, পার্থক্য ও সফলতার কৌশলসমূহ


ভূমিকা:- ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ধাপ নয়, বরং এটি একজন প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রতিফলন। অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের ভাইভা যেমন একাডেমিক জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়, চাকরির ভাইভা তেমনি বাস্তব জীবনের দক্ষতা ও যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য নেওয়া হয়।

অনার্স, মাস্টার্স ও চাকরির ভাইভা প্রস্তুতি

আজ আমরা অনার্স-মাস্টার্স ও চাকরির ভাইভার মধ্যে পার্থক্য, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সাধারণ প্রশ্ন, এবং সফলতার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।


অনার্স ও মাস্টার্স ভাইভা:

অনার্স বা মাস্টার্স ভাইভা মূলত একাডেমিক মৌখিক পরীক্ষা, যা সাধারণত থিসিস, গবেষণা বা চূড়ান্ত পরীক্ষার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।

এতে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, গবেষণার বোঝাপড়া, বইপত্রে পারদর্শিতা এবং ব্যক্তিত্ব যাচাই করা হয়।


মূল উদ্দেশ্য:

১. বিষয়বস্তুর উপর শিক্ষার্থীর জ্ঞান যাচাই করা

২. বিশ্লেষণ ও যুক্তিবোধ পরীক্ষা করা

৩. গবেষণা বা থিসিসের বোঝাপড়া দেখা

৪. প্রকাশভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস মূল্যায়ন করা হয়।


অনার্স ও মাস্টার্স ভাইভার সাধারণ কাঠামো

১. নিজের পরিচয়:

নাম, বিভাগ, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যক্ষের নাম


২. বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন:

তোমার মেজর সাবজেক্ট থেকে মৌলিক প্রশ্ন করা হতে পারে অথবা তোমার কোন বিষয়টি সবচেয়ে ভালো পরীক্ষা দিয়েছো সে বিসয় হতে প্রশ্ন করা হতে পারে।


৩. বইয়ের নাম ও লেখক:

পরীক্ষক জানতে চাইতে পারে তোমার কোর্স বইগুলোর নাম বলো।


৪. শিক্ষকদের নাম বা অধ্যক্ষের নাম:

যেমন: “তোমাদের কলেজের অধ্যক্ষ কে?” বা “তোমার সুপারভাইজারের নাম কী?” “তোমার ডিপার্টমেন্ট/বিভাগীয় প্রধানের নাম কি”


৫. গবেষণা বা থিসিস সম্পর্কিত প্রশ্ন:

গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, ফলাফল ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে যেমন- অনার্স, মাস্টার্স এ টার্ম পেপার নামে একটি গবেষণা কর্ম আছে সেখান ্রেতকে প্রশ্ন করতে পারে।


অনার্স-মাস্টার্স ভাইভায় যে বিষয়গুলি জোর দেওয়া হয়-

  1. আত্মবিশ্বাস,
  2. পরিষ্কারভাবে চিন্তা প্রকাশ,
  3. কলেজের নাম, অধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকদের নাম মনে রাখতে হবে।
  4. নিজের পরিচয় সুন্দরভাবে অনুশীলন করতে হবে
  5. বইয়ের জ্ঞান নিজের ভাষায় উপস্থাপন করার দক্ষতার তৈরি করতে হবে।
  6. বিষয়ভিত্তিক বইগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। অতিসংক্ষিপ্ত বা এক কথায় উত্তর প্রশ্ন গুলি সুন্দরভাবে মুখস্ত করতে হবে।।
  7. থিসিস বা প্রজেক্ট ভালোভাবে জানো।


চাকরির ভাইভা:

চাকরির ভাইভা হলো প্রফেশনাল ইন্টারভিউ, যেখানে যাচাই করা হয়,

প্রার্থীর দক্ষতা,

আত্মপ্রকাশের যোগ্যতা,

কাজের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।

এখানে একাডেমিক তথ্য নয়, বরং প্র্যাকটিক্যাল ও পার্সোনাল স্কিল-এর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


চাকরির ভাইভার সাধারণ প্রশ্ন

১. নিজের সম্পর্কে বলুন।

২. কেন এই চাকরিটা করতে চান?

৩. আপনার শক্তি বা অভিজ্ঞতা কী?

৪. আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনি কী জানেন?

৫. আপনি চাপের মধ্যে কাজ করতে পারবেন কী?

৬. আগামী পাঁচ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

৭. একাডেমিক জ্ঞান আপনার কাজে কীভাবে সাহায্য করবে?


উত্তরের নিয়ম: সংক্ষিপ্ত, আত্মবিশ্বাসী ও বাস্তবসম্মত উত্তর দাও।


ভাইভার সময় আচরণ ও পোশাক পরিচ্ছদ

১. মার্জিত ও পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে।

২. বিনয়ী ও স্পষ্টভাষী হতে হবে।

৩. চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে।

৪. হাসিমুখে উত্তর দেবে।

৫. পরীক্ষকের প্রশ্নের দিকে মনোযোগ রাখবে।

৬. ফোন নিয়ে প্রবেশ করবে না যদি প্রবেশ করো তবে অবশ্যই সেটি বন্ধ রাখবে।



চাকরির ভাইভার জন্য প্রয়োজন:

নিজের CV মুখস্থ রাখো।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও কাজ সম্পর্কে জানো।

ইংরেজিতে পরিচয় দেওয়ার অনুশীলন করো।

চলতি বিষয় ও সাধারণ জ্ঞানে আপডেট থাকো।



অনার্স/মাস্টার্স ও চাকরির ভাইভার পার্থক্য

বিষয়                অনার্স/মাস্টার্স ভাইভা                         চাকরির ভাইভা

উদ্দেশ্য              : একাডেমিক জ্ঞান যাচাই                     দক্ষতা যাচাই

প্রশ্নের ধরন        : বিষয়ভিত্তিক ও বইকেন্দ্রিক               সাধারণ জ্ঞান, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস

তথ্য দরকার      : বই, শিক্ষক, কলেজ, থিসিস             প্রতিষ্ঠান, পদ, স্কিল ও অভিজ্ঞতা

পরীক্ষক            : শিক্ষক ও বোর্ড                             নিয়োগ কমিটি

ভাষা               একাডেমিক বাংলা/ইংরেজি                 পেশাগত ভদ্রভাষা

লক্ষ্য                 : শিক্ষাগত মূল্যায়ন                         কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন


সফলতার টিপস

  • সময়ানুবর্তী হও 
  • আত্মবিশ্বাসী থেকো
  • মুখস্থ উত্তর নয়, নিজের ভাষায় বলো
  • হাসিমুখে বোর্ডে প্রবেশ করো
  • ভুল হলে স্বীকার করো


উপসংহার: অনার্স-মাস্টার্স ভাইভা তোমার একাডেমিক অর্জনের প্রতিফলন, আর চাকরির ভাইভা তোমার পেশাগত জীবনের প্রথম ধাপ।

দুই ক্ষেত্রেই আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি ও উপস্থিত বুদ্ধিই সফলতার চাবিকাঠি।

মন দিয়ে প্রস্তুতি নাও, নিজের যোগ্যতাকে উপস্থাপন করো সফলতা তোমারই হবে।

বিসিএস (BCS) পরীক্ষা ধাপ, যোগ্যতা, আবেদন, প্রস্তুতি ও গাইডলাইন

বিসিএস (BCS) পরীক্ষা: ধাপ, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইডলাইন

উত্তর:- বাংলাদেশে সরকারি চাকরির মধ্যে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা হচ্ছে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, কিন্তু সফলতা পায় মাত্র কিছুজন। আপনি যদি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাহলে আপনাকে জানতে হবে বিসিএস সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাইডলাইন পরীক্ষার ধাপ, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, এবং সঠিক প্রস্তুতির কৌশল।

বিসিএস (BCS) পরীক্ষা ধাপ, যোগ্যতা, আবেদন, প্রস্তুতি ও গাইডলাইন

এই আর্টিকেলে আমরা বিসিএস সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর দিব এবং কিভাবে এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়া যায় সে বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।

বিসিএস (BCS) কী?

BCS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Bangladesh Civil Service। এটি বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ একটি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) আয়োজন করে। BCS ক্যাডারদের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিভিন্ন ক্যাডার যেমন: প্রশাসন ক্যাডার

পুলিশ ক্যাডার

শিক্ষা ক্যাডার

পররাষ্ট্র ক্যাডার

স্বাস্থ্য ক্যাডার

কাস্টমস, ট্যাক্সেশন ও অডিট ক্যাডার ইত্যাদি

বিসিএস পরীক্ষা কয়টি ধাপে হয়ে থাকে?

বিসিএস পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়

১. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (Preliminary Test)

পূর্ণ নম্বর: ২০০

প্রশ্ন সংখ্যা: ২০০টি (MCQ)

সময়: ২ ঘণ্টা

নেগেটিভ মার্কিং: প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫-০.৫ নম্বর কাটা হয়

বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন:

 বিষয় -নম্বর 

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ৩৫ 

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য -৩৫ 

বাংলাদেশ বিষয়াবলি - ৩০ 

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি -২০ 

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা - ১০ 

সাধারণ বিজ্ঞান - ১৫ 

কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ১৫ 

গাণিতিক যুক্তি -১৫ 

মানসিক দক্ষতা -১৫ 

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- ১০ 

২. লিখিত পরীক্ষা (Written Test)

পূর্ণ নম্বর: ক্যাডারভেদে ভিন্ন হয় (সাধারণত ৯০০ - ১১০০)

বিষয়ভিত্তিক নৈর্ব্যক্তিক, সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক প্রশ্ন

ইংরেজি ও বাংলা রচনা, প্যারাগ্রাফ, কম্প্রিহেনশন, রিপোর্ট রাইটিং ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ

৩. ভাইভা/ মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce)

পূর্ণ নম্বর: ২০০

একজন প্রার্থীকে তার ব্যক্তিত্ব, কমিউনিকেশন স্কিল, সাধারণ জ্ঞান, ক্যাডার চাহিদা ইত্যাদি ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা:

ন্যূনতম "স্নাতক (স্নাতক সম্মান বা স্নাতকোত্তর)" ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বা বিদেশি স্বীকৃত ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য

২. সিজিপিএ/ গ্রেড:

কোনো পরীক্ষায় ৩য় বিভাগ/শ্রেণি/গ্রেড থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় (বিভিন্ন সময় এই নীতিমালায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে)

৩. বয়সসীমা:

সাধারণ প্রার্থীদের জন্য: ২১-৩০ বছর বর্তমান ৩২ বছর।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীদের জন্য: ৩২ বছর পর্যন্ত

বয়স গণনা করা হয় বিজ্ঞপ্তির নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী

বিসিএস পরীক্ষায় কিভাবে আবেদন করবেন?

ধাপ ১: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

BPSC তাদের [সরকারি ওয়েবসাইট](bpsc.gov.bd) এ বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে

ধাপ ২: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ

আবেদন করতে হবে bpsc.teletalk.com.bd এই ওয়েবসাইটে

প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি (৩০০x৩০০ পিক্সেল), স্বাক্ষর (৩০০x৮০ পিক্সেল) আপলোড করতে হয়

ধাপ ৩: আবেদন ফি পরিশোধ: Teletalk এর মাধ্যমে নির্ধারিত ফি (সাধারণত ৭০০ টাকা) পরিশোধ করতে হয়

ধাপ ৪: প্রবেশপত্র ডাউনলোড: আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার আগে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যায়

বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন?

১. বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি:

বেসিক বইসমূহ: বাংলা: সাহিত্যের জন্য সুধীশামস, বাংলা ব্যাকরণ – নবম-দশম শ্রেণির বই

ইংরেজি: Wren & Martin, High School English Grammar

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: দৈনিক পত্রিকা (প্রথম আলো, The Daily Star), কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসের বই

গণিত ও মানসিক দক্ষতা: আর.এস Aggarwal, নতুন বিসিএস প্রস্তুতি বই

নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন

নেগেটিভ মার্কিং মাথায় রেখে প্র্যাকটিস করুন

২.লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি:

রচনামূলক প্রশ্নের জন্য অনুশীলন অপরিহার্য

প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক ব্যাখ্যামূলক উত্তর তৈরি করুন

বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ান

৩. ভাইভার প্রস্তুতি:

১. দৈনিক সংবাদ বিশ্লেষণ করুন

২. পছন্দের ক্যাডার সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখুন

 ৩. আত্মবিশ্বাস এবং সম্মানজনক মনোভাব ধরে রাখুন

বিসিএস পরীক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

১. একটি রুটিন তৈরি করুন: সময় ভাগ করে প্রতিদিন পড়াশোনা করুন

২. গ্রুপ স্টাডি করুন: বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে পড়া আরও কার্যকর হয়

৩. মডেল টেস্ট দিন: অনলাইনে কিংবা অফলাইনে

৪. কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স আপডেট রাখুন: প্রতিদিন সংবাদপত্র ও সরকারি ওয়েবসাইট ফলো করুন

৫. পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা রাখুন: দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি ধরে রাখাই সফলতার মূল চাবিকাঠি

উপসংহার: বিসিএস একটি দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও মনোবল থাকলে এই পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব। প্রতিটি ধাপে ধৈর্য, নিয়মিত চর্চা এবং সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রস্তুতি।

আপনি যদি সত্যিই বিসিএস ক্যাডার হতে চান, তাহলে আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন আর আপনার লক্ষ্যে পৌঁছান দোয়া ও শুভকামনা রইল আপনার জন্য। 

আপনি কি বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছেন? নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না! আর এই গাইডটি যদি উপকারী মনে হয়, তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করুন

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কী? খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণসমূহ আলোচনা

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংজ্ঞা এবং কারণসমূহ আলাচনা

ভূমিকা:- বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা (Food Insecurity) একটি মারাত্মক সামাজিক ও মানবিক সংকট। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে এই সমস্যার ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। খাদ্যের অভাব শুধু পেটের ক্ষুধা নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মক্ষমতা এবং সামগ্রিক জীবনমানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কী? খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ

এই ব্লগ পোস্টে আমরা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংজ্ঞা, প্রধান কারণ এবং এর প্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করব।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংজ্ঞা

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মানে এমন এক অবস্থা, যেখানে মানুষ যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিয়মিতভাবে পাচ্ছে না। এটি সাময়িক হতে পারে (যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর), আবার দীর্ঘমেয়াদীও হতে পারে (যেমন চরম দারিদ্র্য বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে)। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা শুধু খালি পেট নয়, বরং অপুষ্টি, রোগপ্রবণতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা সৃষ্টি করে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিভিন্ন কারণসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. দারিদ্র্য:

দারিদ্র্য হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বড় কারণ। দরিদ্র জনগোষ্ঠী বাজারে খাদ্যদ্রব্যের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে তারা প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।

২. দুর্ভিক্ষ:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, খরা, সাইক্লোন প্রভৃতি ক্ষেত্রবিশেষে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করে। ফলে ঘটে খাদ্যের সংকট, যা দুর্ভিক্ষের জন্ম দেয় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে খাদ্যহীন করে তোলে।

৩. অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি:

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি খাদ্য চাহিদা বাড়িয়ে তোলে। কৃষিজমি হ্রাস পাওয়া ও খাদ্য উৎপাদনের সীমাবদ্ধতার ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য থাকে না।

৪. পারিবারিক অবস্থান:

নারী-পুরুষ বৈষম্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, এবং পরিবারের আয়ের উৎসের অস্থিরতা অনেক সময় পরিবারের খাদ্য প্রাপ্তি নির্ভর করে। দরিদ্র পরিবারে শিশু ও নারীরা প্রায়শই অপুষ্টির শিকার হয়।

৫. শিল্পায়ন ও নগরায়ন:

অতিরিক্ত শিল্পায়ন ও নগরায়ন কৃষিজমিকে নষ্ট করছে। জমির ব্যবহার কৃষি থেকে শিল্পে চলে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। একইসাথে, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

৬. খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা:

অনেক সময় দেশে খাদ্য উৎপাদন ভালো হলেও যথাযথ সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় তা নষ্ট হয়। দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থার কারণে খাদ্য সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে পৌঁছায় না।

৭. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ:

রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়, বিশেষ করে শরণার্থী বা যুদ্ধাক্রান্ত অঞ্চলে।

৮. কৃষিতে প্রযুক্তির অভাব:

প্রযুক্তির ঘাটতির কারণে অনেক কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারে না। এতে উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।

উপসংহার: খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা শুধুমাত্র একটি মানবিক সংকট নয়, এটি একটি জাতীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার সমাধানে দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও একযোগে কাজ করতে হবে। সবার জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না গেলে, টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।

গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত শব্দের পূর্ণরুপ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইংরেজি সংক্ষিপ্ত শব্দের পূর্ণরুপ:-

গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি সংক্ষিপ্ত শব্দের পূর্ণরুপ


J.D.C — Junior Dakhil Certificate.

A.M — Ante meridiem.

P.M — Post meridiem.

B.B.S — Bachelor of Business Studies.

B.S.S — Bachelor of Social Science.

M.B.A —full meaning - Masters of Business Administration.

B.Sc. — Bachelor of Science.

M.Sc. — Master of Science.

M.Sc.Ag.— Master of Science in Agriculture.

M.D. —Managing director.

M.S. –— Master of Surgery.

D.Sc. – Doctor of Science.

B.C.O.M –Bachelor of Commerce.

M.C.O.M – Master of Commerce.

B.ed – Bachelor of education.

M.P. – Member of Parliament.

M.L.A. — Member of Legislative Assembly.

M.L.C – Member of Legislative Council.

P.M. – Prime Minister/Production Manager.

V.P – Vice President./ Vice Principal.

V.C- Vice Chancellor.

D.C- District Commissioner/ Deputy Commissioner.

S.P- Police Super.

S.I— Sub Inspector Police

GPA –– Grade Point Average

Dr. – এর পূর্নরূপ — Doctor.

Mr. – Mister.

Mrs. – Mistress.

Miss – used before unmarried girls.

১। Wi-Fi র পূর্ণরূপ — Wireless Fidelity.

২। HTTP- Hyper Text Transfer Protocol.

৩। HTTPS -full meaning - Hyper Text Transfer Protocol Secure.

৪। URL পূর্ণরূপ — Uniform Resource Locator.

৫। IP পূর্ণরূপ— Internet Protocol

৬। VIRUS পূর্ণরূপ — Vital Information Resourc Under Seized.

৭। SIM পূর্ণরূপ — Subscriber Identity Module.

৮। 3G পূর্ণরূপ — 3rd Generation.

৯। GSM পূর্ণরূপ — Gram Square Meter.

১০। CDMA পূর্ণরূপ — Code Divison Multiple Access.

১১। UMTS ✔️ Universal Mobile Telecommunication System.

১২। RTS পূর্ণরূপ — Real Time Streaming

১৩। AVI পূর্ণরূপ — Audio Video Interleave

১৪। SIS = Symbian OS Installer File

১৫। AMR পূর্ণরূপ — Adaptive Multi-Rate Codec

১৬। JAD পূর্ণরূপ — Java Application Descriptor

১৭। JAR পূর্ণরূপ — Java Archive

১৮। MP3 পূর্ণরূপ — MPEG player

১৯। 3GPP = 3rd Generation Partnership Project

২০। 3GP পূর্ণরূপ — 3rd Generation Project

২১। MP4 পূর্ণরূপ — MPEG-4 video file

২২। AAC পূর্ণরূপ — Advanced Audio Coding

২৩। GIF — Graphic Interchangeable Format

২৪। BMP — Bitmap

২৫। JPEG - Joint Photographic Expert Group

২৬। SWF — Shock Wave Flash

২৭। WMV — Windows Media Video

২৮। WMA — Windows Media Audio

২৯। WAV — Waveform Audio

৩০। PNG — Portable Network Graphics

৩১। DOC — Document (Microsoft Corporation)

৩২। PDF — Portable Document Format

৩৩। M3G — Mobile 3D Graphics

৩৪। M4A — MPEG-4 Audio File

৩৫। NTH — Nokia Theme(series 40)

৩৬। THM — Themes (Sony Ericsson)

৩৭। VAT পূর্নরূপ — Value Added Tex (মুল্য সংযোজন কর)

৩৮। NRT — Nokia Ringtone

৩৯। XMF — Extensible Music File

৪০। WBMP - Wireless Bitmap Image

৪১। DVX — DivX Video

৪২। HTML — Hyper Text Markup Language

৪৩। WML— Wireless Markup Language

৪৪। CD — Compact Disk.

৪৫। DVD — Digital Versatile Disk.

৪৬। CRT — Cathode Ray Tube.

৪৭। DAT — Digital Audio Tape.

৪৮। DOS — Disk Operating System.

৪৯। GUI — Graphical User Interface.

৫০। ISP — Internet Service Provider.

৫১। TCP — Transmission ControlProtocol.

৫২। UPS — Uninterruptible Power Supply.

৫৩। AM = Ante Meridiem

৫৪। PM পূর্ণরূপ – Post Meridiem

৫৫। VHF — Very High Frequency.

৫৬। UHF — Ultra High Frequency.

৫৭। GPRS — General Packet Radio Service.

৫৮। WAP — Wireless Application Protocol.

৫৯। DJ-পূর্নরূপ — Disc jockey.

৬০। IBM — International Business Machines.

৬১। HP — Hewlett Packard.

৬২। AM/FM — Amplitude/ Frequency Modulation.

৬৩। WLAN — Wireless Local Area Network

৬৪। USB — Universal Serial Bus.

৬৫। HD — High Definition

৬৬। APK — Android application package.

৬৭। BBA — Bachelor of Business Administration

৬৮। SSC — Secondary School Certificate

৬৯। HSC — Higher Secondary Certificate

৭০। JSC — Junior School Certificate 

৭১। BCS — Bangladesh Civil Service

৭২। NCTB — National Curriculam & Text Book

৭৩। DPE = Directorate of Primary Education

৭৪। BA পূর্ণরূপ — Bachelor of Arts

✔️LLB পূর্ণরূপ — Bachelor Of Law

✔️Mbps পুর্নরূপ — Megabytes Per Second(MBps)

✔️VIP পূর্ণরূপ — Very Important Person

✔️PHD পূর্ণরূপ — Doctor of Philosophy

✔️UNICEF — United Nations Children’s Fund

✔️OK পূর্ণরূপ — All Correct

✔️GMT পূর্ণরূপ — Greenwich Mean Time

✔️MA পূর্ণরূপ — MASTER OF ARTS

✔️ FBC পূর্ণরূপ — Federal bureau corporation

✔️fb পূর্ণরূপ — Foreign body/ Facebook

✔️ABC পূর্ণরূপ — Alphabetically Based Computerized

✔️ DDR পূর্ণরূপ — Double data rate

✔️ VAT – পূর্নরূপ — Value Added Tax (মুল্য সংযোজন কর)

✔️ IP- পূর্নরূপ- Internet Protocol

✔️WWW পূর্ণরূপ — World Wide Web.

✔️XY পূর্ণরূপ — Male Chromosome

✔️XXY পূর্ণরূপ — Klinefelter Syndrome chromosomes

✔️A-Level পূর্নরূপ — Advanced Level

BL পূর্নরূপ—Bachelor Of Law

LLB পূর্ণরূপ—Bachelor Of Law

BTV পূর্নরূপ — Bangladesh Television

LP পূর্নরূপ — Long Playing

PIN পূর্নরূপ — Pin Index Number

KG পূর্নরূপ — KiloGram / Kindergarten

PSC পূর্ণরূপ — Primary School Certificate.

JDC পূর্ণরূপ — Junior Dakhil Certificate

RAM পূর্ণরূপ — Random Access Memory

ROM পূর্ণরূপ — Read Only Memory 

OTG পূর্নরূপ — On The Go.