Posts

Showing posts from July, 2025

রেনেসাঁর কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর

Image
রেনেসাঁ: কারণ ও ফলাফল এবং মানব সভ্যতার জাগরণের সূচনা ভূমিকা:- রেনেসাঁ  ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় যুগান্তকারী পরিবর্তনের নাম। এটি শুধু ইউরোপীয় সমাজ নয়, সমগ্র মানব সভ্যতার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। রেনেসাঁ শব্দের অর্থ "পুনর্জাগরণ", যার মাধ্যমে মধ্যযুগের ধর্মান্ধতা ও গোঁড়ামি থেকে মানুষ মুক্ত হয়ে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানের চর্চা ও মানবতাবাদের দিকে ধাবিত হয়। এই ব্লগে আমরা আলোচনা করবো রেনেসাঁর কারণ ও ফলাফল, যা আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। রেনেসাঁর কারণসমূহ: এই জাগরণ কেন ও কীভাবে ঘটেছিল? রেনেসাঁর পেছনে কোনো একক কারণ ছিল না। এটি ছিল বহু সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সম্মিলিত ফল। নিচে রেনেসাঁ বিস্তারের প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো: ১. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার: মধ্যযুগের শেষে ইউরোপে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বাড়ে। ইতালির ফ্লোরেন্স, ভেনিস, জেনোয়া শহরগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এই ব্যবসা-বাণিজ্যের ফলে মানুষ নতুন চিন্তা, সংস্কৃতি ও তথ্যের সংস্পর্শে আসে। ২. মুসলিম বিশ্বের অবদান: মুসলিম পণ্ডিতেরা প্রাচীন গ্রিক ও রোমান জ্ঞানকে সংরক্ষণ ও উন্নত করেন। চিকি...

পরিবেশের উপর নব প্রযুক্তির প্রভাব আলোচনা কর

Image
পরিবেশের উপর নব প্রযুক্তির প্রভাব: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ ভূমিকা:- বর্তমান বিশ্বের অগ্রগতির পেছনে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো নব্য প্রযুক্তি (Modern Technology)। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন মানবজীবনকে সহজতর করেছে, তেমনি পরিবেশের ওপর এর রয়েছে গভীর প্রভাব। এই প্রভাব কখনো ইতিবাচক, কখনো নেতিবাচক। আমাদের পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রযুক্তির সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।  নব প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব ১. কৃষির আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে: নব প্রযুক্তি কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, ড্রোন, স্মার্ট সেন্সর, এবং স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। এতে কীটনাশক ও পানি ব্যবহারে দক্ষতা এসেছে, যা পরিবেশদূষণ হ্রাসে ভূমিকা রাখে। অপরদিকে স্যাটেলাইট চিত্র ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৃষকরা ফসলের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারছেন। ২. চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে: নব প্রযুক্তির ব্যবহারে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষও চিকিৎসা পাচ্ছেন, ফলে যাতায়াত কমে পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ কম হচ্ছে। নব্য প্রযুক্তির ফলে বায়োডিগ্রেডেবল ও পরিবেশবান...

আন্তর্জাতিক স্থানান্তর গমনের কারণ ও ফলাফল আলোচনা

Image
আন্তর্জাতিক স্থানান্তর: গমনের কারণ ও ফলাফল ভূমিকা:- বর্তমান বৈশ্বিকায়নের যুগে আন্তর্জাতিক স্থানান্তর একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। মানুষ বিভিন্ন কারণে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস, কাজ বা শিক্ষা গ্রহণের জন্য স্থানান্তর হচ্ছে। এই প্রবণতাকে অভিবাসন বা আন্তর্জাতিক স্থানান্তর বলা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণসমূহ আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের পেছনে রয়েছে একাধিক সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পারিবারিক কারণ। নিচে এই গমনের প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো: ১. উন্নত চাকরির সুযোগ বহু মানুষ উন্নত দেশের বেশি বেতনের চাকরি, চাকরির নিরাপত্তা এবং কর্ম-পরিবেশের জন্য দেশ ত্যাগ করে। ২. বৈদেশিক মুদ্রা আয় (রেমিট্যান্স) বিদেশে কাজ করে যে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানো হয়, তা পারিবারিক আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৩. উচ্চ শিক্ষা: অনেক শিক্ষার্থী উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে গমন করে। ৪. উন্নত প্রশিক্ষণ: বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের জন্যও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক মানুষ স্থানান্তর ...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা

Image
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা ভূমিকা:- বাংলাদেশের রাজনীতি নারীদের উপস্থিতির অভাবে এখনও পুরুষতান্ত্রিক ধাঁচে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও সংবিধান নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে নারীদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবুও কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো স্বপ্নের মতো। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা এখনো দৃশ্যমান। নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ১। রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব: নারীদের অনেকেই রাজনৈতিক অধিকার এবং সুযোগ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার নারীদের মধ্যে এই সচেতনতার ঘাটতি বেশি। ফলে রাজনীতি সম্পর্কে আগ্রহ ও অংশগ্রহণের অভাব পরিলক্ষিত হয়। ২। সামাজিক কারণ: বাংলাদেশে এখনো নারীদের মূল ভূমিকা হিসেবে দেখা হয় গৃহস্থালির কাজ এবং সন্তান পালন। সমাজ নারীদের রাজনীতি বা নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। নারী যদি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চায়, তাকে নানা সামাজিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ৩। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা: আমাদের সমাজ এখনও পুরুষতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় পরিচ...

বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিমালা পর্যালোচনা কর

Image
বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিমালা: একটি পর্যালোচনা ভূমিকা: নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হলো একটি সুসংগঠিত নারী উন্নয়ন নীতিমালা। সমাজে প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্য দূর করে নারীকে সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে যে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে, তা-ই নারী উন্নয়ন নীতিমালা নামে পরিচিত। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ সালকে জাতিসংঘ “নারী দশক” হিসেবে ঘোষণা করার পর বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে গতি আসে। পরবর্তীতে ১৯৯৭, ২০০৮ ও ২০১১ সালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নারী উন্নয়ন নীতিমালা গৃহীত হয়। ১৯৯৭ সালের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা: ১৯৯৭ সালের নীতিমালা ছিল বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের পথচলার প্রথম দিকের একটি মাইলফলক। এতে নারীর জীবনমান উন্নয়নে নিচের দিকগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছিল: ১।  নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করা ২। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ ৩। নারীর মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন ৪। নারীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ৫।  সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকার স্বীকৃতি ৬। প্রশাসন, শিক্ষা, রাজনীতি, ক্রীড়া সহ সব ...

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনজিও-র অবদান আলোচনা কর

Image
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনজিও-র অবদান: এক নিরব বিপ্লব ভূমিকা:- বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, যেখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচিত হয়ে আসছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও (NGO) এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এইসব এনজিও শুধু জনসচেতনতা বৃদ্ধি নয়, বরং চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা, পরামর্শ ও আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির বিস্তারে একটি নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনজিও-র অবদান পরিবার পরিকল্পনা সমিতি: ১৯৫৩ সালের ২ মার্চ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপিকা ডা. হুমায়রা এবং কিছু সমাজসেবী নারী মিলে ‘পরিবার পরিকল্পনা সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটিই ছিল বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা আন্দোলনের সূচনা। প্রধান কার্যক্রমসমূহ: ১। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম: সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন গর্ভনিরোধক পদ্ধতি প্রয়োগে সহায়তা করে। বর্তমানে ৬০ টির বেশি কল্যাণকেন্দ্র স্থাপন হয়েছে। ২। মেডিকেল কার্যক্রম: প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান। ৩। শহরকেন্দ্রিক ক্লিনিক স্থাপন: নগরজীবনে সহজলভ্য চিকিৎসা সেবা। ৪।...

বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির ব্যর্থতার কারণ আলোচনা কর

Image
বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির ব্যর্থতা: একটি সমালোচনামূলক মূল্যায়ন ভূমিকা: বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার একসময় ছিল আশঙ্কাজনক। এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকার ১৯৭০-এর দশক থেকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি চালু করে। প্রথম দিকে এটি কিছুটা সফলতা অর্জন করলেও সামগ্রিকভাবে কর্মসূচিটি নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে উন্নয়ন ঘটলেও পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম তেমন অগ্রগতি পায়নি। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির ব্যর্থতার কারণ নিচে বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো। চিকিৎসকদের অপেশাদার আচরণ: পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত সেবাদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে অনেকের আচরণ ও মনোভাব পেশাদারসুলভ নয়। তারা গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের সঙ্গে প্রায়ই উপেক্ষামূলক বা অবহেলাজনক আচরণ করে থাকেন। কখনো কখনো রোগীর বক্তব্য না শুনে ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা না দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। এই অপেশাদার মনোভাব অনেক নারীকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির প্রতি বিমুখ করে তোলে। পদ্ধতিগত সমস্যা: পরিবার পরিকল্পন...

বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ আলোচনা

Image
বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ  ভূমিকা:- বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অতিমাত্রায় বেশি হওয়ায় নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা জনসংখ্যা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ প্রতিটি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে পরিচালনা না করতে পারলে ভবিষ্যতে এটি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই জনসংখ্যা সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। বংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ ১। কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন: দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে হলে কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানও উন্নত হবে, ফলে তারা শহরমুখী হবে না, যা জনসংখ্যা ঘনত্ব হ্রাসে সহায়ক। ২। কৃষিবহির্ভূত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কেবল কৃষির উপর নির্ভর করে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই কৃষিবহির্ভূত খাতে যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সেবামূলক পেশা ইত্যাদিতে কর্মসংস্থান সৃ...

স্থানান্তর গমন কী? স্থানান্তর গমনের প্রকারভেদ আলোচনা

Image
স্থানান্তর গমনের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ আলোচনা ভূমিকা:- মানুষ অসীম চাহিদা ও আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আদিকাল ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে চলেছে। বাংলাদেশের মানুষও আজ দেশ হতে দেশ দেশান্তরে ছুটে চলেছে। আর জনশক্তির স্থানান্তর গমন প্রবণতা বাংলাদেশের জনসংকট হিসেবেই দেখা দিয়েছে। স্থানান্তর গমনের সংজ্ঞা স্থানান্তর শব্দের সাধারণ অর্থ হলো– এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন। এটি ব্যক্তি, বস্তু, গোষ্ঠী বা জনগণের অবস্থানগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে, স্থানের পরিবর্তনকেই স্থানান্তর বলা হয়। বিশেষভাবে বলা যায় যে স্থায়ী বা অস্থায়ী বা সাময়িকভাবে বসবাসের উদ্দেশ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন স্থানান্তর গমন বলে। এই স্থানান্তর হতে পারে: স্বেচ্ছায় বা বাধ্যতামূলকভাবে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে বা আন্তর্জাতিক পরিসরে। স্থানান্তর গমন প্রকারভেদ সমূহ ১. অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর (Internal Migration/Transfer): এটি একটি দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরই অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর। উদাহরণ: একজন ব্যক্তি গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা। কারণ হতে পারে: চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিয়ে ইত্যাদ...

সমাজবিজ্ঞান কী? সমাজবিজ্ঞান এর উৎপত্তি ও ইতিহাস এবং পাঠের প্রয়োজনীয়তা

Image
সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা, উৎপত্তি ও ইতিহাস আলোচনা ভূমিকা:- সমাজকে জানার বিজ্ঞানের পথ মানুষ জন্মগতভাবে সামাজিক জীব। একাকী নয়, বরং সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করাই তার স্বাভাবিক প্রবণতা। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ নানা রকম সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এসব সমস্যাকে বিশ্লেষণ করে, সমাজের গঠন ও কার্যপ্রণালী বোঝার প্রয়াস থেকেই জন্ম নিয়েছে একটি নতুন জ্ঞানশাখা সমাজবিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা সমাজবিজ্ঞান হলো এমন ১টি বিজ্ঞান, যা মানবসমাজে বসবাসরত সকল মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক কাঠামো ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে আলোচনা করে। সহজভাবে বললে, সমাজবিজ্ঞান সেই শাস্ত্র, যা সমাজবদ্ধ মানুষের জীবন ও তাদের পারস্পরিক কার্যকলাপ নিয়ে অধ্যয়ন করে। এই শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের গঠন, পরিবর্তন, সমস্যা এবং মানব আচরণের পেছনে থাকা কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা। সমাজবিজ্ঞান ব্যক্তি নয়, বরং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মাঝে গড়ে ওঠা সামাজিক সম্পর্কগুলোকেই গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করে। ইতিহাস ও পরিভাষা: সমাজবিজ্ঞান শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte)। তিনি ১৮৩৮ সালে প্রথম Sociology শব্দটি ব্...

রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ কী? উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক আধুনিকীকরণের সমস্যাসমূহ আলোচনা কর।

Image
রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ কী? উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক আধুনিকীকরণের সমস্যাসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের আলোচিত প্রত্যয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ। রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ এমন একটি বিষয় যার অন্যতম লক্ষ্য হলো আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কেননা রাজনীতি এখন আর একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবর্তনশীল বিশ্বের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতির সাথে মিল রেখে রাজনীতির আধুনিকীকরণ জরুরি। রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ সাধারণভাবে রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ হলো প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করে আধুনিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা। আধুনিকীকরণ বলতে বোঝায় জীবন সম্পর্কে যুক্তিভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক সম্পর্কের ব্যাপারে ধর্ম নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারি বিষয়াদির ক্ষেত্রে ন্যায়বোধ এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনকেই রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ বলা হয়। প্রামাণ্য সংজ্ঞা রবার্ট ই ওয়ার্ড বলেন-“ রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ হচ্ছে একটি আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবেশের জন্য একটি আধুনিক সমাজের অস্তিত্ব প্রয়োজন।” রবার্ট এ কার্ন বলেন- “রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিকাশ সাধন করাকে বোঝায় যেটার উপর আর...

জেন্ডার কি? জেন্ডার ও লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য লিখ

Image
জেন্ডার কি? জেন্ডার ও লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য ভূমিকা: লিঙ্গ বা জেন্ডার সমাজবিজ্ঞানের আলোচনায় একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। এখন পর্যন্ত Gender শব্দের সঠিক কোনো ভাষা উদ্ভাবিত হয়নি। জেন্ডার বলতে নারী-পুরুষ সবাইকে বোঝাই। জেন্ডারের সংজ্ঞা আভিধানিক বা সনাতন অর্থ অনুযায়ী জেন্ডার শব্দের অর্থ হলো লিঙ্গ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জেন্ডার শব্দটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জেন্ডার বলতে নারী পুরষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কে বোঝায়। জেন্ডার শব্দটি সর্বপ্রথম মনোবিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছিলেন। উন্নয়ন কর্মকান্ড আলোচনায় সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, নারীবিদ ও পণ্ডিতগণ জেন্ডার কে লিঙ্গ থেকে আলাদা বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে জেন্ডার ও নারী বিষয়ক গবেষণা গন Gender ব্যবহার করে থাকেন নারী পুরুষের সামাজিক সম্পর্ক বোঝাতে।  জেন্ডারের প্রামাণ্য সংজ্ঞা বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে জেন্ডারের সংখ্যা প্রদান করেছেন নিম্নে কয়েকটি সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো।  Dr. Schaefer এর মতে "জেন্ডার হলো প্রত্যাশা যা পুরুষ ও মহিলাদের যথাযথ আচরণ, মনোভাব এবং কর্মীদের রেকর্ড করে। J.W. Sc...

সামাজিক গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অসুবিধাসমূহ

Image
সামাজিক গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অসুবিধাসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সামাজিক গবেষণা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা সমাজের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সত্য ও বাস্তবতা উদঘাটনের চেষ্টা করে। এই গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ একদিকে গবেষণাকে কাঠামোবদ্ধ করলেও, অন্যদিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে সমাজের পরিবর্তনশীলতা, মূল্যবোধ, ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য গবেষণাকে জটিল করে তোলে। নিচে আলোচনা করা হলো সামাজিক গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল অসুবিধাসমূহ সমাজ গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা বা অসুবিধাসমূহ ১. দক্ষ গবেষকের অভাব: সামাজিক গবেষণার জন্য দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং নিরপেক্ষ গবেষক প্রয়োজন হয়। তবে বাস্তবে দেখা যায় যে, অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গবেষকের অভাব থাকে, যা গবেষণার গুণমানকে প্রভাবিত করে। ২. উপাত্ত সংগ্রহে সমস্যা: সামাজিক গবেষণায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উপাত্ত সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় উত্তরদাতারা সঠিক তথ্য দিতে অনিচ্ছুক থাকেন বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, ফলে গবেষণার ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ৩. মূল্যবোধ নিরপেক্ষতার অভাব: গবেষণায় গবেষকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বা সামাজিক মূল্যবোধ...

কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সুবিধা গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাসমূহ লিখ

Image
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সুবিধা, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ভূমিকা:- রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়; বরং নাগরিকের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং মানবিক জীবন যাপনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই বিস্তৃত দায়িত্ব পালনের ধারণা থেকেই ‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ (Welfare State) ধারণার জন্ম। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকারের প্রধান কর্তব্য হলো নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদান করা। আধুনিক বিশ্বে এই ধারণাটি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ উন্নয়নের কাঠামো তৈরি করতে এবং দারিদ্র্য কমাতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বাস্তবায়নের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিসীম। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সুবিধাসমূহ ১. সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তার জা...

সামাজিক গবেষণার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর

Image
সামাজিক গবেষণার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য আলোচনা ভূমিকা:- সামাজিক গবেষণা হলো সমাজ জীবনকে জানা ও ব্যাখ্যা করার সুসংহত পদ্ধতি। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, সামাজিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন, আচার-আচরণ, মূল্যবোধ পরিবর্তনের ফলে বর্তমান সমাজ এক জটিল ও দূরূহ অবস্থা রূপ লাভ করেছে। প্রত্যেক সমাজ বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলায় ব্যস্ত। তবে সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম সমাজের উন্নয়নের চাবিকাঠি।আর এসব ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অনুসন্ধান লাভ করা যায় গবেষণার মাধ্যমে। তাছাড়া সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে জানতে সামাজিক গবেষণা পরিচালিত হয়।সামাজিক বিষয়ে জ্ঞান ভানৃডারকে সুসংহত ও সমৃদ্ধি করতে যেমন গবেষণা দরকার তেমনি সমাজ জীবনে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানেও অধিকতর উন্নত অবস্থায় সমাজবাসীর উত্তরণেও গবেষণার প্রয়োজন হয়। বর্তমান জটিল সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক গবেষণার তাৎপর্য রয়েছে। সামাজিক গবেষণার প্রকৃতি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (Objective and aims of social research) বস্তুত সামাজিক গবেষণার অসংখ্য উদ্দেশ্য থাকেযার মধ্যে তাত্ত্বিক সমস্যার সমাধান,  বাস্তব সমস্যার সমা...

সমাজবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞান ব্যাখ্যা কর। সমাজবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

Image
সমাজবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞান ব্যাখ্যা কর ভূমিকা:- মাজবিজ্ঞান সমাজের গঠন কাঠামো ও মানুষের জীবনধারা, সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দেয়। আসলে সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞান কিনা এ বিষয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। কোনো বিষয় বিজ্ঞান হিসেবে স্বৃকীতি লাভ করতে হলে তার মধ্য কতক গুলো বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। আজ আমরা জানবো আসলেই সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞান কি না সে বিষয়ে। সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞান কিনা সমাজবিজ্ঞান কি? সমাজবিজ্ঞানকে কেন বিজ্ঞান বলা হয় সে বিষয় জানতে হলে আগে আমাদের সমাজবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে হবে। সমাজবিজ্ঞান যে শাস্ত্র সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ প্রত্যয় ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা করে তাকেই সমাজবিজ্ঞান বলে। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে জ্ঞানের এমন একটি শাখা যা সমাজ ও মানবিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞান ভৌত বিশ্বের যা কিছু  পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তার সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞান ভান্ডারের নামই বিজ্ঞান। আবার কোন বিষয় সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে অর্জিত বিশেষ জ্ঞানই হলো বিজ্ঞান। যেহেতু বিজ্ঞান হলো কোন বিষয় সম্পর্কে পরীক্ষা নির...

সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর

Image
সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ভূমিকা:- সামাজিক গবেষণা হলো সমাজ জীবনকে জানার ও ব্যাখ্যা করার সুসংহত পদ্ধতি। সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে জানতে সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সামাজিক বিষয়ক জ্ঞান ভান্ডার কে সুসংহত ও সমৃদ্ধ করার জন্য যেমন গবেষণা দরকার তেমনি সমাজ জীবনে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবেলা ও অধিকতর উন্নত অবস্থায় সমাজবাসীর উত্তরণেও গবেষণার প্রয়োজন হয়। এরূপ অবস্থার প্রেক্ষিতে সামাজিক কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত হতে বিশেষ জ্ঞান দক্ষতা অর্জন করা আবশ্যক। গবেষণা একটি বুদ্ধিবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন সমস্যাকে অনুধাবন বা শনাক্ত করা হয়। এ গবেষণার উল্লেখযোগ্য দিক হলো সামাজিক গবেষণা। সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব  প্রয়োজনীয়তা সমাজ পরিবর্তনশীল। আর এই পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ নানা রকম জটিল সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। এসব জটিল সামাজিক সমস্যার সমাধানে সামাজিক গবেষণার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিম্নে সংক্ষেপে সামাজিক গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো  ১। সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান সামাজিক গবেষণার মাধ্...

চাপসৃষ্টকারী গোষ্ঠী কারা। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যাবলি আলোচনা কর

Image
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা এবং কার্যাবলিসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- বর্তমানে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী একটি আলোচিত বিষয়। বর্তমান রাজনৈতিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী অত্যন্ত প্রভাবশালী অঙ্গ হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে বুঝায় বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত এমন এক গোষ্ঠীকে যাদের কতিপয় সাধারণ স্বার্থ রয়েছে এবং রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা প্রভাবিত করে সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হয়। প্রামাণ্য সংজ্ঞা বিভিন্ন মনীষী বিভিন্নভাবে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর দু্ইটি সংজ্ঞা দেওয়া হলো- ডেভিড ট্রুম্যানের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো বহু ব্যক্তির সমষ্টি যা এক বা একাধিক অংশিদারী মনোভাব নিয়ে গঠিত। সিগলারের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক সংঘবদ্ধ সমষ্টি যা তার সদস্যবর্গকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি পদে আসীন করার চেষ্ঠা করে, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্ঠা করে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে বোঝায় এমন এক সুসংগঠিত জনগোষ্ঠী যা স...

কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব? কাঠামোগত ক্রিয়াবাদের যৌক্তিক বিশ্লেষণ

Image
কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ ভূমিকা:- বর্তমান বিশ্বে মানুষের আচার-ব্যবহার, এবং মূল্যবোধের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের ধারার সাথে কাঠামোগত ক্রিয়াপদ ও পরিবর্তিত হচ্ছে। কারণ, সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সমাজকাঠামো ও পরিবর্তনশীল। আধুনিক সমাজ ও রাজনীতিতে যে সব তত্ত্ব বিশেষ হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব। সমাজবিজ্ঞানে এ তত্ত্বটি ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে থাকে। সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃ-বিজ্ঞান বিবর্তনবাদীদের পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্রিয়াবাদ মতবাদটি বিকাশ লাভ করে। কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব (structuralism verb theory): ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোন কার্য, কোন কাঠামো দ্বারা সম্পাদিত হয় তার ভিত্তিতেই রাজনীতির তুলনামূলক ব্যাখ্যা করাই হচ্ছে কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্বের মূল বিষয়। অর্থাৎ সমাজের সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে যে ক্রিয়াবাদ আলোকপাত করে তাকেই কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব বলে। মূলত এ কাঠামোগত ক্রিয়াবাদ তত্ত্বের তাত্তিকগণ কোন রাজনৈতিক অবস্থানকে দুটি আলাদা উপায়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পায়। প্রথম পর্যায়ে সরকার বা সর্বভৌম রাষ্ট্র হিস...

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মৌলিক উপাদানসমূহ আলোচনা কর

Image
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মৈলিক উপাদান বা ধারণাসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- বিজ্ঞান হচ্ছে একটি নিয়ম-নিষ্ঠ জ্ঞানের সমষ্টি। বিজ্ঞান একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তাই সাধারণ মানুষ সকল বিষয় জানতে আগ্রহী আর বিজ্ঞান বিশেষ বিষয় জানাতে আগ্রহী। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নিয়মতান্ত্রিক এবং সূত্র বাধ্য। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান লাভের জন্য বিশেষ পদ্ধতি ও বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।  বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যুক্তি হলো প্রধান বিষয় এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় জ্ঞানের ব্যাপ্তি প্রতিনিয়তই সম্প্রসারিত হচ্ছে।  তবে শুধুমাত্র জ্ঞান আহরণই বিজ্ঞানের শেষ কথা নয়। বিজ্ঞান এক দিকে জ্ঞান আহরণ করে অন্যদিকে আহরিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে চাই।  বিশ্ব চরাচরে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে।এ সকল ঘটনা আমাদের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে আবার কত  গুলো পারেনা। যে সকল ঘটনা আমাদের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে সেগুলি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চাই। এই জানার ক্ষেত্রে তথা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। কোন ঘটনা বা ঘটনাবলী প্রেক্ষিত অব...