-->

জেন্ডার কি? জেন্ডার ও লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য লিখ

জেন্ডার কি? জেন্ডার ও লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য

ভূমিকা: লিঙ্গ বা জেন্ডার সমাজবিজ্ঞানের আলোচনায় একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। এখন পর্যন্ত Gender শব্দের সঠিক কোনো ভাষা উদ্ভাবিত হয়নি। জেন্ডার বলতে নারী-পুরুষ সবাইকে বোঝাই।

জেন্ডার কি? জেন্ডার ও লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য

জেন্ডারের সংজ্ঞা

আভিধানিক বা সনাতন অর্থ অনুযায়ী জেন্ডার শব্দের অর্থ হলো লিঙ্গ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জেন্ডার শব্দটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জেন্ডার বলতে নারী পুরষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কে বোঝায়। জেন্ডার শব্দটি সর্বপ্রথম মনোবিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছিলেন। উন্নয়ন কর্মকান্ড আলোচনায় সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, নারীবিদ ও পণ্ডিতগণ জেন্ডার কে লিঙ্গ থেকে আলাদা বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে জেন্ডার ও নারী বিষয়ক গবেষণা গন Gender ব্যবহার করে থাকেন নারী পুরুষের সামাজিক সম্পর্ক বোঝাতে। 

জেন্ডারের প্রামাণ্য সংজ্ঞা

বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে জেন্ডারের সংখ্যা প্রদান করেছেন নিম্নে কয়েকটি সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো। 

Dr. Schaefer এর মতে "জেন্ডার হলো প্রত্যাশা যা পুরুষ ও মহিলাদের যথাযথ আচরণ, মনোভাব এবং কর্মীদের রেকর্ড করে।

J.W. Scoot এর মতে Gender is constituted element of social relationship.

জাফর আহমেদ চৌধুরী তার Gender Mainstreaming in Health গ্রন্থে বলেন "লিঙ্গ শব্দটি পুরুষ ও মহিলা উভয়ের সাথে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং সুযোগগুলিকে বোঝায়।"

উপসংহার: উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, জেন্ডার হলো নারী পুরুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক নির্ধারণের একটি সামাজিক বিধি। জেন্ডার হলো নারী পুরুষের উপর আরোপিত সামাজিক পরিচয়ের বাহন। এটা অর্জিত সমাজে ঠিক করে নারী পুরুষের জেন্ডার ভূমিকা। 

জেন্ডার ও লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য 

লিঙ্গ বলতে বোঝায় এক প্রকার শারীরিক চিহ্ন যা নারী-পুরুষ কে ভিন্ন করে। অর্থাৎ কেউ হয় নারী কেউ হয় পুরুষ। অন্যদিকে জেন্ডার বলতে বুঝায় নারী পুরুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ককে। জেন্ডার বলতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। নিম্নে লিঙ্গ ও জেন্ডারের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য তুলে ধরা হলো। 

১। সাধারণত সমাজবিজ্ঞানীগণ লিঙ্গ বলতে বুঝেন সব ব্যবচ্ছেদবিদ্যা ও শারীরবিদ্যার পার্থক্যকে। অন্যদিকে জেন্ডার তুলনামূলকভাবে নারী পুরুষের মধ্যে শরীরবৃত্তীয় বিদ্যা যা সামাজিক ও কৃষ্টিগত বিস্তার পার্থক্যকে বোঝায়। 

২। লিঙ্গ ও জেন্ডার পার্থক্য মৌলিক, এদের মধ্যে জৈবিক পার্থক্য নেই।

৩। লিঙ্গ বলতে দৈহিক বৈশিষ্ট্যকে বোঝায় জেন্ডার বলতে সামাজিকভাবে অর্জিত আচরণসমূহকে বোঝায়।

৪। জেন্ডার সামাজিক ভূমিকা পালনকারী হিসেবে অপরিবর্তনীয় । লিঙ্গ প্রকৃতি প্রদত্ত হিসেবে অপরিবর্তনীয়। 

৫। লিঙ্গ নারী পুরুষের অঙ্গকে প্রদর্শন করে। জেন্ডার সমাজ নির্ধারন করে সামাজিকীকরনের মাধ্যমে। 

 ৬। লিঙ্গের ভিত্তি হলো জৈবিক কর্মকান্ডে আর জেন্ডারের ভিত্তি হলো সামাজিক নিয়মনীতি ও সামাজিকীকরনের মাধ্যমে। 

৭। লিঙ্গ সৃষ্টি করেছে স্রষ্টা আর জেন্ডার সৃষ্টি হয়েছে সমাজের সামাজিকীকরনের ফলে। 

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, লিঙ্গ বলতে সামাজিকভাবে শিক্ষিত আচরণ পদ্ধতিকে বোঝাই। লিঙ্গ ও জেন্ডার বিভাগ এক নয়। লিঙ্গ শরীর স্থান বিষয়ক বিদ্যার পার্থক্য যা নারী-পুরুষকে আলাদা করে। সমাজ নারী পুরুষের যে ভূমিকা নির্ধারণ করে দেই তাই জেন্ডার।

নবীনতর পূর্বতন