Posts

Showing posts from March, 2025

আচরণবাদ কী? আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মানদন্ড বা বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ?

Image
আচরণবাদ কী? আচরণবাদের বৈশিষ্ট্য বা মানদন্ডসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে প্রতিটি শাখার একটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা তাদের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে সহায়ক হয়। বিশেষভাবে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানে, আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি একটি বিশেষ গুরুত্ব রাখে। এটি ১৯০৮ সালে ইংরেজ সমাজবিজ্ঞানী গ্রাহাম ওয়ালস এবং আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী আর্থার বেন্টলি দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ঐতিহ্যবাহী তাত্ত্বিক এবং আইনি বিশ্লেষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং রাজনীতি বিশ্লেষণের জন্য নতুন পদ্ধতির ওপর জোর দেয়। আচরণবাদ বা আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আচরণবাদ বা আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি হল এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা রাজনীতি, রাষ্ট্র এবং জনগণের আচরণকে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে। ১৯০৮ সালে গ্রাহাম ওয়ালসের *"Human Nature is Politics"* এবং আর্থার বেন্টলির *"The Process of Government: A Study of Social Pressure"* গ্রন্থ দুটি এই দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মতে, রাষ্ট্র ও সরকারের কাজ শুধু আইন এবং প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আচরণের উপ...

বন্যা কি? বন্যার ফলাফল বা ক্ষতিসমূহ লিখ

Image
বন্যা কি? বন্যার ক্ষতিসমূহ আলোচনা কর ভূমিকা:- বর্তমানে প্রাকৃতিক দূর্যোগ হিসেবে যে নামটি সবচেয়ে বেশি শোনা যায় তা হলো বন্যা।বন্যা প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছরই বন্যা সংঘঠিত হয়ে থাকে।তবে এর মাত্রা প্রতিবছর সমান হয় না কোন বছর বেশি বা কোন বছর কম হয়। বন্যার ফলে ঘরবাড়ি নষ্ট সহ পশু-পাখি, প্রাণীর ও জীবন বিপন্ন হয়। বন্যার সংজ্ঞা বন্যা এমন একটি জিনিস যেটির অর্থ এটায় যে খাল-বিল, নদী-নালার পানি যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে জনপদে ঢুকে পড়ে জনজীবনে ক্ষতি সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, নদী-নালার পানি যখন স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে বেশি থাকে তখন তাকে বন্যা বলে। বন্যা হলো একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বন্যা হল পানির অত্যধিক প্রবাহ যা সাধারণত শুষ্ক জমিকে নিমজ্জিত করে। অর্থাৎ বন্যা হলো এমন একটি পানি প্রবাহ যা স্বাভাবিক অবস্থায় প্লাবনমুক্ত ভূমিকে প্লাবিত করে। "প্রবাহিত পানি" অর্থে শব্দটি জোয়ারের প্রবাহের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। বন্যার ফলাফল বা বন্যার ফলে সৃষ্ট ক্ষতিসমূহ বন্যার ফলাফল: নিম্নে বন্যার ফলাফল বা ক্ষতি আলোচনা করা হলো- ১। বন্যার ফলে বিভিন্ন জীব বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন...

অপরাধ কী? অপরাধের কারণসমূহ লেখ

Image
অপরাধ কি? অপরাধের কারণসমূহ আলোচনা কর ভূমিকা:- আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে করে দিয়েছে অনেক সহজতর। এর সাথে সাথে আমাদেরকেও দিয়েছে নানা ধরনের জটিল সমস্যা। এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো অপরাধ প্রবণতা। মানুষের অবাঞ্ছিত আচরণই অপরাধ। বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলিতে অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যা নগরের জনগণকে অতিষ্ঠ করছে। অপরাধের সংজ্ঞা অপরাধ হলো এমন এক ধরনের সমাজবিরোধী আচরণ বা কাজ যা জনসাধারণের স্বাভাবিক অনুভূতির বিরুদ্ধে কাজ করে ও দেশের আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়ে থাকে। সমাজবিজ্ঞানী স্টেফেন এর মতে ''অপরাধ হলো সেই সকল কাজ যা করা বা না করর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।'' অধ্যাপক এফ আর খানের মতে ''যেসব আচরণ সমাজ ও নৈতিকতা বিরোধী তাকে অপরাধ বলে।'' স্টিফেন বলেছেন অপরাধ হলো সেই সব কাজ বা আচরণ না করা যার জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।'' Readcliffe Brown এর মতে ''যে প্রচলিত রীতিনীতি ভঙ্গ করলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে তাই অপরাধ।'' পরিশেষে বলা যায় যে সকল কাজ সমাজের চোখে অন্যায় এবং আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য সে সকল কাজই অপরাধ। অপরাধের কারণসমূহ:-...

কিশোর অপরাধ কি? কিশোর অপরাধের প্রকৃতি আলোচনা কর

Image
কিশোর অপরাধ কি? কিশোর অপরাধের প্রকৃতি আলোচনা ভূমিকা:- কিশোর অপরাধের প্রবণতা সাম্প্রতিককালে একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। উন্নত দেশগুলিতে এ সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিল্পায়ন ও শহরায়নের সাথে সাথে কিশোর অপরাধ প্রবণতা ও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোর অপরাধ অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলেমেয়েদের অবাঞ্ছিত কার্যকালাপই হলো কিশোর অপরাধ। অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংঘটিত দেশের আইন ও সমাজবিরোধী এবং সমাজের রীতিনীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি কার্যকলাপই কিশোর অপরাধ। সমাজবিজ্ঞানী বিসলার এর মতে ''কিশোর অপরাধ প্রচলিত সামাজিক নিয়মকানুনের উপর অল্প বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের অবৈধ হস্তক্ষেপ।'' বার্টের মতে-''কোনো ছেলে মেয়েকে তখনই অপরাধী মনে করতে হবে যখন তার অসামাজিক কাজের জন্য আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন পড়ে।'' কিশোর অপরাধের প্রকৃতি কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত এ. ভি. জন এর মতে-''কিশোর অপরাধী হচ্ছে নির্দিষ্ট বয়ঃসীমার মধ্যে দেমের প্রচলিত আইন ভঙ্গকারী ও সামাজিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী যাকে চারিত্রিক সংশোধনের জন্য কোন বিশেষ কর্তৃপক্ষ বা বিচারের সম্মুখে হাজির করা হয়।'' কিশোর অপরাধ...

মাদকাসক্তি কি? মাদকাসক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ

Image
মাদকাসক্তির সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- মাদকাসক্তি পৃথিবীর জন্য ভয়ংকর সামাজিক সমস্যা। এর প্রভাবে ব্যক্তি থেকে শুরু করে দেশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।মাদকদ্রব্য বন্ধ করতে না পারলে একসময়ে সমাজব্যবস্তা অচল হয়ে পড়বে।বিশ্ব আজ মাদকাসক্তির ক্রমবিস্তারে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য জাতিসংঘ ১৬ই জুন কে আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। মাদকাসক্তির সংজ্ঞা মাদকাসক্তির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Drug Addiction। Drug বলতে বুঝায় কোন রাসায়নিক দ্রব্যকে আর Addiction বলতে আসক্তিকে। সুতরাং বলা যায় জীবদেহে রাসায়নিক দ্রব্য গ্রহণে আসক্ত হওয়াকে মাদকাসক্তি বলে। মাদকাসক্তি এক প্রকার আত্মবিনাশকারী নেশা।এর প্রভাবে ব্যক্তির আচার-আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেই।প্রথম দিকে সেবনকারী দেহ ও মনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেই। প্রামাণ্য সংজ্ঞা বিশ্ব সংস্থার মতে, ''মাদকাসক্তি হলো মানসিক বা শারীরিক প্রতিক্রয়া, যা জীবিত প্রাণী ও মাদকের মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ার উল্লেখ যোগ্য লক্ষণ গুলো হচ্ছে মাদকদ্রব্যটি কমবেশি নিয়মিত গ্রহণের দুর্দমনীয় ইচ্ছা,...

সম্পত্তি কী? সম্পত্তির বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

Image
সম্পত্তির সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- বেঁচে থাকা মানুষের চিরন্তর প্রত্যাশা। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেছে।আদিমকালে মানুষ যখন বনে জঙ্গলে, গুহায় বসবাস করতো তখন থেকেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে তাদের আমরণ সংগ্রাম করতে হয়েছে। জীবনধারনের জন্য সম্পত্তির গুরুত্ব অপরিসীম। কোন কিছুর উপর ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিরঙ্কুশ মালিকানা বা অধিকারকে সম্পত্তি বলে। সম্পত্তির সংজ্ঞা সাধারণ অর্থে সম্পত্তি হলো কোন বস্তু সম্পদের ওপর ব্যক্তির সমাজস্বীকৃত চূড়ান্ত মালিকানা। অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও উপযোগসম্বলিত মালিকানাধীন কোন বস্তুকে সম্পত্তি বলা যেতে পারে। প্রামাণ্য সংজ্ঞা বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবীদ সম্পত্তিকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন তাদের কয়েবটি সংজ্ঞা নিম্নরুপ- কিংসলে ডেভিস (K. Davis) তার গ্রন্থে বলেন- “সম্পত্তি সীমাবদ্ধ কোন কিছুতে মানুষের অধিকার এবং আইনগত বৈধতা ব্যতীত আর কিছুই নয়।” জন লক এর মতে- “মানুষ নিজ দেহের শ্রম এবং কাজের দ্বারা যে সকল প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করে তাই ব্যক্তির সম্পত্তি।” এল. টি. হবহাউস (L. T. Hobhouse) এর মতে- “সম্পত্তি এমন একটি প্রত্যয়কে ধারণ করে, যা বস্তু...

একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ

Image
একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যসমূহ ভূমিকা:- মানুষ সমাজে বসবাস করে তার নিজের চাহিদা পূরণ করার জন্য। আর প্রতিটি সমাজ পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ নেতার প্রয়োজন পড়ে। নেতা ছাড়া কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। সমাজ ও সংগঠনের অগ্রগতির একটি বিশেষ অঙ্গ হলো নেতৃত্ব। কারণ যোগ্য নেতৃত্ব সমাজ পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সমাজ তথা একটি আদর্শ রাষ্ট্রে সব ধরনের কর্ম সম্পাদনের জন্য একজন আদর্শ নেতার কোন বিকল্প নেই। কারণ প্রতিটি দেশই কোন না কোন একজন আদর্শ নেতার নির্দেশে পরিচালিত হয়। মানব সমাজের পরিবর্তন শুধু নেতার কারণেই হয়। কারণ নেতা যদি ভালো হয় তবে গোটা সমাজ ও দেশের উন্নয়ন হয় আর নেতা যদি না ভালো হয় তবে সে সমাজ বা দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যাতে করে জনজীবন হয়ে উঠে দূর্বিসহ। মানুষ সবসময় চায় একজন ভালো আদর্শ নেতার সংস্পর্শে থাকতে। কারণ একজন আদর্শ নেতার কাজ হলো জনগণের ভালো পরামর্শ প্রদান করা এবং তাদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করা। একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য: একজন আদর্শ নেতা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি ও কল্যাণের জন্য অমূল্য অবদান রাখতে সক্ষম হন। তাকে নানা গুণাবলির অধিকারী হতে হয়, যা তাকে ...

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর

Image
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ভূমিকা:- রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান হলো মূলত একটি মিশ্র প্রকৃতির বিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সমন্বয়ে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান গঠিত। এই দুই বিজ্ঞানের মধ্যে চলমান সংযোগ সম্পর্কের ফলে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের আবির্ভাব হয়েছে। বিশ শতাব্দির পূর্ব থেকেই মানুষের জ্ঞান চর্চার অগ্রগতির ফলে সমাজবিজ্ঞানের শাখা সমূহ পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই শাখাগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়। আর এই শাখাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের আবির্ভাব মূলত আধুনিককালে। যদিও এর আবির্ভাব আধুনিককালে তারপরও এর বিকাশ এখনও বর্তমান। বর্তমানে বিশ্বের গতিশীল রাজনীতিতে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের নতুন নতুন ধারা সংযোজিত হচ্ছে যার ফলে মানুষের নিকট রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা বর্তমান বিশ্বের গতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হিসেবে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমান রাজনৈতিক পেক্ষাপট জানার জন্য ও সমাজের কাঠামোগুলোর সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ইত্যাদি কারণে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান...

রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর

Image
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা ভূমিকা:- রাষ্ট্র, সমাজ ও সামাজিক কার্যাবলি নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান। মানব সমাজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে মানুষ সহজে রাষ্ট্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। আধুনিক যুগে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব অনেক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি সুবিন্যাস্ত ও ক্রিয়াশীল সামাজিক বিজ্ঞান। নিম্নে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১। সুনাগরিকতার জ্ঞান অর্জন রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো একটি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।রাষ্ট্রবিজ্ঞান নাগরিকের সামগ্রিক দিক সম্পর্কে আলোচনা করে থাকে। রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক জ্ঞান ছাড়া নাগরিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ অসম্ভব। ফলে সুনাগরিকতার জ্ঞান অর্জন সহজ হয়। যার কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ২। সচেতনতা বৃদ্ধি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলোচনার মাধ্যমে মানুষ রাষ্ট্রীয় জীবনের অনেক কিছু জানতে পারে। জন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা ও রাজন...

সমাজতন্ত্র কী? সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

Image
সমাজতন্ত্র কী? সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সমাজতন্ত্র সমাজব্যবস্থা অনেকটা সাম্যবাদী নীতির অনুরূপ সমাজতন্ত্র নীতি হলো গণতন্ত্রে স্বপক্ষে নীতি। সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞা সমাজতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের যন্ত্র উপাদান সম্পদ সবকিছু রাষ্ট্রে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে সম্পদ সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে দেবে। সম্পদের কোনো ব্যক্তি মালিকানা থাকবে না। থাকবে না কোন শ্রেণি বৈষম্য। প্রামাণ্য সংজ্ঞা সমাজতন্ত্র বিষয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন নিম্নে কয়েকজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর দেওয়া সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো- লেনিন এর মতে- “সমাজতান্ত্রিক সমাজ বলতে বোঝায় সেই সমাজ যেখানে পুজিপতিদের সাহায্য ছাড়াই কার্য নির্বাহ হয়। শ্রমজীবীদের সবচেয়ে অগ্রগামী অংশ যেখানে সর্বস্ব কিছুর হিসাব রাখে, নিয়ন্ত্রণ রাখে ও তদারক করে।” এঙ্গেলস বলেছেন যে, সমাজতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে যে প্রয়োজনের রাজ্য থেকে স্বাধীনতার রাজ্যে মানুষের উত্তরণ।” সমাজতন্ত্র হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণগুলো সমাজের হাতে অর্পিত থাকে। সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা...

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার গুরুত্ব আলোচনা কর

Image
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার গুরুত্ব আলোচনা কর ভূমিকা:- নারী শিক্ষা ব্যতীত সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেগম রোকেয়া নারীকে একটি গাড়ির চাকার সাথে তুলনা করেছেন। একটি গাড়ি একটি চাকা ছাড়া যেমন সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না তেমনি একটি জাতি নারী শিক্ষা ছাড়া উন্নতি করতে পারে না। তাই তো নেপোলিয়ান বলেছেন- আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও; আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব। বাংলাদেশে নারী শিক্ষার গুরুত্ব: সামগ্রিক জাতির কল্যাণের জন্য নারী শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। নিম্নে নারী শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো। ১। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রভাব একজন সুশিক্ষিত মা পারে তার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে। নিজ আদর্শে গড়ে তুলতে পারেন। কারণ ছেলে মেয়েদের উপর মায়ের প্রভাবই বেশি পড়ে। ছোটবেলা থেকেই সন্তান মায়ের কাছ থেকে তারা আচার আচরণ, আদব-কায়দা ইত্যাদি শিখে থাকে। শিক্ষা বিস্তারে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ২। স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীনকালে নারীরা সবকিছুর জন্য তাদের স্বামীর উপর নির্ভরশীল ছিল। তারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত। গৃহের মধ্যই তাদের কার্যাদি সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্...

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী? লোকপদ্ধতি তত্ত্বের বৈশিষ্ট্যগুলো লিখ

Image
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী? লোকপদ্ধতি তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য ভূমিকা:- প্রকৃতি সম্পর্কে জানার কৌতূহল মানুষের যেমন সেই আদিকাল থেকেই তেমনি মানব সমাজ সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও অতি পুরাতন। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীরা প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য কতিপয় পদ্ধতি ও কলা কৌশল উদ্ভাবন করেন। এসব পদ্ধতিকে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ নামে অভিহিত করা হয়। প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এর এসব পরীক্ষণ নিরীক্ষণের পদ্ধতি ক্রমশ সামাজিক বিজ্ঞানেও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর সাথে সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অনেক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান বিধায় সামাজিক বিজ্ঞানীরা তাদের নিজস্ব কৌশলাদি আবিষ্কার করেন। সামাজিক বিজ্ঞানীরা তাদের সমস্যার রূপ, ধরন, ব্যাপকতা ইত্যাদি বিবেচনা করে নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এসব আবিষ্কৃত পদ্ধতিসমূহ কখনো সামাজিক ক্রিয়াকলাপের বৈশিষ্ট্য অনুধাবনের জন্য কখনও সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য কখনও সামাজিক পরিবর্তনের রূপ ও ধরণ প্রত্যক্ষ করার জন্য ব্যবহার করে থাকেন। মূলত এভাবেই সামাজিক বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সংজ্ঞা: সাধারণভাবে বলা যায় বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানসিদ্ধ উপায়ই হলো বৈজ্ঞানি...

গ্রামীণ সমাজ কাকে বলে? গ্রামীণ সমাজের প্রকারভেদ

Image
গ্রামীণ সমাজ কাকে বলে ও প্রকারভেদ আলোচনা ভূমিকা:- ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ আর এই কৃষি প্রধান দেশের ঐতিহ্যগত জনপদ গ্রামীণ জনপদ। এখানকার মোট জনসমষ্টির প্রায় ৮০ ভাগ মানুষই গ্রামে বসবাস করে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১.৩% সরাসরি কৃষির উপর নির্ভরশীল। মোট দেশজ উৎপাদনের ৪৫ ভাগ আসে কৃষি খাত হতে। এটি বাংলাদেশের সমাজকাঠামোর ঐতিহ্যগত পরিচয়। গ্রামীণ সমাজের সংজ্ঞা সাধারণ অর্থে গ্রামীণ সমাজ বলতে এমন এক জনপদকে বোঝায় যেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশ কৃষক এবং কৃষি কাজকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবন জীবিকা আবর্তিত হয়। গ্রামীণ আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, লাঙল-জোয়ালসহ কৃষকের মাঠে কাজের দৃশ্য, ফসলের মাঠ, সন্ধ্যায় তিমির অন্ধকার, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, নিরব নিস্তবতা ইত্যাদি হচ্ছে গ্রামীণ সমাজের দৈনন্দিন চিত্র। নিভৃত পল্লী কিংবা গ্রাম সমাজের আর্থসামাজিক চিত্রে যে সামাজিক ব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় তাই গ্রামীণ সমাজ। গ্রামীণ সমাজের সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে গ্রামীণ সমাজের পরিবার কাঠামো যৌথ পরিবার কেন্দ্রিক। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ পরিবার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্ধিত একক পরিবার স্বামী-স্ত্রী...

সামাজিক গতিশীলতা কী? বাংলাদেশের সামাজিক গতিশীলতার প্রকৃতি ও স্বরূপ আলোচনা কর

Image
সামাজিক গতিশীলতার সংজ্ঞা? বাংলাদেশের সামাজিক গতিশীলতার প্রকৃতি ও স্বরূপ আলোচনা ভূমিকা:- মানুষ সামাজিক জীব সমাজে বসবাস করা হলো মানুষের ধর্ম। কারণ মানুষ সবসময় সমাজে বসবাস করতে চায় নিজের চাহিদা পূরণ করার জন্য। আর সমাজ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। কারণ, সমাজের সকল কার্যক্রমের অংশ সামাজিক গতিশীলতা। যা প্রাচীন কাল থেকে এক চিরন্তন গতিতে চলে আসছে। সমাজ মানুষের অশ্রয়ের প্রধান জায়গা যেখানে মানুষ তার ইচ্ছামতো বা খুশিমতো কাজ সম্পাদন করতে পারে কিছু সামাজিক নিয়মনীতি বজায় রেখে। তাই সমাজের সকল নাগরিকের মাঝে পরিবর্তনের একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায়। সামাজিক গতিশীলতার সংজ্ঞা: সামাজিক গতিশীলতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Social Mobility আর Social Mobility means movemnet of status.সামাজিক গতিশীলতার মধ্যে দিয়ে প্রতিটি মানুষ তার সক্ষমতা অনুসারে Status পরিবর্তনের জন্য কাজ করে। আমাদের দেশে গ্রাম থেকে শহরে সকল জায়গায় মানুষ সামাজিক গতিশীলতার জন্য কাজ করছে। যা সামাজিক পরিবর্তনকে আরো গতিশীল করতে সাহায্য করছে। মূলত সামাজিক গতিশীলতা হলো মানুষের মর্যাদা পরিবর্তনের একটি পদ্ধতি যা সাজের সকল মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ...

সংস্কৃতি কি? জ্ঞাতি সম্পর্ক কী? what is culture and kingship?

Image
সংস্কৃতি ও জ্ঞাতি সম্পর্ক সংজ্ঞা ভূমিকা:- সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের সামাজিক পরিচিতি। যেকোন সমাজে বিদ্যমান সামগ্রিক আচার-আচরণ, শিক্ষাদীক্ষা, রীতিনীতি, বিচার বুদ্ধি, আস্থা, বিশ্বাস, শিল্পকলা ইত্যাদি সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত রূপই হলো সংস্কৃতি। সামাজিক জীবনবোধ হতে সৃষ্ট প্রত্যয়টি হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতির সংজ্ঞা: সংস্কৃতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture। যা এসেছে ল্যাটিন শব্দ Colere থেকে যার অর্থ হলো কর্ষণ করা। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, সংস্কৃতি হলো কর্ষণের দ্বারা প্রাপ্ত বিষয়।অর্থাৎ ব্যুৎপত্তিগত দৃষ্টিকোণ হতে সংস্কৃতি হলো সংস্কারের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিষয়।সাধারণভাবে সংস্কৃতি বলতে একটি জাতির আচার-আচরণ মূল্যবোধ, খাওয়া, পরা, কথা বলা চলাফেরা, ভাষার ব্যবহার ইত্যাদির আবেগীয় বা মানসিক অবস্থাকে বুঝায়। অন্যভাবে বলা যায়, সংস্কৃতি হলো চিন্তার ক্রিয়াশীল এবং সৌন্দর্য ও মানবিক অনুভূতিতে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। প্রামাণ্য সংজ্ঞা সংস্কৃতি বিষয়ে যেসকল মনীষী মতামত প্রদান করেছেন তা নিম্নরুপ দেওয়া হল- নৃবিজ্ঞানী টেইলরের মতে- ''সংস্কৃতি এমন এক জটিল সত্তা যার ভেতরে রয়েছে জ্ঞান, আস্থা, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ আইন, প্...

ব্যবস্থা তত্ত্ব কি? ব্যবস্থা তত্ত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

Image
ব্যবস্থা তত্ত্ব কি? ব্যবস্থা তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য লিখ ভূমিকা:- সমাজ রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দিতে বিভিন্ন ধরনের চিন্তা চেতনার উদ্ভব ঘটে। সামাজিক পেক্ষাপটকে বিশ্লেষণ করেই এসব তত্ত্বের উদ্ভাবনকে গ্রহণ করা হয়। ব্যবস্থা তত্ত্ব এমন একটি তত্ত্ব যা সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণে সক্ষম একটি তাত্ত্বিক দৃষ্টভঙ্গি। যদিও অনেক আগে ব্যবস্থা তত্ত্বের উদ্ভব হয় তথাপি এর বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় বিংশ  শতকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ পরবর্তীসময়ে সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষণে এ তত্ত্ব ছিল বিশেষভাবে উপযোগী একটি তত্ত্ব। বর্তমান সময়েও রাজনীতির বিশ্লেষণে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ডেভিড ইস্টান ১৯৫৩ সালে The political system  গ্রন্থে এ তত্ত্বটি প্রয়োগ করে। সামগ্রিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে সামনে রেখে এ তত্ত্বের উদ্ভব ঘটানো হয়। তাই সমাজ ও রাজনীতি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে এই ব্যবস্থা তত্ত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যবস্থা তত্ত্ব (System Theory): সাধানণত কোনো একটি বিষয়কে সামাজিকভাবে পর্যালোচনা করার জন্য যে তত্ত্ব ব্যবহৃত হয় তাকেই ব্যবস্থা তত্ত্ব বলে। এটি একটি স...

সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব কী? ট্যালকট পারসন্সের প্যাটার্ন ভেরিয়েবল সংজ্ঞা ও প্রকারভেদসমূহ

Image
সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব? পারসন্সের প্যাটার্ন ভেরিয়েবল সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানে যে সকল প্রত্যয় ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। এ তত্ত্বের মাধ্যমেই মানুষ সমগ্র সমাজ সম্পর্কে এবং সমাজস্থ বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। এছাড়া সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ব্যক্তি ও সমাজজীবনের প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা একমাত্র সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বেই পাওয়া সম্ভব। সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব অধ্যাপক জে. জে ম্যাকিউনিস বলেন ''সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব হলো এমন এক বিকৃতি যার সাথে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় (যেমন- কখন ও কিভাবে) সম্পর্কিত।'' রবার্ট কে মার্টনের মতে ''সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব হচ্ছে এমন কতকগুলো অভিজ্ঞতা দ্বারা লব্ধ প্রস্তাবনার সমষ্টি যারা যুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।'' কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশোনারিতে বলা হয় ''সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব হচ্ছে প্রত্যাহিক উদ্দেশ্যর একটি নির্দেশক অনুমান বা কল্পনা ব্যাখ্যাকারী কোনোকিছু যা ঘটনার নিরপেক্ষতার মূল...

শ্রেণি ও জাতিবর্ণের মধ্যে পার্থক্যসমূহ আলোচনা কর

Image
শ্রেণি ও জাতিবর্ণের মধ্যে পার্থক্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ সমাজে বসবাস করে। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি ও সমাজের লোক বসবাস করে। জাতিবর্ণ প্রথা এমন একটি স্তরবিন্যাস যা কোনো সমাজকে বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত করে। শ্রেণি ও জাতিবর্ণের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। পুঁজিবাদী সমাজে সমাজ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত যথা- পুঁজিপতি শ্রেণি ও শ্রমিক শ্রেণি। জাতিবর্ণ ও শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য নিম্নে জাতিবর্ণ ও শ্রেণির মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য আলোচনা করা হল। ১। উন্মুক্ত ও বহু ব্যবস্থা জাতিবর্ণ হলো একটি বড় ব্যবস্থা অন্যদিকে শ্রেণি হলো উন্মুক্ত ব্যবস্থা । কোনো বিশেষ জাতিবর্ণের সদস্য অন্য কোনো জাতিবর্ণের সদস্যপদ অর্জন করতে পারে না। তার জন্ম ও মৃত্যু একই জাতিবর্ণের মধ্য সীমিত। অন্যদিকে কোনো বিশেষ শ্রেণির সদস্য স্বীয় প্রচেষ্টা বা অন্য কোনো উপায়ে অন্যান্য উঁচু বা নিচু শ্রেণীতে মিল হতে পারে। ২। বিবাহভিত্তিক গোষ্ঠী জাতিবর্ণ হলো একটি অন্তঃগোত্র বিবাহভিত্তিক গোষ্ঠী। অন্যদিকে শ্রেণি হলো কোনো বিবাহভিত্তিক গোষ্ঠী নয়। জাতিবর্ণের কোনো সদস্যকে নিজ জাতিতেই বিবাহ করতে হয়। অন্যদিকে এক শ্রেণির সদস্য অন্য জাতিতে বিবাহ করতে পার...