Posts

Showing posts from August, 2025

ব্লগ কী, কীভাবে শুরু করবেন, এবং কীভাবে আয় করবেন সম্পূর্ণ গাইড (বাংলায়)

Image
ব্লগ কী, কীভাবে শুরু করবেন, কিভাবে আয় করবেন, কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন সম্পূর্ণ গাইডলাইন ভূমিকা: বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্লগিং শুধুমাত্র শখ নয়, বরং একটি পেশা এবং আয়ের উৎস। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন এবং জানতে চান “ব্লগ কি?”, “কীভাবে ব্লগ শুরু করব?” কিংবা “ব্লগ থেকে ইনকাম কীভাবে করা যায়?” তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আজ আমরা জানব যে সকল বিষয়সমূহ তা নিম্নরুপ— * ব্লগ কী? * ব্লগিং কেন করবেন? * কীভাবে একটি সফল ব্লগ শুরু করবেন? * ব্লগ থেকে কীভাবে আয় করা যায়? * ব্লগিংয়ের জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম? * ব্লগের জন্য SEO-এর গুরুত্ব? * বিষয়বস্তু নির্বাচন ও পাঠক বাড়ানোর কৌশল? ব্লগ কী? ব্লগ হলো একটি ওয়েবসাইট বা অনলাইন জার্নাল যেখানে আপনি নিয়মিত লেখা প্রকাশ করতে পারবেন। এই লেখাগুলোকে “পোস্ট” বলা হয়। প্রতিটি পোস্ট সাধারণত নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর লেখা হয়, যেমন—ভ্রমণ, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি, রান্না, ফ্যাশন, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষা ইত্যাদি। ব্লগ হতে পারে: ব্যক্তিগত (নিজের অভিজ্ঞতা, মতামত), পেশাদার (জ্ঞানভিত্তিক কনটেন্ট), বাণিজ্যিক (পণ্য/সেবার প্রচার) ব্লগিং কেন করবেন? ১. নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উপায় ২...

এশীয় উৎপাদন পদ্ধতি কী? এশীয় পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

Image
এশীয় উৎপাদন পদ্ধতির সংজ্ঞা ও প্রকৃতি আলোচনা ভূমিকা:- "Indian society has no history at all, at least no known history " ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থার কোনো ইতিহাসই নেই, অন্ততপক্ষে কোনো জাত ইতিহাস নেই। ভারতবর্ষ সম্পর্কিত নিশ্চলতা ও স্থবিরতাকে কেন্দ্র করে মার্কসের এরূপ চিন্তাধারার ফলস্বরূপই এশীয় উৎপাদন পদ্ধতির মতো সাধাসিধে উৎপাদন পদ্ধতির জন্ম। মূলত পাশ্চাত্যের উন্নতির সাথে সাথে প্রাচ্যের তুলনামূলক পার্থক্য করতে গিয়ে মার্কস Asiatic Mode of Production বা এশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা ধারণার জন্ম দেন। পাশ্চাত্য সমাজের শ্রেণিসংগ্রাম ও উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাখ্যার জন্য মার্কস যে ধারণার অবতারণা করেন তা এশীয় উৎপাদন পদ্ধতি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত ছিল না। তাই মার্কস এশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করার জন্য Asiatic Mode of Production প্রত্যাটির ব্যবহার করেন এবং এশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে পাশ্চাত্যের উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে পৃথক বুঝানোর জন্য তার কতকগুলো বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরেন। এ বৈশিষ্ট্যগুলো এশীয় উৎপাদন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য বলে পরিচিত। এশীয় উৎপাদন পদ্ধতি এটি এশিয়ার উৎপাদন সংগঠনের বিশেষ প্রক্রিয়া। পাশ্চাত্য সমাজ...

ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সমালোচনা কর

Image
ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সমালোচনাসমূহ ভূমিকা: মার্কসীয় দর্শনের মৌলিক ও প্রধান সূত্রসময়ের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হল দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। মার্কসবাদী রাষ্ট্রচিন্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এই দ্বন্দ্বমূলক এবং ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। মার্কসবাদীরা মূলত ইতিহাসের ধারা ব্যাখ্যার জন্য এই ঐতিহাসিক বাস্তববাদী ধরনের প্রয়োগ করেন। মানব সমাজের ইতিহাস ব্যাখার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বাস্তুবাদ ধারণাটি সমাজবিজ্ঞানীগণ বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। সমাজের ইতিহাস ব্যাখ্যায় মার্কসবাদীরা ঐতিহাসিক বস্তুবাদ এর সমর্থন করলেও অ-মার্কসবাদীদের মধ্যে অনেকেই ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সমালোচনা করে। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের নিরিখে যে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ প্রতিষ্ঠিত তার প্রতি বিভিন্ন মনীষীর সমালোচনা বর্ষিত হয়েছে। সমালোচকগণ ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সমালোচনা করে যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো। ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সমালোচনা ১. অর্থনৈতিক উপাদানের উপর অহেতুক গুরুত্বারোপ: ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সবচেয়ে বড় সমালোচক কার্ল আর পপার বলেন, মার্কস ও তাঁর উত্তরসূরিরা সমাজ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উপাদানের উপর অহেতুক গুরুত্বারোপ...

কার্ল মার্কসের বিচ্ছিন্নতাবাদ তত্ত্ব আলোচনা কর

Image
বিচ্ছিন্নতাবোধের ভিত্তিতে কার্ল মার্কসেরপুঁজিবাদী সমাজকাঠামো বিশ্লেষণ উত্তর:- মার্কস বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন পুঁজিবাদকে নিয়ে আলোচনা করেছেন, অপরদিকে মানব প্রকৃতি, সমাজের ইতিহাস, দ্বন্দ্ব, সংগ্রাম প্রভৃতি বিষয়ও তার আলোচনায় স্থান পেয়েছে। তিনি তার জীবনের শেষদিকে কতকগুলো দার্শনিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের আলোচনা করেছেন। দার্শনিক চিন্তার ফলশ্রুতিতে তিনি পুঁজিবাদী সমাজের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। বিচ্ছিন্নতা (Alienation): মার্কস পুঁজিবাদী সমাজকাঠামো থেকে উদ্ভূত একটি ফলশ্রুতি হিসেবে বিচ্ছিন্নতা (Alienation) কে ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি খুব কম ব্যবহার করেছেন বিচ্ছিন্নতাকে। অনেক সমাজবিজ্ঞানী Marx এর বিচ্ছিন্নতাকে একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে আলোচনা করেছেন। এখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন ব্যক্তি তার সামাজিক অস্তিত্বের কতিপয় দিক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন বা আলোচ্য মনে করেন। বার্বালেটের মতে, "In capital Marx seldom uses the term although he employs the concept alienation." (Ritzer, p- 157) Marx...

সর্বহারা একনায়কতন্ত্র কী? পণ্যের বিনিময় মূল্য কি?

Image
সর্বহারা একনায়কতন্ত্র ও পণ্যের বিনিময়মূল্য তত্ত্ব ভূমিকা:- কাল মার্কসের যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হলো শ্রেণিসংগ্রাম। তিনি ভবিষ্যতবাণী করেছেন যে - পুঁজিবাদের চূড়ান্ত পতনের মধ্য দিয়ে সর্বহারাদের সমন্বয়ে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আধুনিক সাম্যবাদী সমাজের বা রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হবে এবং সেখানে সর্বহারাদের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। সর্বহারার একনায়কতন্ত্র শ্রেণি ও শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব Marx এর তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি সমগ্র মানব ইতিহাসকে শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস বলেছেন। তাঁর মতে, মানবসমাজ দুটি বিবদমান শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি উৎপাদন উপায়ের মালিক এবং অন্যটি উৎপাদন উপায়ের মালিকানা থেকে বঞ্চিত। এতে একশ্রেণি উদ্বৃত্ত ভোগ করে এবং অন্য শ্রেণির উপর প্রভুত্ব করতে সক্ষম হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজে কখনো মুক্ত মানুষ ক্রীতদাস, অভিজাত, সাধারণ মানুষ, ভূস্বামী, ভূমিদাস এবং কখনো গিল্ড মাস্টার ও কারিগর। এক কথায়, নিপীড়িত ও নিপীড়ক এ দু'শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। শোষণের এক পর্যায়ে শ্রমিক শ্রেণি সচেতন হয় এবং সংগ্রামে লিপ্ত হয়। আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজকে Marx বুর্জোয়া বা পুঁজিপতি এবং সর্বহা...

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর আত্মজীবনী আলোচনা

Image
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমর নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সাহিত্য যেন প্রতিধ্বনি তোলে গ্রামীণ বাঙালির হৃদয়ে, আবার শহুরে মানুষের মনের টানাপোড়েনেরও দর্পণ হয়ে ওঠে। প্রেম, সমাজ, আত্মত্যাগ ও বাস্তবতা এসবই যেন মিশে থাকে তার লেখায়। আজকের এই ব্লগে আমরা জানব তাঁর জন্ম, মৃত্যু, পারিবারিক জীবন, শিক্ষাজীবন, সাহিত্যকর্ম ও স্থায়ী অবদান সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অনন্য আলোচনা। জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি জন্ম: ১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ জন্মস্থান: দেবানন্দপুর, হুগলি জেলা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ) শরৎচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে। তাঁর পিতার নাম ছিল মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ভুবনমোহিনী দেবী। শরৎচন্দ্রের ডাকনাম ছিল “ন্যাঁড়া”। পিতৃসূত্রে কাঁচড়াপাড়ার মামুদপুর ও মাতৃসূত্রে হালিশহর ছিল তাঁর পারিবারিক শিকড়। বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন:  শরৎচন্দ্রের শৈশব কেটেছে ভাগলপুর শহরে। তার বাবার আর্থিক দুরবস্থার কারণে পড়াশোনায় বেশ কিছু বাধা আসে। * প্রথমে দেবানন্দপুরের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। * পরে ভাগলপুরের দুর্গাচরণ বালক ব...

সমাজতন্ত্রের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা কর

Image
সমাজতন্ত্রের নেতিবাচক ও ইতিবাচক প্রভাব আলোচনা ভূমিকা:- মানুষের সম্পদ খুবই সীমিত কিন্তু সে তুলনায় চাহিদা অপরিসীম। সীমাহীন চাহিদার মানুষ প্রয়োজন মেটানো যায়, সেটা নিয়ে মানুষ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা করে চলেছে। মানুষের অর্থনৈতিক সমাধানের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সময় প্রায় সমগ্র পৃথিবীতে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে। পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তখন নতুন অর্থব্যবস্থা গড়ে ওঠে সমাজতন্ত্র আর এ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা গড়ে ওঠায় যেমন কিছু সুবিধা আছে তেমনি কিছু অসুবিধাও বিদ্যমান। সমাজতন্ত্রের সুবিধা বা ইতিবাচক দিক সমাজতন্ত্রের বিভিন্ন সুবিধাসমূহ নিম্নরুপ আলোচনা করা হলো- ১. অর্থনৈতিক যুক্তি: সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় শোষণ ও নির্যাতন সমাজে কম মাত্রায় বিদ্যমান থাকে। এখানে মানুষ অর্থনীতিতে সমতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করে। ২. বৈজ্ঞানিক যুক্তি: সমাজতন্ত্রে শ্রেণি ধারণা না থাকায় এ মতবাদে বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, ব্যক্তি শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থায় নিজস্ব গুণ ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে পারে। ব্যক্তি তার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে এবং ন...

সামন্তপ্রথা কী? ইউরোপীয় ও ভারতীয় সামন্তপ্রথার সাদৃশ্য ও বৈশাদৃশ্যগুলো আলোচনা কর

Image
সামন্তপ্রথার সংজ্ঞা। ভারতীয় সামন্তপ্রথা কীভাবে ইউরোপীয়দের থেকে আলাদা তা আলোচনা কর ভূমিকা: পরিবর্তনশীলতা মানবসমাজের ধর্ম। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানী, সমাজের ক্রমবিবর্তনকে বিভিন্নভাবে ভাগ করেছেন। আর এ সামন্ততন্ত্রও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সমাজ ও সভ্যতার বিকাশের হাত ধরেই সামন্ততন্ত্রের উৎপত্তি। সমাজবিকাশের একটা বিশেষ স্তরে ইউরোপে এক স্বতন্ত্র ধরনের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার আবির্ভাব ঘটে, যাকে বলা হয় সামন্তপ্রথা। সামন্তপ্রথা (Feudalism) নবম শতকে পশ্চিম ইউরোপে কৃষি অর্থনীতির ভিত্তিতে যে সমাজ, সংস্কৃতি, প্রথা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে ওঠে তাকেই সামন্তপ্রথা নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অন্যভাবে বলা যায় যে, মধ্যযুগে ইউরোপীয় ভূস্বামীগণ কর্তৃক চাষাবাদের জন্য বিশেষ শর্ত সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ভূমিহীনদের মধ্যে ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া প্রথাকে সামন্ততন্ত্র বলা হয়। এ নীতি অনুসারে যিনি ভূস্বামী তিনি লর্ড ও যারা বন্দোবস্ত নিলেন তারা হচ্ছে ভেসাল। ইউরোপীয় সামন্তপ্রথা ইউরোপীয় সামন্তপ্রথায় ভূমি মালিকানাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণি সম্পর্কের সূচনা হয়, যাকে ভূমি বণ্টন ও রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাস হিসে...

বিচ্ছিন্নতাবোধ কী? বিচ্ছিন্নতাবোধের প্রকারভেদ আলোচনা

Image
বিচ্ছিন্নতাবোধের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ আলোচনা ভূমিকা:- সাম্প্রতিককালে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নে একটি বহুল পরিচিত শব্দ হলো বিচ্ছিন্নতাবোধ। অনেক পাশ্চাত্য দার্শনিকই বিচ্ছিন্নতাবোধ প্রত্যয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তবে কার্ল মার্কসকে সমাজবিজ্ঞানের বিচ্ছিন্নতাবোধের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমাজবিজ্ঞানের অনুসন্ধানে মার্কস স্টেমস্কোপের মাতা বিচ্ছিন্নতাবোধ শব্দটি ব্যবহার করেন। মার্কস পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় শ্রমিকদের মধ্যেই বিচ্ছিন্নতাবোধ প্রত্যক্ষ করেন। তাঁর বিচ্ছিন্নতাবোধের ধারণাটি অক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত কেননা পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় শ্রমিকরা মনে করেন যে, এ সমাজব্যবস্থায় শ্রমিক তার জৈবিক ক্রিয়া ব্যতীত আর কোনভাবেই নিজেকে স্বাধীন মনে করে না। বিচ্ছিন্নতাবোধ আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কস বিচ্ছিন্ন শ্রমের শ্রেণিবিভাগ করেন যা বিচ্ছিন্নতাবোধের প্রকারভেদেরই নামান্তর। বিচ্ছিন্নতাবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা সাধারণভাবে বিচ্ছিন্নতাবোধ ব্যাখ্যা করতে হলে এমন একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝাতে হয় যার ফলে সামাজিক মানুষ তার সামাজিক অস্তিত্বের কিছু ক্ষেত্র থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন অনুভব করে। অনাভাবে, বিচ্ছিন্নতাবোধ বলতে একটি প্রক...

বিচ্ছিন্নতাবোধ উদ্ভবের কারণসমূহ আলোচনা

Image
বিচ্ছিন্নতাবোধ উদ্ভবের কারণসমূহ আলোচনা ভূমিকা:-   বিচ্ছিন্নতাবোধের উদ্ভবে মার্কস অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। বিচ্ছিন্নতাবোধ উদ্ভবের কারণ: নিম্নে বিচ্ছিন্নতাবোধ উদ্ভবের বিভিন্ন কারণসমূহ আলোচনা করা হলো- ১. শ্রম, উৎপাদন ও শ্রমিকের সম্পর্ক: মানুষ প্রতিনিয়ত  নিজ কাজে ব্যস্ত থাকে। কাজের মাধ্যমেই ব্যক্তিসত্তার বা প্রতিভার বিকাশ হয়। মার্কস বলেন, সভ্যতার চাবিকাঠি হলো শ্রম। পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকরা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ তাদের ন্যায্য অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের পরিবর্তে অমানবিক শোষণ করা হয়। তাছাড়া উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে শ্রমিক তার আত্মপরিচয় খুঁজে পায় না। ফলে শ্রমের সকল পণ্য উৎপাদিত তার কাছে ভিন্ন সত্তা এবং অপরিচিত মনে হয়। অর্থাৎ পণ্যের সাথে শ্রমিকের কোনো সম্পর্ক থাকে না। ফলে তার মনে বিচ্ছিন্নতাবোধের জন্ম হয়। ২. বস্তুগত উৎপাদনে মানুষের আগ্রহ: সমাজের প্রতিটি   উৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষ বস্তুগত উৎপাদনে বেশি আগ্রহী। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। মানুষ যে অবস্থানে আছে তা নিয়ে সে-সন্তুষ্ট নয়। ফলে মানুষ তার চাহিদা পূরণ করত...

আদিম সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, সমাজব্যবস্থা ছিল সাম্যবাদী উক্তিটি ব্যাখ্যা কর

Image
আদিম সমাজব্যবস্থার শ্রেণি, সমাজ ও উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পর্কিত ধারণা ভূমিকা:- “আদিম সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, সমাজব্যবস্থা ছিল সাম্যবাদী” এ উক্তিটি আলোচনা করার পূর্বে আমাদের জানতে হবে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং সাম্যবাদ বলতে কী বুঝায়। এগুলো আলোচনা করে এ আলোচনা থেকে উক্তিটির যথার্থতা পর্যালোচনা করতে হবে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা বলতে কোনো বস্তুকে ভোগ ও হস্তান্তরের একক অধিকার বুঝায় এবং সাম্যবাদ বলতে বুঝায় কোনো বস্তুতে সম্প্রদায়গত অধিকার অর্থাৎ সমান অধিকার সম্পত্তি হলো কোনো কিছুর মালিকানা যা ব্যক্তি উত্তরাধিকার বা অন্যান্য সূত্রে লাভ করে এবং যার উপর ব্যক্তির নিরঙ্কুশ অধিকার থাকে। সমাজবিজ্ঞানী এবং নৃবিজ্ঞানীদের মতে, সম্পত্তি হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা দ্বারা 'সম্পদের মালিকানা হস্তান্তর কার্যকে বুঝায়। আদিম সমাজে মানুষের জীবনধারণের জন্য যা প্রয়োজন হতো সবই তাদের সম্পত্তির আওতাভুক্ত ছিল। আদিম সমাজে সম্পত্তির নির্দিষ্ট কোনো রূপ ছিল না। আদিম সমাজের সম্পত্তির মালিকানা (Ownership of property in primitive society): আদিম সমাজের মানুষ যা কিছু ব্যবহার করত তাই ছিল তাদের কাছে সম্পত্তি। তবে সমাজ ব...

দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি সম্পর্কে ফয়েরবাখের ধারণা। থিসিস, এন্টিথিসিস ও সিনথিসিস কি?

Image
দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি সম্পর্কে ফয়েরবাখের ধারণা আলোচনা ভূমিকা:- দ্বান্দ্বিকতার প্রথম ধারণা দেন জার্মান দার্শনিক হেগেল। পরবর্তীতে কার্ল মার্কস ও ফয়েরবাখ হেগেল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নতুনভাবে দ্বান্দ্বিকতার ব্যাখ্যা দেন। তবে মজার ব্যাপার হলো দ্বান্দ্বিকতা নিয়ে আলোচনা সবাই করলেও দান্দ্বিকতা সম্পর্কে সবার ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ সতন্ত্র। দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি সম্পর্কে ফয়েরবাখের ধারণা দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি সম্পর্কে ফয়েরবাখের ধারণা হেগেলের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। হেগেল যেখানে ভাববাদ দ্বারা দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন সেখানে ফয়েরবাখ যান্ত্রিকভাবে, মার্কস এর ভাষায়, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদে ব্যাখ্যা দেন। হেগেলের চিন্তা আত্মার উপর নির্ভরশীল। ফলে মার্কস তার প্রতি মোহমুক্ত হয়ে সেই সময় জার্মানির অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ফয়েরবাখের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বলেন হেগেল যখন মানুষের কর্মগত জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তখন তিনি (ফয়েরবাখ) এই বিষয়টি সঠিকভাবে আয়ত্ত করেছেন। এই অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে মার্কস ফয়েরবাখের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করেন। কিন্তু সেই আনুগত্যও ছিল ক্ষণস্থায়ী। তবে অল্পকিছ...

মানুষের চেতনা তার সত্ত্বাকে নির্ধারণ করে না, বরঞ্চ সমাজের সত্ত্বা তার চেতনাকে নির্ধারণ করে ব্যাখ্যা কর

Image
মানুষের চেতনা নয়, সমাজের সত্ত্বাই নির্ধারণ করে চিন্তাভাবনা– মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ভূমিকা:- বস্তুবাদী ইতিহাস চর্চার দ্বিতীয় মৌলিকনীতি অনুসারে সমাজে প্রচলিত ধ্যানধারণাগুলোসহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সর্বদা চরম বিশ্লেষণে বৈষয়িক জীবনের শর্তাবলি দ্বারা নির্ধারিত হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে সামাজিক প্রশ্নে বস্তুবাদের প্রয়োগ থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে যে, সমাজের বৈষয়িক জীবন তার আধ্যাত্মিক জীবনকে নির্ধারণ করে। বস্তুবাদ বলে বস্তু বা বাস্তব জগৎ হলো মুখ্য আর মন বা চিন্তা হলো গৌণ। বাস্তব জিনিসগুলোর অস্তিত্ব ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক যেগুলো সম্পর্কে আমাদের ধ্যান, ধারণার ওপর নির্ভর করে না, আমাদের মন এবং মনোগত ধ্যানধারণাগুলো বরং বাস্তব জিনিসগুলোর পূর্বতন অস্তিত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল এবং সমাজের ক্ষেত্রে সমাজে প্রচলিত সমস্ত ধ্যানধারণার উৎস হলো সমাজের বৈষয়িক জীবন, উল্টোটা নয়। মানুষের চেতনা তার সত্ত্বাকে নির্ধারণ করে না, বরঞ্চ সমাজের সত্ত্বাই চেতনাকে নির্ধারণ করে: মার্কস লিখেছেন, "মানুষের সত্তা তার চেতনা দ্বারা নির্ধারিত হয় না বরং ঠিক বিপরীতভাবে মানুষের সামাজিক সত্তাই নির্ধারিত করে তার চেতনাক...

মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান কি? মার্কসবাদ কী? মার্কসবাদ একটি বিশ্ব বিক্ষণ ব্যাখ্যা কর

Image
মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান সংজ্ঞা এবং মার্কসবাদ একটি বিশ্ব বিক্ষণ ব্যাখ্যা ভূমিকা:-  সমাজতত্ত্বের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন কার্ল মার্কস (Karl Marx)। বিগত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাঁর দর্শন ও শিক্ষা চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ সময়টাতে অনেক চিন্তাবিদ ও মনীষী কার্ল মার্কসের তত্ত্বের প্রতি সমর্থন প্রদান করেছেন, আবার অনেক সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মার্কসের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে মার্কসের তত্ত্ব পৃথিবীর শোষণ মুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দলিল। মার্কস সমাজ বিকাশের যে নতুন বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন তা সমাজবিজ্ঞানের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি শুধু সমাজ বিকাশের বৈজ্ঞানিক সূত্র ও মানুষ কর্তৃক মানুষের শোষণের আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না বরং তিনি কীভাবে জনগণের দারিদ্র্য ও শোষণের অবসান ঘটবে। তারও পথনির্দেশ করেছেন। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কসের অবদান সমাজবিজ্ঞানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝাতে তিনি মার্কসকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে গ্যালিলিওর অবস্থানের সমতুল্য হিসেবে সমাজচিন্তার বিজ্ঞানে তাকে প্রতিস্থাপনের কথা বলেছেন। মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান (Marxist Sociology): মার্কস...

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

Image
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী ভূমিকা:- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি বাংলা সাহিত্যে “সাহিত্যসম্রাট” নামে খ্যাত, ছিলেন প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, কবি, সাংবাদিক এবং এক দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা। বাংলা উপন্যাসের প্রথম সার্থক রচয়িতা হিসেবে আখ্যায়িত, তিনি বাংলা ভাষায় গদ্য সাহিত্যের আধুনিক বইডেল গড়ে তুলেছেন। শৈশব ও পারিবারিক জীবন জন্ম ও পরিবার: ২৬ জুন (বিভিন্ন সূত্রে ২৬ বা ২৭ জুন) ১৮৩৮ সালে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মেদিনীপুরে ডেপুটি কালেক্টরের দায়িত্বে কর্মরত। তিনি পরিবারের তৃতীয় সন্তান, এবং তাঁর দুই ভাই পূর্ণচন্দ্র ও সঞ্জীবচন্দ্রও সাহিত্যরুচির অধিকারী ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা ও মেধা: পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি বাংলা বর্ণমালা আত্মস্থ করেছিলেন বলে জানা যায়, এবং পাঠশালায় না গিয়ে গৃহশিক্ষক থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। মেদিনীপুরে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি হন জন এফ. টিড-এর পরামর্শে, যেখানে তিনি খুব শিগগিরই নিজের মেধা প্রমাণ করেন। পরবর্তীতে সিনক্লেয়ার-এর অধীন...