Posts

Showing posts from November, 2025

স্বজাতিকতাবাদের সাম্প্রতিক ধারা আলোচনা কর

Image
নৃগোষ্ঠী/ বর্ণবাদ/ স্বজাতিকতাবাদের সাম্প্রতিক ধারা আলোচনা ভূমিকা :- স্বজাতিকতাবাদ (Ethnocentrism বা Racism) একটি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে মানুষ নিজেদের জাতি, গোষ্ঠী বা সংস্কৃতিকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং অন্য জাতিগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। এটি কেবল গায়ের রঙ, চেহারার গঠন বা শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারে। আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে এ প্রথার রূপ অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। তবে এখনো বিভিন্ন সমাজে এর প্রভাব বিদ্যমান। সাম্প্রতিক ধারায় স্বজাতিকতাবাদ/ নৃগোষ্ঠী/ বর্ণবাদ: ১. সংখ্যালঘু বৈষম্য: বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ, যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়ায় এখনো সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট। বিশেষ করে আফ্রো-আমেরিকান, মুসলিম, লাতিনো, এশিয়ানদের চাকরি, শিক্ষালাভ ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। 'Black Lives Matter' আন্দোলন এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ২. ভারতের বর্ণবাদ: ভারতে ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত ব্রাহ্মণ্যবাদ বা বর্ণব্যবস্থা (ব্রাহ্মণ, ...

বর্ণবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদ কী? উপজাতি ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর

Image
  বর্ণবাদ কী? বর্ণবৈষম্যবাদ বলতে কী বুঝ? ভূমিকা :- মানুষের যে ধারা, পার্থক্য ও সংস্কৃতিগত বৈষম্যের মূলে দৈহিক বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য হলো বর্ণবৈষম্যবাদ। অন্যভাবে বলা যায়, বর্ণবৈষম্যবাদ বলতে মানুষের জৈবিক বা দৈহিক কারণে কাউকে ছোট বা বড় অথবা কাউকে যোগ্য আর কাউকে অযোগ্য, কাউকে মর্যাদাবান, আর কাউকে অমর্যাদাবান বলে মনে করা হয়। বর্ণবাদ/বর্ণবৈষম্যবাদ: Philif Kattak তাঁর 'Anthropology গ্রন্থের Glossary-তে বলেন, জৈবিক কারণে কোনো নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যই হলো বর্ণবৈষম্য। মূলত উনবিংশ শতাব্দীতে মানব ইতিহাসে বর্ণবাদী ব্যাখ্যা প্রমান করা হয়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ককেশীয় নরগোষ্ঠীই উচ্চ ও উৎকৃষ্ট নৃগোষ্ঠী। বাদবাকি সবাই নীচ ও নিকৃষ্ট। বর্ণবাদীদের মতে, সভ্যতা উৎকৃষ্ট নৃগোষ্ঠীই বেশি অবদান রেখেছে। কারণ তারা জৈবিক ও দৈহিক দিক থেকে উন্নত। অন্যদিকে, নিকৃষ্টরা দৈহিক দিক থেকে অনুন্নত এবং সভ্যতায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই। বর্ণবাদ বা বর্ণবৈষম্যকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়- ১. ব্যক্তিগত পর্যায়: ব্যক্তিগত পর্যায়ে ধারণা হলো কতিপয় বর্ণগোষ্ঠী প্রকৃতভাগেই আগ্রগামী এবং অপররা পশ্চাদগামী। এ পর্যায়ে ২টি সমসাময়িক ব...

জাতীয়তাবাদ কী? এথনিক গ্রুপের সাথে জাতি এবং জাতীয়তাবাদের সম্পর্ক কী?

Image
জাতীয়তাবাদ কী?  এথনিক গ্রুপের সাথে জাতি এবং জাতীয়তাবাদের সম্পর্ক আলোচনা কর ভূমিকা :- স্বায়ত্তশাসিত রাজনৈতিক মর্যাদা ছিল কিংবা অর্জন করতে চায় তাদেরকে বলা হয় জাতীয়তা। আর জাতীয়তা যাদের মধ্যে বিরাজ করে তখন একটি আদর্শ বিরাজ করে আর এই আদর্শই মূলত জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ সংজ্ঞা জাতীয়তাবাদ হচ্ছে একটি আধুনিক ধারণা। এটি একটি আদর্শ (ideology) বা একাত্মবোধের নাম। আধুনিক বিশ্বের প্রায় সকল জাতিরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী চেতনা দ্বারা পরিচিত হয়ে থাকে। একটি রাষ্ট্রে এমন কিছু সাধারণ কৃষ্টি, সংস্কৃতি বা অনুসরণযোগ্য বিষয় থাকে যাকে আশ্রয় করে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ, দেশপ্রেম ইত্যাদি সুদৃঢ় হয়। Prof. Zimmern-এর মতে, "কোনো নির্দিষ্ট আবাস ভূমির সাথে সংশ্লিষ্ট সংঘবদ্ধভাবে বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মর্যাদাযুক্ত অনুভূতির প্রকাশই হলো জাতীয়তাবাদ।" হ্যাশ কোহল-এর মতে, জাতীয়তা হলো প্রথম এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের এক মানসিক অবস্থা ও এক ধরনের সচেতনতা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হায়েসের মতে, 'একটি জাতীয় জনসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সার্বভৌম স্বাধীনতা অর্জন করে জাতীয়তা সৃষ্টি করে। এটা চিরকাল স্থায়ী থাকে না। সময়ের ...

বাংলাদেশে এথনিক গোষ্ঠীর উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।

Image
বাংলাদেশে এথনিক গোষ্ঠীর উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর। অথবা, এথনিক গোষ্ঠীর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর। অথবা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ পর্যালোচনা কর। ভূমিকা :- বাংলাদেশে নানারকম উপজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে। আর এসব উপজাতি সম্প্রদায়ের এদেশে আবির্ভাব ঘটেছে একেক সময়ে। এরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে আগমন করেছে। এদেশে ৩০টির মতো উপজাতি বসবাস করছে। বাংলাদেশে এথনিক গোষ্ঠীর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ  নিম্নে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উদ্ভব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১. চাকমা সম্প্রদায়: বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাকমা উপজাতিরা বসবাস করে। এদের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২০,০০০ হাজার। চাকমা সম্প্রদায়ের উৎপত্তি সম্পর্কে কর্নেল ফেয়ারার তার History of Barma গ্রন্থে বলেন, চাকমারা ব্রহ্মদেশ থেকে ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে আগমন করেছে। নৃবিজ্ঞানী স্যার রিজলি এ ব্যাপারে বলেছেন, ব্রহ্ম ভাষায় 'সার্ক' বা 'সেক' জাতি থেকে চাকমাদের উদ্ভব। আরাকানের প্রাচীন রাজধানী রামাবতী শহরের নিকটবর্তী এলাকায় 'সার্ক' বা 'সেক' জাতি এক সময় খুব শক্তিশালী ছিল। মগদের ...

এথনিক অভিযোজন কী? নৃগোষ্ঠী ও এথনিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক প্রকৃতি আলোচনা কর

Image
এথনিক অভিযোজনের ধারণা দাও।  নৃগোষ্ঠী ও এথনিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক ভূমিকা :- এথনিক গ্রুপ হচ্ছে এমন একটি সামাজিক গোষ্ঠী যাদের নিজস্ব একটি বিশেষ ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে, যা অন্যদের থেকে ভিন্ন। এরা কোনো রাষ্ট্রীয় পরিসীমায় নিজস্ব গোত্রীয় স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা নিয়ে বসবাস করে। সংখ্যাগরিষ্ঠদের সাথে তাদের যে সামাজিক দূরূত্ব রয়েছে তা কমানোর জন্য অভিযোজন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। এথনিক অভিযোজন : সমগ্র বিশ্বে নৃগোষ্ঠীগত, ধর্মীয়, ভাষা ও সংস্কৃতিগত কারণে মানুষের মধ্যে বৈচিত্র্য দেখা যায়। আর এ বৈচিত্র্যই সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠের সৃষ্টি করে। সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শপূর্ণ বিয়োগ থাকলেও তাদের মধ্যে ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়ার পথ সুগম করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শুধু তাই নয়, একটি শান্তিপূর্ণ ঐক্য বন্ধুত্বপূর্ণ সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সর্বদা চেষ্টা করছে। সংখ্যালঘুদের এই নিরন্তর প্রচেষ্টা অভিযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহত থাকে। নিম্নে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিযোজন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো। ১. ভাষাগত সমন্বয় সাধন: প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে...

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কী? সাঁওতালদের ধর্মবিশ্বাস ও বিবাহপ্রথা লেখ।

Image
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বলতে কী বুঝায়?  সাঁওতালদের ধর্মবিশ্বাস ও বিবাহপ্রথা লিখ ভূমিকা :- সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নৃগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়। এসব এথনিক গোষ্ঠী তথা নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ সুগম হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাব, সাংস্কৃতিক অভিযোজন, অঙ্গীভূতকরণ, উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ, আদান-প্রদান নীতি ও বহু সংস্কৃতিবাদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ধারণা বেগবান হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শপূর্ণ বিরোধ থাকা সত্ত্বেও মানুষ ইতিবাচক মিখক্রিয়ার পথ সুগম করে একটি শান্তিপূর্ণ ঐক্য, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ গড়ে তোলে এবং গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। মানুষের এই প্রচেষ্টা নিরন্তর, যা বহুমুখী বিভাজিত সাংস্কৃতিকে আপেক্ষিকতার মাধ্যমে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করে থাকে। সংস্কৃতিগত দ্বন্দ্বের অনুপস্থিতি মানুষকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বাধ্য করেছে। প্রতিটি এখনিক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে। তারা নিজেরা যখন তাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ কর...

বিদেশে পড়াশোনা ও স্কলারশিপ: সম্পূর্ণ গাইড (দেশভিত্তিক স্কলারশিপ তালিকাসহ)

Image
বিদেশে পড়াশোনা ও স্কলারশিপ: সম্পূর্ণ গাইড (দেশভিত্তিক স্কলারশিপ তালিকাসহ) ভূমিকা :- বিদেশে পড়াশোনা আজকের তরুণদের স্বপ্নের বাস্তব রূপ। উন্নত শিক্ষা, আধুনিক গবেষণা সুবিধা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং গ্লোবাল ক্যারিয়ার এসব কারণে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া, তুরস্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চান অনেকেই। কিন্তু অনেক সময় খরচের কথা ভেবে অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে যায়। অথচ এখন বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বড় Fully Funded ও Partially Funded Scholarship প্রদান করছে। সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি থাকলে বিদেশে পড়াশোনা করা খুবই সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো ✔ বিদেশে পড়াশোনার কারণ ✔ সুবিধা ✔ আবেদন প্রক্রিয়া ✔ যোগ্যতা ✔ জনপ্রিয় দেশ ✔ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের শীর্ষ স্কলারশিপগুলোর বিস্তারিত তালিকা বিদেশে পড়াশোনা কেন করবেন? ১. বিশ্বমানের শিক্ষা পাওয়া যায়: উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাব, বিশেষায়িত কোর্স, গবেষণা সুযোগ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছে। এতে গ্লোবাল মানের স্কিল তৈরি হয়। ২. চাকরির সুযোগ অনেক বেশি: বিদেশি ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে গ্...

এথনিক অসমতা কী? এথনিক অসমতার কারণগুলো তুলে ধর

Image
এথনিক অসমতা:  ধারণা ও কারণসমূহ ভূমিকা- এথনিক গ্রুপ হচ্ছে এমন একটি সামাজিক গোষ্ঠী যাদের নিজস্ব একটি বিশেষ ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে যা অন্যদের থেকে ভিন্ন। এরা কোনো রাষ্ট্রীয় পরিসীমায় নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা নিয়ে বসবাস করে। সংখ্যাগুরুদের সাথে সংখ্যালঘু বা এথনিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক অসমতা ও পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এথনিক অসমতার সংজ্ঞা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু এথনিক সম্প্রদায়ের প্রতি যেসব বৈষম্যমূলক আচরণ আচার-আচরণ করে থাকে তাকে এথনিক অসমতা বলে। এথনিক গোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতিনীতি সবই বৃহত্তর জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক। এথনিক গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য দেখে তাদেরকে চিহ্নিত করা যায়। ব্যক্তির মনোভাব, ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, রুচিবোধ ইত্যাদি দ্বারা তাদের সমাজ মৌলভাবে প্রভাবিত। কিন্তু সমতলের সংখ্যাগুরু গোষ্ঠী তাদেরকে অসম মনে করে থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস, চাকরির সুযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আইনে সমতা থাকলেও তা বাস্তবে তেমন একটা দেখা যায় না। তাদের অনেক চড়াই-উতরাই পার করে সবার সাথে অধিক যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। এছাড়াও সীমিত সম্পদ ও সুযোগ অর্থনৈতিক প্রত...

কুট্টি সম্প্রদায় সম্পর্কে লেখ। গারো সমাজের পরিবর্তনের কারণগুলো উল্লেখ কর

Image
কুট্টি সম্প্রদায় কারা? গারো সমাজের পরিবর্তনের কারণগুলো ভূমিকা :- বাংলাদেশে কুট্টি সম্প্রদায়ের আগমন ঘটে আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে। এ সম্প্রদায় ভারতের বিহার  অঞ্চল থেকে আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে এদেশে আসতে থাকে। কুট্টিদের পরিচয়: কুট্টি শব্দটির অর্থ হচ্ছে খেদমতকারী। এরা প্রায় সকলে মুঘল আমলে পেয়াদা, বাবুর্চি, আয়া, খানসামা, গাড়োয়ান ছিল। তারা ছিল আজ্ঞাবহ শ্রেণি। অর্থাৎ, তারা মুঘল ও ঢাকাইয়া নবাবদের খেদমত ছাড়া কিছুই বুঝত না। কুট্টিদের বাসস্থান: সাধারণত কুট্টিদের আদি বাসস্থান বাংলার বাইরে। এ সম্প্রদায় ভারত থেকে আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে এদেশে আসতে শুরু করে। কুটি সম্প্রদায় ঢাকার চকবাজার, ইসলামপুর, বাবুবাজার, টিকাটুলি ইত্যাদি এলাকায় বসতি স্থাপন করে। কুট্টিদের ভাষা: মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত কুট্টিদের একটি স্বতন্ত্র ভাষা রয়েছে। এদের ভাষাকে 'খোট্টা' ভাষা বলা হয়। বাংলার সাথে উর্দু ও হিন্দি ভাষার সংমিশ্রণে এ ভাষা গড়ে উঠেছে। কুট্টিদের অর্থনীতি: ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তাদের রাতারাতি ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। সাম্প্রদায়িক কারণে পুরাতন ঢাকাকেন্দ্রিক বংশীয় জমিদার পরিবারগুলো যখন ভারতে যেতে শুর...

নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য

Image
নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ  ও প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ ভূমিকা :-  যেসব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নৃগোষ্ঠীকে শ্রেণীকরণ করা হয়, ভৌগোলিক অবস্থান তার মধ্যে অন্যতম। বস্তুত পৃথিবীর সকল অঞ্চলের ভৌগোলিj অবস্থান একরকম নয়। কেননা আবহাওয়া, জলবায়ু তথা অঞ্চলভেদে সমগ্র ভৌগোলিক অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়। যার প্রভাবে অঞ্চলভেদে মানুষের দৈহিক রূপ, প্রকৃতিও ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে। নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ: ১৯৫০ সালে নৃবিজ্ঞানী কুন, গার্ণ ও বার্ডগেল তাঁদের Race A Study of Race Formation in Man নামক গবেষণামূলক প্রবন্ধে নৃগোষ্ঠীর গঠন সম্পর্কে আলোচনাপূর্বক এর ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাব প্রদান করেন। নিম্নে সংক্ষেপে নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ করা হলো- ১.  ভারতীয় ভৌগোলিক নৃগোষ্ঠী: এশিয়ার ভারতীয় উপমহাদেশে এ মানবগোষ্ঠীর সদস্যরা বসবাস করে। কিছু পরিমাণে অধিকতর কালো চামড়া ছাড়া বহু ভারতীয় দেখতে ইউরোপীয়দের মতো। তাদের অনুরূপ চুল ও দা্ড়ি এবং সাহস রয়েছে। যাই হোক, মঙ্গোলীয়দের মতো তাদের মধ্যে B শ্রেণির রক্ত বেশি মাত্রায় দেখতে পাওয়া যায়। ২.  অস্ট্রেলীয় ভৌগোলিক নৃগোষ্ঠী: প্রধানত অস্ট্রেলিয়া ও তাসমেনিয়ায় এ...

ভূমিকম্প কি? প্রভাব, করণীয় ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নির্দেশিকা

Image
  ভূমিকম্প: প্রভাব, করণীয় ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নির্দেশিকা ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ করে সঞ্চিত শক্তির মুক্তির কারণে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক কম্পন যা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এটি পৃথিবীর অন্যতম বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি, স্থাপনা, সেতু, রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দিতে পারে এবং বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই ভূমিকম্প সম্পর্কে জ্ঞান ও প্রস্তুতি সকলের জন্য জরুরি। ভূমিকম্প কি? ভূমিকম্প (Earthquake) হলো পৃথিবীর ভূগর্ভে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পাওয়ার ফলে সৃষ্ট কম্পন। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ শক্ত প্লেট দিয়ে তৈরি, যেগুলো সবসময় ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। এই প্লেটগুলো যখন একে অপরের সাথে সংঘর্ষে আসে, সরে যায় বা ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে, তখন তাদের ভেতরে প্রচুর শক্তি জমা হয়। কোনো এক পর্যায়ে এটি আর ধরে রাখতে না পেরে হঠাৎ ফেটে যায় এবং কম্পনের সৃষ্টি হয় এটাই ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রকে বলা হয় হাইপোসেন্টার, আর ভূমি পৃষ্ঠে সেই কেন্দ্রের ঠিক উপরের স্থানকে বলা হয় এপিসেন্টার। ভূমিকম্পের মাত্রা কিভাবে মাপা হয়? ✔ রিক্টার স্কেল (Magnitude) এই স্কেলে ভূমি...

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান উপজাতি/ আদিবাসী এথনিক গোষ্ঠীর নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় আলোচনা কর।

Image
বাংলাদেশের প্রধান প্রধান উপজাতি/ আদিবাসী এথনিক গোষ্ঠীর নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় আলোচনা কর । ভূমিকা :- বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে দেখা যায় বাঙালিরা সংকর জাতি, অর্থাৎ বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে বাঙালিদের উৎপত্তি। এজন্যই এদেশের উপজাতি বা আদিবাসীদের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়ে সংমিশ্রণ থাকাটাই স্বাভাবিক। উপজাতিরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে এদেশে এসে বসতি স্থাপন করেছে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, "বিশুদ্ধ নৃগোষ্ঠী একটি অলীক কল্পনা। নৃবিজ্ঞানী বিরাজ শংকর গুহ উপমহাদেশের জনগোষ্ঠীকে ছয়টি নরগোষ্ঠীতে ভাগ করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে এদেশের উপজাতিদের দ্রাবিড়ীয় আদি অস্ট্রেলীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীতে বিভক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান উপজাতি/আদিবাসী/এথনিক গোষ্ঠীর নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়: নিম্নে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান উপজাতিসমূহের নৃগোষ্ঠীগত বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় তুলে ধরা হলো- ১. চাকমাদের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়: নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়ের ব্যাপারে চাকমাদের মতভেদ রয়েছে। তবে এদের সাথে চীনা মঙ্গোলয়েডদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাদের দৈহিক উচ্চতা মাঝারি থেকে বেঁটে পর্যন্ত হয়। গায়ের লোমের স্বল্পতা, দৈহিক গড়ন শক্তিশালী, নাক চ্যাপ...