বর্ণবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদ কী? উপজাতি ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর

 বর্ণবাদ কী? বর্ণবৈষম্যবাদ বলতে কী বুঝ?

ভূমিকা: মানুষের যে ধারা, পার্থক্য ও সংস্কৃতিগত বৈষম্যের মূলে দৈহিক বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য হলো বর্ণবৈষম্যবাদ। অন্যভাবে বলা যায়, বর্ণবৈষম্যবাদ বলতে মানুষের জৈবিক বা দৈহিক কারণে কাউকে ছোট বা বড় অথবা কাউকে যোগ্য আর কাউকে অযোগ্য, কাউকে মর্যাদাবান, আর কাউকে অমর্যাদাবান বলে মনে করা হয়।

বর্ণবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদ কী? উপজাতি ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর

বর্ণবাদ/বর্ণবৈষম্যবাদ: Philif Kattak তাঁর 'Anthropology গ্রন্থের Glossary-তে বলেন, জৈবিক কারণে কোনো নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যই হলো বর্ণবৈষম্য। মূলত উনবিংশ শতাব্দীতে মানব ইতিহাসে বর্ণবাদী ব্যাখ্যা প্রমান করা হয়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ককেশীয় নরগোষ্ঠীই উচ্চ ও উৎকৃষ্ট নৃগোষ্ঠী। বাদবাকি সবাই নীচ ও নিকৃষ্ট। বর্ণবাদীদের মতে, সভ্যতা উৎকৃষ্ট নৃগোষ্ঠীই বেশি অবদান রেখেছে। কারণ তারা জৈবিক ও দৈহিক দিক থেকে উন্নত। অন্যদিকে, নিকৃষ্টরা দৈহিক দিক থেকে অনুন্নত এবং সভ্যতায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই। বর্ণবাদ বা বর্ণবৈষম্যকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়-

১. ব্যক্তিগত পর্যায়: ব্যক্তিগত পর্যায়ে ধারণা হলো কতিপয় বর্ণগোষ্ঠী প্রকৃতভাগেই আগামী এবং অপররা পশ্চাদগামী। এ পর্যায়ে ২টি সমসাময়িক বিদ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে।

২. প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়: এ পর্যায়ে এটি এক ধরনের বৈষম্য নীতি এবং তার অনুশীলনের সাথে সম্পৃক্ত। এর ফলে বিভিন্ন বর্ণগোষ্ঠী সদস্যদের মধ্যে অসমতা সূচিত হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, বর্ণবৈষম্যবাদ বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণে টিকে না। ফলে এটি ভ্রান্ত বলে পরিত্যক্ত হয়েছে। আধুনিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে, সংস্কৃতি নৃগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষতাবে কাজ করে


Race এবং Ethnicity বা  উপজাতি ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।

আমরা বিভিন্ন দেশে এথনিক কিংবা উপজাতিদের বসবাস দেখতে পাই। এথনিক গ্রুপ এমন কিছু জনসংখ্যার সমষ্টি, যার সদস্যরা একে অপরের সাথে অভিন্ন কোনো সৃষ্টি ঐতিহ্যের কারণে পরিচিত।

Ethnicity এবং Race বা  উপজাতি ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী মধ্যে পার্থক্য: নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও উপজাতি সম্প্রদায় উভয়ই মানব সম্প্রদায়। তথাপি উভয়ের মধ্যে কতিপয় পার্থক্য লক্ষ করা যায়। নিম্নে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও উপজাতির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-

১. যেসব জনগোষ্ঠী প্রাচীন কাল থেকে তাদের পূর্ব সমাজের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে তাদেরকে উপজাতি বলে। অন্যদিকে, নৃগোষ্ঠী বলতে মানব প্রজাতির এমন এক উপবিভাগকে বোঝায়, যারা কতকগুলো ভিন্ন ভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলে।

২. উপজাতিদের দৈহিক ধরন গোত্রভেদে এক না, কিন্তু নরগোষ্ঠীর দৈহিক ধরন প্রায়ই একই রকম। 

৩. উপজাতিরা সাধারণত পাহাড়িয়া এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বাসস্থান স্থাপন করে। অপরদিকে, মানবগোষ্ঠী সমতল ভূমিতে যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করে।

৪. উপজাতিদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তারা প্রাচীদকে আঁকড়ে ধরে রাখে। কিন্তু নৃগোষ্ঠী আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যায়।

৫. উপজাতিদের বিভাজন দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে করা যায় না। কিন্তু নরগোষ্ঠীর বিভাজন দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে করা যায়।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, মানুষের দৈহিক আকার-আকৃতির উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা সুস্পষ্ট যে, ১১টি নৃগোষ্ঠী পরস্পরের সংমিশ্রণে আরো নতুন নৃগোষ্ঠীর বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে। অর্থাৎ, এসব নৃগোষ্ঠীর জিন পরিবাহিত হয়ে নতুন নতুন নৃগোষ্ঠীর উদ্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া নৃগোষ্ঠীর রয়েছে আধুনিক ও ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাজন।

No comments:

Post a Comment