Posts

Showing posts from January, 2026

নারীর ক্ষমতায়নে NGO-র ভূমিকা পর্যালোচনা করা

Image
বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে নারীর ক্ষমতায়নে এনজিও-র ভূমিকা ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি খুবই অনুন্নত। এই গ্রামীণ সমাজের নারীরা খুবই অনুন্নত। এই গ্রামীণ সমাজে নারীরা খুবই অসহায়। তারা সম্পূর্ণরূপে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। এর মূল কারণ নারীর অর্থনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে না পারা। তবে আশার কথা এটুকু যে, গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নে এদেশের এনজিও গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। নারীর ক্ষমতায়নে এনজিও-র ভূমিকা: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীকে বাদ দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উপরন্ত নারীরা বঞ্চিত হলে উন্নয়নের ধাপকে পেছন দিকে নিয়ে যায়। এনজিও-গুলোর নারী উন্নয়নের কাজের ফলে বাংলাদেশের বঞ্চিত-অবহেলিত নারী সমাজ সংগঠিত হতে শিখেছে। এনজিওদের নারী উন্নয়নের কাজের ফলে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সহায়কশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। নিম্নে নারীর উন্নয়নে এনজিও ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১. নারী শিক্ষা: শিক্ষা এনজিও কার্যক্রমের একটি বিশেষ দিক। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ দুঃখের বিষয় হলো গ্রামীণ সমাজের নারীরা এই শিক্ষার আলো থেকে ব...

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর

Image
নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ভূমিকা: বর্তমান সামাজিক অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিকসহ সফল ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী নিম্নস্তরে অবস্থান করছে। অথ পুরুষের তুলনায় নারীর অবদান সমাজগঠনের ক্ষেত্রে কোনো অংশে কম নয়। সমাজের সার্বিক উন্নয়নে পুরুষের সাথে সাথে নারীর অংশগ্রহণ কোনো অংশে কম নয় কিন্তু নারীর অবদানকে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনো স্বীকার করা ময়নি। বরং নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে নারীদের অধস্তন করে রাখার জন্য। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ স্বাধীনতার পর ৭২ সালের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতেও প্রতিফলিত হয়েছে নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়টি। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো- ১. প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮): এই পরিকল্পনার আওতায় ছিল স্বাধীনতাযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ছিন্নমূল নারীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও তাদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং চাকরি প্রদান করা। ২. দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৮-৮০...

নারী উন্নয়নে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর

Image
জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত নারী উন্নয়ন কার্যক্রমসমূহের বিবরণ ভূমিকা: বিভিন্ন দেশ, দেশীয় সংস্থা, NGO এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা নারী উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ কয়ে যাচ্ছে। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অভিভাবক সংস্থা, জাতিসংঘ ও নারী উন্নয়নের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করে, নায়ী উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রবর্তন ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নারী উন্নয়ন ও জাতিসংঘ: নারী উন্নয়ন বলতে সাধারণত নারীকে তার হীন অবস্থা থেকে বের করে মানুষ হিসেবে তার মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা প্রদান করাকে বোঝায়। তাই নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সমগ্র কর্মকান্ডকেই নারী উন্নয়নে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা বা পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নারী উন্নয়নে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা ও পদক্ষেপসমূহ নিম্নে নারী সমাজের উন্নতিকল্পে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা ও পদক্ষেপসমূহের বিবরণ তুলে ধরা হলো- ১. মানবালিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র প্রদান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR) জারি করে, যা সকল ম...

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়? আলোচনা কর

Image
বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় বলে তুমি মনে কর ভূমিকা: নারীর ক্ষমতায়ন একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। কেবল মানবেতর অবস্থা থেকে নায়ীর মুক্তি বা নারী উন্নয়নের জন্য নয়, সকল সমস্যার সমাধানে প্রধান ও প্রথম ধাপ হিসেবে নারীর ক্ষমতায়নকে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। রিওডিতে ধরিত্রী সম্মেলন, ভিয়েনায় মানবাধিকার সম্মেলন, কায়রোতে জনসংখ্যা সম্মেলন, কোপেনহেগেনে সামাজিক শীর্ষ সম্মেলন এবং বেইজিংয়ে নারী শীর্ষ সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বারবার এসেছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য করণীয়  বা পদক্ষেপসমূহ: বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়- ১. পুরুষতন্ত্রের উচ্ছেদ সাধন: নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো, পুরুষতন্ত্র হতে নারীকে বের করে আনা। কারণ পুরুষতন্ত্র নারীকে ক্ষমতাহীন করে এবং ক্ষমতায়নের পথে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। পুরুষতন্ত্র উচ্ছেদসাধনে নারীবাদী আন্দোলন অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। এভাবেই পুরুষতন্ত্রের...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অবস্থান মূল্যায়ন কর

Image
বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃতি ও অবস্থান ব্যাখ্যা ভূমিকা: মূলত বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান এবং বিরোধদলীয় নেত্রী উভয়েই নারী, যা বিশ্বে বিরল। কিন্তু রাজনীতির অঙ্গনে দুনেত্রীর প্রাধান্য ও প্রচন্ড দৃশ্যমানতার পাশাপাশি বিরাজ করছে প্রায় নারী শূন্যতা। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় সর্বস্তরে বিশেষ করে কাঠামোগত রাজনীতিতে নারীর অবস্থান মোটেই ব্যাপক, সুসংগঠিত বা সুসংহত নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অবস্থান: রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুরু রাজনীতিতে অল্লাহ অনুসন্ধিৎস্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং নাগরিকত্বকেই বোঝায় না। এয় কর্মকাজের পরিধি আরও ব্যাপক। তৃতীয় বিশ্বের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করাকেই বোঝায়। সাধারণভাবে, ভোটদান ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকেই রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বোঝায়। উপর্যুক্ত পর্যায়গুলো ছাড়া আরো কিছু পর্যায় যারা রাজনীতিকে নারী বাধার সম্মুখীন হয়। এসব বাধার আলোকে রাজনীতিতে বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান কীরূপ নিম্নে তা আলোচনা করা হলো- ১. রাজনৈতিক দলে নারী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধান: দুই দলের প্রধান নেত্রী নারী হলেও রাজনৈতিক দল...

নারীর ক্ষমতাহীনতার কারণসমূহ আলোচনা কর

Image
নারীর ক্ষমতাহীনতার কারণসমূহ চিহ্নিত ও ব্যাখ্যা ভূমিকা: বাংলাদেশের নারীসমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, নারীসমাজ ক্ষমতাহীন। নারীর এই ক্ষমতাহীনতার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন- অর্থনৈতিক কারণ, সামাজিক কারণ ও রাজনৈতিক কারণও বিদ্যমান রয়েছে। নিম্নে কারণগুলো আলোচনা করা হলো- নারীর ক্ষমতাহীনতার অর্থনৈতিক কারণ:  ১. সম্পত্তির মালিকানাহীনতা: নারী ক্ষমতাহীনতায় অন্যতম প্রধান কারণ হলো সম্পত্তিতে নারীদের মালিকানাহীনতা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বংশ নির্ধারিত হয় পুরুষের বা পিতার দিক থেকে। সকল সম্পত্তির মালিকানা নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তরাধিকার নাজ থাকে পুরুষের ওপর শিতার দিক থেকে। বিভিন্ন ধর্মে সম্পত্তির বণ্টন বিভিন্নভাবে দেয়া হয়েছে। তবে পুরুষের চেয়ে নারীদের মালিকানা বাস আবার কখনো নেই। ২. কর্মসংস্থানের অভাব: নারীরা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হয়। ক্ষমতাহীনতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হালা কর্মসংস্থানের অভাব। চাকরি, সম্পদ, প্রযুক্তি তথ্য, কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ কোনোটিতেই নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। প্রাচীনকাল থেকেই নারীর কর্মসংস্থান গৃহস্থালির গড়ির মধ্যেই বন্দি। বর্তমানে অনেক ক...

বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় আলোচনা কর

Image
বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাসমুহ ও উত্তরণের উপায় আলোচনা কর ভূমিকা: নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়সমূহের একটি। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়নশীল দেশে প্রধান ও প্রথম ধাপ হিসেবে নারীর ক্ষমতায়নকে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ পৃথিবীর সমস্ত মানবগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী এবং একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নারী ক্ষমতায়নের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ: বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা আলোচনা করা হলো- ১. পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ: নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ। আমাদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। এখানে সবকিছু পরিচালিত হয় পুরুষের আদর্শ ও নিয়ম দ্বারা। নারীকে দেখা হয় সমাজের অধস্তন হিসেবে। তার কোনো সামাজিক মর্যাদা নেই। আর এ মূল্যবোধই নারীর ক্ষমতায়নের পথে বাধায় সৃষ্টি করে। ২. ধর্মীয় মৌলবাদ: নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ধর্মীয় মৌলবাদ। মৌলবাদীরা কখনো চায় না যে, নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভকরুক। এরা চায় নারীকে সর্বক্ষেত্রে আষ্টে...

পরিবেশ শরণার্থী কি, প্রকারভেদ লিখ। শরণার্থী ও উন্নয়ন তাড়নায় বিতাড়িত জনগোষ্ঠীর সাদৃশ্য

Image
পরিবেশ শরণার্থী কারা? শরণার্থী প্রকারভেদ ও উন্নয়ন তাড়নায় বিতাড়িত জনগোষ্ঠীর সাদৃশ্য ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বে “পরিবেশ শরণার্থী” একটি বহুল আলোচিত বৈশ্বিক সমস্যা। মানুষের জীবনধারা, শিল্পায়ন, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ তাদের আবাস হারাচ্ছে। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বা দরিদ্র শ্রেণি যদি পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজিত হতে না পারে, কিংবা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে তাদের বসতি ধ্বংস হয়ে যায়, তখন তারা বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এ ধরনের মানুষকেই বলা হয় পরিবেশ শরণার্থী। পরিবেশ শরণার্থীর সংজ্ঞা পরিবেশ শরণার্থী হলো সেই ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী, যারা পরিবেশগত বিপর্যয় বা পরিবর্তনের কারণে তাদের স্থায়ী আবাসভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিকম্প, সুনামি, নদীভাঙন কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে যখন মানুষ বসবাসের উপযোগী পরিবেশ হারায়, তখন তারা আশ্রয় খুঁজতে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়। সুতরাং বলা যায়,  “বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তন বা দুর্যোগের ফলে যারা তাদের নিজ ভূমি থেকে বি...

জুম চাষ বলতে কি বুঝ? জুম চাষের বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা লিখ

Image
জুম চাষ কী? জুম চাষের বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা লিখ ভূমিকা: ইংরেজি Shifting Cultivation এর বাংলা অনুবাদ হলো “জুম চাষ” বা “পালাক্রম চাষ”। এটি একটি প্রাচীন ও স্বতন্ত্র কৃষি ব্যবস্থা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি উপজাতি যেমন চাকমা, মারমা, ম্রো, খুমি, বম, লুসাই প্রভৃতি জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে জুম পদ্ধতি চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। লাঙল চাষের প্রচলন হওয়ার আগে প্রায় ১২/১৩ প্রধান উপজাতিদের এই জুম চাষই ছিল প্রধান অর্থনৈতিক উৎপাদনব্যবস্থা। জুম চাষ মূলত এমন এক ধরনের কৃষি পদ্ধতি যেখানে জমি কিছু বছর ব্যবহারের পর তা পরিত্যাগ করে নতুন জমিতে চাষ শুরু করা হয়। পাহাড়ি ঢালে জঙ্গল পুড়িয়ে এই চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তাই একে Slash and Burn চাষও বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই পার্বত্যবাসীদের জীবনের সঙ্গে জুম চাষ জড়িয়ে আছে, যা কেবল একটি কৃষি ব্যবস্থা নয়, বরং তাদের সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জুম চাষের সংজ্ঞা: জুম চাষ বলতে বোঝায় এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা, জুম চাষ সাধারণত পাহাড়ের ঢালে ঘন জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে করা হয়। চাষিরা প্রথমে সমস্ত বৃক্ষে...

নৃগোষ্ঠীদের বর্ষবরণ উৎসব ও কাইনেসেন্ট্রিক ইকোলজি

Image
নৃগোষ্ঠীদের বর্ষবরণ উৎসব ও কাইনেসেন্ট্রিক ইকোলজি ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি নৃতাত্ত্বিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এখানে প্রায় ৪৫টিরও বেশি উপজাতীয় নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। প্রতিটি নৃগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, পোশাক, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসব। এসব উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো বৈসাবি। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান তিনটি নৃগোষ্ঠী চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব। এই উৎসব কেবল আনন্দ ও মিলনের নয়; এটি প্রকৃতি, সমাজ ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত সমন্বয়। বৈসাবি উৎসব / বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি নামটি এসেছে তিনটি নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব বর্ষবরণ উৎসবের নাম থেকে ‘বৈ’ এসেছে ত্রিপুরাদের বৈযুক থেকে, ‘সা’ এসেছে মারমাদের সাংগ্রাই থেকে, ‘বি’ এসেছে চাকমাদের বিজু থেকে। এই তিনটি উৎসব একত্রে মিলিত হয়ে “বৈসাবি” নামে পরিচিত। উৎসবটি সাধারণত চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন ও বৈশাখ মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত চলে। এ সময় প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে, মানুষও নতুন বছরকে বরণ করে নেয় আনন্দ-উল্লাসে। ১. বিজু উৎসব: চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা নৃগোষ্ঠী তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব পালন করে। প্রথম দিনটি ফুল বিজু, এদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা হয় এ...

ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীদের জীবনে ভূমির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর

Image
ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে ভূমি কেন গুরুত্বপূর্ণ তা আলোচনা কর ভূমিকা: প্রায় প্রতিটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বা উপজাতীয় সমাজে ভূমিবিষয়ক এ ধরনের আধ্যাত্মিক চর্চার পরিসর থাকে, যা কালের বিবর্তনে ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। কীভাবে কোথা থেকে এই আধ্যাত্মিকতার সূত্রপাত তা খুঁজতে গেলে ভূমির সাথে সম্প্রদায়ের এক ধরনেরর মানবিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় যার মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো সম্পর্ক নেই। এই মানবিক সম্পর্কের কারণে ভূমি হয়ে ওঠে তাদের অস্তিত্বের অংশ। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে ভূমির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব: ১. প্রথম জাতিতত্ত্ব: Bob Joseph (২০১৫) সালে ভূমির সাথে আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্পর্ক বোঝাতে তার প্রথম জাতিতত্ত্ব' প্রদান করেন। এ তত্ত্বে মনে করা হয়, কোনো ভূখন্তে সর্বপ্রথম যে জাতি আগমন করে সেই জাতির সাথে ঐ ভূখন্ডের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি দেখান, কোনো ভূখণ্ডে প্রথম যে জাতি বসতি স্থাপন করে সেই জাতির সাথে ঐ ভূখণ্ডের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা অন্য বিভিন্ন সময়ে আগত এবং বসতি স্থাপনকারী বা বসবাসকারী গোষ্ঠীর সম্পর্ক হতে সম্পূর্ণ পৃথক বৈশিষ্ট্য এবং স্বকীয় মাত্রায় স্বতন্ত্র। এরা ভূমিব ...

ভূমিবিচ্ছিন্নতা কী? ভূমিবিচ্ছিন্নতার কারণ ও ফলাফল ব্যাখ্যা কর

Image
ভূমিবিচ্ছিন্নতার সংজ্ঞা কারণ ও ফলাফল আলোচনা ভূমিকা: মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ভূমি। ভূমি মানুষের বাসস্থান, জীবিকা ও নিরাপত্তার উৎস। ভূমিবিচ্ছিন্নতার সংজ্ঞা কোনো জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের ভূমি ও আবাসন থেকে উচ্ছেদ করে অন্যত্র স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়াকেই ভূমিবিচ্ছিন্নতা বলে। একে জোরপূর্বক স্থানান্তর (Forced Migration) বা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি (Internal Displacement) নামেও ডাকা হয়। এটি সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্প, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় কারণসহ নানা কারণে ঘটে থাকে। ভূমিবিচ্ছিন্নতার কারণসমূহ ভূমিবিচ্ছিন্নতার পিছে বিভিন্ন কারণ বিদ্যমান নিম্নে সেসকল কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১. সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প: দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অনেক সময় বৃহৎ এলাকা অধিগ্রহণ করতে হয়। যেমন- গৃহায়ন প্রকল্প, শিল্প এলাকা, বাঁধ, সড়ক বা কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের জন্য সরকার ভূমি অধিগ্রহণ করলে বহু মানুষ তাদের বাসস্থান হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। ২. রাজনৈতিক কারণ: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উপনিবেশ স্থাপন, বা ক্ষমতা সংরক্ষণের প্রয়োজনে...

বনভূমির উপর ক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়সমূহের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা

Image
বনভূমির উপর আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা ভূমিকা: বিশ্বব্যাপী ৫০০০ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বসবাস কবে। এরা সমগ্র পৃথিবীর জনসংখ্যার চার শতাংশ হলেও বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতি বৈচিত্র্যের ৯৫% এরা ধারণ করে। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলো এত ঘনিষ্ঠভাবে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল যে, এর জঙ্গল হতে তাদের উৎপাটন করা হলে অনেকে তাদের নিজস্বতা হারিয়ে ফেলেন। আবার বনভূমিও তার আকৃতি ও প্রকৃতিগত শুদ্ধতা হারিয়ে ফেলতে থাকে। যদি বিভিন্ন কারণে বন বিনষ্ট করা হয়, তাহলেও এদের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়। বনভূমির উপর ক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়সমূহের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা যেসব কারণে বনের উপর এসব সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর এই প্রকার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়, তা নিম্নের আলোচনায় তুলে ধরা হলো- ১. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ বনভূমির বেশিরভাগ অংশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র সংস্কৃতির মানুষ অধিষ্ঠান করছে। এসব জীববৈচিত্র্য এসব মানুষের হাতে থাকলে তা জীব ধ্বংস, উদ্ভিদ ধংস করবে এই প্রকার চিন্তা হতে অনেক স্থানে এসব মানু...

ভূমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়নের সম্পর্ক মূল্যায়ন কর

Image
ভূমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়নের সম্পর্ক মূল্যায়ন আলোচনা ভূমিকা: অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যখন কোনো শক্তি বা জনগোষ্ঠীকে তাদের মূল বাসভূমি থেকে জোর করে সরিয়ে দিয়ে অন্যত্র বসতি স্থাপনে বাধ্য করা হয় তখন তাকে উন্নয়ন তাড়িত বিতাড়ন তত্ত্ব পুনঃস্থাপন বলা হয়। একে সংক্ষেপে উন্নয়ন বিতাড়নও বলা হয়। Anthony Oliver Smith (২০০৯) সালে সচেতনতায় দেখান, প্রতি বছর বর্তমানে ১৫ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্নভাবে এই পুনঃস্থাপনের শিকার হয়। ভূমি অধিগ্রহণের সাথে উন্নয়নের সম্পর্ক নিম্নে ভূমি অধিগ্রহণের সাথে উন্নয়ন তাড়িত বিতাড়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কারণ আলোচনা করা হলো- ১. বাধ, জল বিদ্যুৎ, জলসেচ এবং কৃত্রিম জলসঞ্চলন উন্নয়ন তাড়িত বিতাড়ন: সরকারের বাঁধ, জল বিদ্যুৎ, জলসেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রচুর মানুষের এবং পশুপাখির আবাস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উন্নয়ন তাড়িত বিতাড়ন' প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং সবচেয়ে বেশি প্রলয়ংকরী ভূমিকা রাখে এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো। এসব কাজ করতে গেলে হঠাৎ বিশাল এলাকায় বন্যা হয়। যে বন্যায় বিস্তীর্ণ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে। কোনোভাবে আগের থেকে আন্দাজ করা যায় না কতটুকু ভূমি জুড়ে বন্যা হবে। ফলে আগে থেকে কোনো সাবধ...