Posts

উন্নয়নমূলক সমাজবিজ্ঞান কি? উন্নয়নের সূচকসমূহ লিখ

Image
উন্নয়নমূলক সমাজবিজ্ঞান সংজ্ঞা ও সূচকসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে উন্নয়ন সমাজবিজ্ঞানের আর্বিভাব অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নমূলক সমাজবিজ্ঞান অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের উন্নয়ন সমস্যা অর্থাৎ অনুন্নত দেশসমূহ কেন অনুন্নত, উন্নয়নের পথে কি বাধা রয়েছে এবং কীভাবে সেসকল সমস্যা সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করে থাকে। উন্নয়নমূলক সমাজবিজ্ঞান সাধারণ অর্থে আর্থসামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে সমাজবিজ্ঞানের যে বিষয় বা শাখায় উন্নয়নের সামগ্রিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকেই উন্নয়নমূলক সমাজবিজ্ঞান বলে। জেরি and জেরি তাদের Collins Dictionary of Sociology গ্রন্থে উন্নয়নের সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন উন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের সেই শাখা যা কৃষিমূলক সমাজ থেকে শুরু করে শিল্পভিত্তিক সমাজে উত্তরণের বিভিন্ন দিক আলোচনা করে। Andrew Webster's তার Introduction t the Sociology of Development গ্রন্থে উন্নয়নমূলক সমাজবিজ্ঞানকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে একই সাথে উন্নয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান সামাজিক বাস্তবতা এবং আধুনিকায়ন তথা শিল্পায়ন, নগরায়ন ও অন্যান্য ...

এমিল ডু্রখেইম এর পরিচয় দাও। এমিল ডুর্খেইমের শ্রমবিভাজন নীতি আলোচনা

Image
এমিল ডু্রখেইমের পরিচয় এবং শ্রমবিভাজন নীতি আলোচনা ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশে যে সব মনীষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে এমিল ডুর্খেইম অন্যতম। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিবার অধিকারী। সমাজ সম্পর্কে তিনি অনেক মতবাদ তৈরী করেন। সমাজকে উন্নতির চরম শিখরে আরোহণে তার অবদান অপরিসীম। এমিল ডুরখেইম এর পরিচয় নিম্নে এমিল ডুর্খেইম এর পরিচয় উল্লেখ করা হলো- ১। জন্ম: এমিল ডুরখেইম ১৮৫৮ সালের ১৫ এপ্রিল ফ্রান্সের নরিন প্রদেশের ইপিনামে এক ধর্মভীরু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২। সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে: এমিল ডুরখেইমের আর একটি পরিচয় হলো তিনি ছিলেন ফ্রান্সের একজন নামকরা সমাজবিজ্ঞানী। সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশে তার অবদান অতুলনীয়। ৩। দার্শনিক হিসেবে: এমিল ডুর্খেইম একজন সমাজবিজ্ঞানী ছিলেন না পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক । সমাজ নিয়ে তিনি দার্শনিকের মত চিন্তা করতেন। ৪। লেখক হিসেবে: এমিল ডুরখেইম একজন লেখক ছিলেন।যিনি সমাজবিজ্ঞানের উন্নতি ও বিকাশে অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো- The Division of labour in society, The Rules of Sociological method, Third Famous ইত্যাদি। ৫। সংস্কারক হিস...

দারিদ্র্য কী? বিশ্বে দারিদ্র্যের কারণসমূহ আলোচনা কর

Image
দারিদ্র্য কী? দারিদ্র্যের কারণ আলোচনা কর ভূমিকা:- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দারিদ্র্যপ্রবণ দেশ। আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা দারিদ্র্য সমস্যা। আভিধানিক অর্থে দারিদ্র্যতা বলতে আমাদের অভাব-অনটনকে বোঝায়। এটি এক প্রকার নেতিবাচক অর্থনৈতিক অবস্থা। অর্থাৎ কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক দূর্বলতা, অস্বচ্ছলতা ও অক্ষমতাকে দারিদ্রতা বলে। দারিদ্রের প্রকাশ ঘটে আয়ের স্বল্পতা, জীবনধারনের নূন্যতম প্রয়োজন পূরণের ব্যর্থতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুযোগের অভাবের মাধ্যম। দারিদ্র্যের সংজ্ঞা বিভিন্ন মনীষী বিভিন্নভাবে দারিদ্র্যের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে কয়েকজনের সংজ্ঞা দেওয়া হলো- সমাজবিজ্ঞানী গিলিনের মতে-যাদের জীবন-যাপনের মান সমাজে বিরাজমান জীবনযাত্রার মানের নিচে তারাই দরিদ্র। সেজন্য তারা সমাজ জীবনে মানবিক ও দৈহিক নৈপূণ্য প্রমাণে অক্ষম হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে- “যদি কোন ব্যাক্তির মাথাপিছু আয় ৫০১ বা তার কম হয় তবে সে দরিদ্র এবং তার পীড়াদায়ক অবস্থায় দারিদ্রতা। (১৯৬৯ সালের রিপোর্ট) জি গোলার্ডের মতে- দারিদ্র্য হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি ও তার উপর নির্ভরশীল অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের স্বাস্থ্য ও রক্ষণাবেক্...

সমাজবিজ্ঞানের বিষয় বস্তু আলোচনা কর

Image
সমাজবিজ্ঞানের বিষয় বস্তু আলোচনা কর ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো সমাজ ও মানুষ। সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করায় মানুষের স্বভাব। মানুষের চাহিদা ও সমাজ দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞান মানুষের সমাজ বা দলের বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র অথবা সমাজবিজ্ঞান হলো মানুষের ক্রিয়াকর্মের বিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞানে সমাজবদ্ধ মানুষের সামাজিক দিক এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সমাজবিজ্ঞান সমাজ বা দলের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে থাকে তাছাড়া সামাজিক সমস্যা, সামাজিক কাঠামো, সামাজিক পরিবর্তনশীলতা, সামাজিক স্তরবিন্যাস ও সামাজিক গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করে । মানবজীবনে এর ভূমিকা অনেক। সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান। মানুষের জীবনধারা পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হচ্ছে। অগাস্ট কোঁৎ সর্বপ্রথম ১৮৩৮ সালে সমাজবিজ্ঞানের রীতিবদ্ধ আলোচনা করেন। এছাড়া হার্বার্ট স্পেন্সার সমাজবিজ্ঞানের মূলনীতিগুলো স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিম্নে সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১। পরিবার ও ...

হার্বার্ট স্পেন্সারের সমাজ পরিবর্তন তত্ত্ব আলোচনা কর

Image
হার্বার্ট স্পেন্সারের সমাজ পরিবর্তন তত্ত্ব ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাস বিভিন্ন চিন্তাবিদ বিভিন্ন সময়ে সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন। তেমনিভাবে ১৯ শতকের একজন বিখ্যাত সমাজ দার্শনিক হলেন হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer) । বিখ্যাত এই সমাজ দার্শনিক ১৮২০ সালে ২০ এপ্রিল ইংল্যান্ডে জম্মগ্রহন করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে সমাজ পরিবর্তনের বিষয়টি। সাধারণ অর্থে সামাজিক পরিবর্তন সমাজবিজ্ঞানীর মতে, পরিবর্তনশীলতা প্রকৃতির নিয়ম। মানবসমাজ নিয়মের অধীন। আজ সমাজে যে অবস্থা বিদ্যমান আগামীকাল সমাজের সে অবস্থা নাও থাকতে পারে। সকল সমাজ কমবেশি পরিবর্তনশীল। সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান কোন কিছুর পরিবর্তনের মূলে কতকগুলো বিষয় কাজ করে। তেমনিভাবে সামাজিক পরিবর্তনের মূলেও কতকগুলি বিষয় কাজ করে। এই বিষয়গুলি হলো সামাজিক পরিবর্তন উপাদান। নিচে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দুইটি আলোচনা করা হলো। (১) মূখ্য উপাদান হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer) এর মূখ্য উপাদান বলতে ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে বুঝিয়েছেন। তিনি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বলতে বুঝিয়েছেন যা গোষ্ঠ...

সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশে হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer) এর অবদান আলোচনা কর

Image
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে হার্বার্ট স্পেন্সারের অবদান ভূমিকা: সমাজবিজ্ঞান (Sociology) একটি স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। এই যাত্রায় যেসব মনীষী অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে হার্বার্ট স্পেন্সারের নাম চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার সমাজবিজ্ঞানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন, যা আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়ক হয়েছে। আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা তার অবদান নিয়ে আলোচনা করব। হার্বার্ট স্পেন্সার: সমাজবিজ্ঞানে এক অনন্য নাম হার্বার্ট স্পেন্সার ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, যিনি সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন। তার বিশিষ্ট তত্ত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক বিবর্তন তত্ত্ব, অধিকার তত্ত্ব, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এবং ক্রিয়াবাদী তত্ত্ব। এই তত্ত্বগুলো আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে আজও প্রভাবশালী। ১. সামাজিক বিবর্তন তত্ত্ব: স্পেন্সার সামাজিক বিবর্তন তত্ত্ব প্রদান করেন, যার মাধ্যমে তিনি সমাজের একরূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তন হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, সমাজ একটি জীবন্ত সত্তা, যা সময়ের সাথ...

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী

Image
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী: এক অনন্য প্রতিভার পথচলা ভূমিকা:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী ও সুরকার। বাংলা সাহিত্যের এই পুরোধা ব্যক্তিত্বকে 'কবিগুরু', 'বিশ্বকবি' এবং ‘গীতাঞ্জলির স্রষ্টা’ নামে সম্বোধন করা হয়। তার সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন আজও কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। জন্ম ও শৈশবকাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন *৭ মে ১৮৬১ সাল (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ), কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে। তার পিতা "দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর" ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুরু এবং মাতা "সারদাসুন্দরী দেবী"। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাদের চতুর্দশ সন্তান। ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম হলেও, ছোটবেলায় তাকে পিতার সান্নিধ্য খুব একটা পাওয়া যায়নি। মায়ের মৃত্যু ও বাবার অধিকাংশ সময় ভ্রমণে ব্যস্ত থাকায়, তার শৈশব কেটেছে ভৃত্যদের তত্ত্বাবধানে। শিক্ষা জীবন শিক্ষার শুরু হয় বড় ভাই "হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের" হাতে। বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অনাগ্রহী রবীন্দ্রনাথ পড়েছেন...