Posts

ট্যালকট পারসন্সের AGIL প্রত্যয়টি ব্যাখ্যা কর

Image
ট্যালকট পারসন্সের AGIL প্রত্যয়টি অলোচনা ভূমিকা:- ট্যালকট পারসন্স ছিলেন বিংশ শতকের একজন অন্যতম আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী। তিনি কাঠামোগত কার্যকারিতার আলোকে তার Social Action, Social System, Social Change সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক ক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবার Action এর সাথে তিনি সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক পরিবর্তন ও ব্যবস্থার মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন। ট্যালকট পারসন্সের দৃষ্টিভঙ্গিতে সামাজিক ক্রিয়া, সামাজিক পরিবর্তন এবং সমাজব্যবস্থা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এই কাঠামোর মধ্য দিয়ে তিনি ‘AGIL’ নামক একটি বিশ্লেষণ কাঠামো তৈরি করেন যা সমাজের যেকোনো ব্যবস্থার টিকে থাকার জন্য চারটি মৌলিক কার্যকারিতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে। AGIL পরিকল্পনার ব্যাখ্যা: নিম্নে সংক্ষেপে ট্যালকট পারসন্সের AGIL প্রত্যয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হলো- ১। অভিযোজন: অভিযোজন পদ্ধতি এবং পারস্পরিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক দেখানো হয়। এটা দুই ধরনের। যথা- (ক) বশ্যতা বা আত্মসমর্পণ (খ) সুবিধাকরণ। পরিবেশের চাপের মাধ্যমে বশ্যতা স্বীকার করা হয়। আর সুবিধাকরণ হলো অবস্থা বুঝে ব...

মার্টনের ক্রিয়াবাদী তত্ত্বের উদ্দেশ্যগুলো লিখ

Image
রবার্ট কে মার্টনের ক্রিয়াবাদী তত্ত্বের উদ্দেশ্যসমূহ ভূমিকা:- আধুনিক সমাজতাত্ত্বিক জগতে ‘‘রবার্ট কে মার্টন একজন অন্যতম ক্রিয়াবাদী তাত্ত্বিক’’। বস্তুত উনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ উপযোগিতাবাদ বিপ্লবোত্তর ফরাসি চিন্তাবিদদের দ্বারা ক্রমাগত সমালোচিত হচ্ছিল। ফরাসিদের মতে ব্যক্তির অবাধ স্বাধীনতা সম্পুর্ণ হলেও সামাজিক শৃঙ্খলা সম্পর্ণূরুপে বিকশিত হবে না। নগরায়ন, শিল্পায়ন ও বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রভৃতি যে অচলাবস্থার জম্ম দেয় তা চিন্তাবিদদের মধ্যে নতুন চিন্তাধারার জম্ম দেয় বা অনুপ্রেরণা যোগায়। আর এ নব চেতনার বিকাশই ক্রিয়াবাদী সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট কে মার্টন অত্যন্ত সুন্দর ও দক্ষতার সাথে সামাজিক কাঠামোগত ক্রিয়াবাদীতত্ত্ব প্রদান করেন। মর্টান বর্ণিত ক্রিয়াবাদী তত্ত্বের উদ্দেশ্য: রবার্ট কে মর্টানের ক্রিয়াবাদী তত্ত্বের তিনটি উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা: ১।ক্রিয়াবাদ এর রক্ষণশীল মতবাদকে খন্ডন করা। ২। Funcitional Analysis প্রত্যয়গত এ তাত্ত্বিক কাঠামো বিস্তৃত করে। ৩। সমাজবিজ্ঞান তত্ত্ব তৈরীর কৈশল আবিষ্কার করে। উপরিউক্ত তিনটি উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে মর্টান তিনটি বৈশিষ্ট্য এর কথা বলেন। যথা- ১।সমাজব্যবস্থার ক্রিয়াগ...

মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য কী কী?

Image
রবার্ট কে মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা ভূমিকা:- সমাজবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট কে মার্টনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি সরাসরি বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেননি বরং এর সাথে সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন। তিনি মূলত কইয়াবাদী দৃষ্টিকোণ থেকেই আমলাতন্ত্রের ধারণা দেন। তিনি ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আমলাতন্ত্র তত্ত্বের সমালোচনামূলক পুনর্মূল্যায়ন করে নিজের একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করান, যা পরিচিত মার্টন অমলাতন্ত্র নামে। রবার্ট কে মার্টন আমলাতন্ত্রকে একটি কাঠামোবদ্ধ সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, যেখানে বিভিন্ন দাপ্তরিক আচরণ, নিয়ম-কানুন, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। রবার্ট কে মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ  রবার্ট কে. মার্টন তার ব্যাখ্যায় আমলাতন্ত্রকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের নিরিখে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, আমলাতন্ত্র কাঠামোগতভাবে কার্যকর হলেও, অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে। নিচে মার্টন এর আমলাতন্ত্রের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো- ১। মার...

রাজনীতি কাকে বলে? গ্রামীণ রাজনীতির সাথে জাতীয় রাজনীতির সম্পৃক্ততা আলোচনা

Image
রাজনীতি কাকে বলে? গ্রামীণ রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির সম্পৃক্ততা ভূমিকা:- বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশের ধনী-গরীব সকলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। যে কারণে এখানে সবাই সমান ও সবাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করে। কারণ আমাদের দেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক দল রয়েছে। রাজনৈতিক দল একটি দেশের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ, রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। রাজনীতির সংজ্ঞা: রাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Politics যার বাংলা অর্থ হলো রাজনীতি।রাজনীতি হলো একটি বিশেষ দলের বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে ক্ষমতা সম্পর্ক স্থাপন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। যখন কোন বিশেষ দল সরকার গঠন করার প্রত্যয় নিয়ে জনগণ ও সরকারের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করে তখন তাকে রাজনীতি বলে। কারণ, রাজনীতির মাধ্যমে একটি দেশের সরকার ও জনগণের মাঝে এক বিশেষ ধরনের সম্পর্ক বিরাজমান করে যা দেশের উন্নয়নে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।রাজনীতি হলো জনগণের অধিকার আদায়ের একটি মাধ্যম। রাজনীতির মাধ্যমেই জনগণের সকল ধরনের অধিকার রক্ষা হয়। রাজনীতি হলো জনগণের সাথে সরকারের সেতুবন্ধন। বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিস্টটল বলেন ''যে সমাজে...

পল্লী কবি জসীম উদ্দীন এর জীবনী লিখ

Image
পল্লী কবি জসীম উদ্দীন এর জীবনী ভূমিকা:- বাংলা সাহিত্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র পল্লী কবি জসীম উদ্দীন। গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতি, জীবনধারা, আবেগ-অনুভূতি এবং প্রকৃতির সহজ-সরল রূপ তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার অবদান অনন্য। তিনি কেবল কবি ছিলেন না, ছিলেন একাধারে গীতিকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। তার সাহিত্যকর্মে গ্রামীণ জীবনের যে আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি: জসীম উদ্দীনের জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তার নানাবাড়িতে। তার পূর্ণ নাম ছিল মোহাম্মাদ জমীর উদ্দীন মোল্লা, তবে ডাকনাম ছিল 'জসীম উদ্দিন', এবং লেখালেখিতে তিনি এই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার পিতা আনসার উদ্দিন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক, আর মাতা আমিনা খাতুন ছিলেন একজন মমতাময়ী গৃহিণী। শিক্ষাজীবন: ছোটবেলা থেকেই জসীম উদ্দীন ছিলেন মেধাবী ও সংস্কৃতিমনস্ক। প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২১ সালে প্রবেশিকা পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে বিএ (১৯২৯) ও এমএ (১৯৩১) ডিগ...

প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ কী? অহঃবোধ বা অহমবোধ কি?

Image
প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ ও অহমবোধ কী? ভূমিকা:- সামাজিক মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারণা হলো প্রতীকী মিথস্ক্রিয়া ও অহমবোধ। সমাজে মানুষের আচরণ, সম্পর্ক ও আত্মচেতনার ব্যাখ্যায় এই দুটি ধারণা অপরিহার্য। সামাজিক মনোবিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ। প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ মূলত একটি সামাজিক মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি, যা সমাজবিজ্ঞানের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। এটি বিমূর্ত সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তে মানবিক ব্যবহারের মূর্ত দিক। এই প্রত্যয়টি প্রথম জর্জ হারবার্ট মিড এবং হারবার্ট ব্লুমার ব্যবহার করেন। প্রতীকী মিথস্কিয়ার সংজ্ঞা: সাধারণভাবে বলা যায় যে প্রতীকী মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে সমাজস্থ মানুষের কার্যকরণ সম্পর্ক। আর এই কার্যকরণ সম্পর্ক যখন ভাষা কিংবা প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তথন তাকে প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ বলে। প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ প্রামাণ্য সংজ্ঞা: B. Sushmar তাঁর Dictionary of sociology (1987) গ্রন্থে বলেন ''প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ হলো মানুষের সামাজিক জীবনের যোগাযোগ এবং আন্তঃক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যের একটি আদর্শ রুপ যা ভাষা কি...

বাংলাদেশের গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমস্যাসমূহ অলোচনা কর

Image
বাংলাদেশের গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমস্যাসমূহ ভূমিকা:- বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশের সকল ধরনের কার্যক্রমে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। আমাদের দেশের সকল কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য রাজনীতি বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে আমাদের দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সমস্যাসমূহ বাংলাদেশের গ্রামীণ রাজনীতিতে অংশগ্রহণে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তা নিম্নে তুলে ধরা হলো। ১। রাজনৈতিক অবস্থা: আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা গ্রামাঞ্চলে তেমন কোন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি এর মূল কারণ গ্রামের মানুষ সাধারণত রাজনীতি পছন্দ করেনা। আর গরামের সকল জায়গায় মানুষ প্রত্যাশা করে কৃষি পণ্য সার, বীজ, তেল সরবরাহ এসব তাই তারা রাজনীতিতে তেমন মনোনিবেশ করে না। ২। অর্থনীতি: গ্রামের মানুষের অর্থনীতি তেমন উন্নত নয়। তারা সাধারণত দিন আনে দিন খায়। আমাদের দেশে সকল কার্যক্রমে অর্থনীতি একটি মানদন্ড হিসেবে কাজ করে। গ্রামীণ অর্থনীতি অবস্থা দুর্বল হওয়ায় গ্রামের রাজনীতি তেমন একটা প্রসার লাভ করে না। ৩। যোগাযোগ ও পরিবহন সমস্যা: আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন একটা উন...