মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

রবার্ট কে মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা

ভূমিকা:- "আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম প্রভাবশালী তাত্ত্বিক রবার্ট কে. মার্টন আমলাতন্ত্রকে একটি ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করেছেন। যদিও আমলাতন্ত্রের চিরাচরিত ধারণা দিয়েছিলেন ম্যাক্স ভেবার, তবে মার্টন তাঁর ক্রিয়াবাদী (Functionalist) দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, আমলাতন্ত্রের নিয়মকানুন সবসময় সুফল আনে না। তিনি বিজ্ঞানের যুক্তির সাথে সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।

মার্টনের মতে, আমলাতন্ত্র হলো এমন একটি আদর্শ প্রশাসনিক কাঠামো যেখানে কঠোর নিয়মাবলি অনুসরণ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় এই নিয়মগুলোই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আজকের পোস্টে আমরা রবার্ট কে. মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে আলোচনা করব।"

মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য

মার্টন ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত আমলাতন্ত্র তত্ত্বের সমালোচনামূলক পুনর্মূল্যায়ন করে নিজের একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করান, যা পরিচিত মার্টন অমলাতন্ত্র নামে। রবার্ট কে মার্টন আমলাতন্ত্রকে একটি কাঠামোবদ্ধ সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, যেখানে বিভিন্ন দাপ্তরিক আচরণ, নিয়ম-কানুন, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত।

রবার্ট কে মার্টনের আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ

রবার্ট কে. মার্টন তার ব্যাখ্যায় আমলাতন্ত্রকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের নিরিখে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, আমলাতন্ত্র কাঠামোগতভাবে কার্যকর হলেও, অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে। নিচে মার্টন এর আমলাতন্ত্রের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো-

১। মার্টন বর্ণিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অনেক ধরনের অফিসের সন্নিবেশ। অর্থাৎ কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় যেখানে আমলারা কার্য সম্পাদন করবে।

২। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি পদমর্যাদা নির্ধারণ করে কিছু দায়িত্ব এবং সুবিধাদি যা সুনির্দিষ্ট বিধি দ্বারা সংজ্ঞায়িত ও সীমিত।

৩। স্তরবিন্যাসের মাধ্যমে প্রত্যকটি পদমর্যাদা নিরধারিত।

৪। মার্টনের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কিছু অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব, কর্তব্য এ দক্ষতা থাকে।

৫। স্বীকৃত পদমর্যাদা হতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতায়ে কর্তৃত্ব উদ্ভূত হয়। আর, এই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ব্যক্তির নিজের হাতে থাকে না বরং অফিসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। ব্যক্তি শুধু দাপ্তরিক ভূমিকা পালন করে মাত্র।

৬। মূলত সকল দাপ্তরিক কার্যাবলি সংগঠনের পূর্ব নির্ধারিত বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করা হয়।

৭। সাধারণত বিভিন্ন অফিসের অনুমোদন প্রাপ্ত আন্তঃসম্পর্ক ব্যাপক আকারের আনুষ্ঠিকতা এবং পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সুসংজ্ঞায়িত সামাজিক দুরত্বকে বুঝায়।

৮। অফিসের আনুষ্ঠিকতা অথবা আমলাতান্ত্রিক কর্মক্ষেত্র মূলত জটিল সামাজিক আচারাদির বহিঃপ্রকাশ, যা অফিসগুলোর নিয়মবদ্ধতার মধ্যে প্রতীকী রুপ নিয়ে তাকে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

৯। সংগঠনের নির্ধারিত বিধিবিধানের আলোকে বিভিন্ন সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

১০। ক্ষমতা বিন্যাসের সাথে সম্পৃক্ত আনুষ্ঠানিকতার কারণে, অন্যদের পরিমাপ করার ক্ষমতা একে অপরের আচরণের মধ্য দিয়ে একটি স্থায়ী ধরন তৈরী হয়।

১১। আনুষ্ঠিকতা বিভিন্ন পদস্থ কর্মচারীর আন্তঃক্রিয়াকে মসৃণ করে যদিও কোন ব্যক্তির মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব থাকে।

১২। অধীনস্থজনরা উর্ধ্বতনদের স্বেচ্ছাচার থেকে রক্ষা পায় কারণ উভয়েই স্বীকৃত বিভাগের আওতায় পড়ে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, আধুনিক সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট কে মার্টন অন্যতম একজন। তিনি সমাজবিজ্ঞানের যেসকল তত্ত্ব প্রদান করেছেন তারমধ্যে আমলাতন্ত্র অন্যতম। তিনি আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে আমলাতন্ত্রের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।তিনি দেখিয়েছেন, আমলাতন্ত্র শুধু কাঠামোগত নয় বরংএকটি জীবন্ত সামাজিক প্রক্রিয়া যার মধ্যে ক্ষমতা, দায়িত্ব, নিয়ম, আচরণ ও আনুষ্ঠানিকতা মিলেমিশে কাজ করে।তিনি মূলত ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্রের প্রক্ষিতে এ সম্পর্কে তার ধারণাটি সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করেন যা মার্টনের আমলাতন্ত্র নামে পরিচিত।

shikhaprotidin

I have a Master's degree in Sociology from the National University and I run my sociology and education platform Shikhaprotidin.com to help students.

নবীনতর পূর্বতন