Posts

Showing posts from December, 2025

বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) সংশোধন ও হারানো কার্ড পুনরুদ্ধারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

Image
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) সংশোধন ও হারানো কার্ড পুনরুদ্ধারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (National ID Card বা NID)।  জাতীয় পরিচয়পত্র শুধু একটি কার্ড নয়।এটি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনার আইনগত পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক ও  ভোটদান, পাসপোর্ট, ব্যাংক একাউন্ট খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি কাজের অপরিহার্য দলিল।  তাই এটি সংরক্ষণ, তথ্য হালনাগাদ ও প্রয়োজনে পুনরুদ্ধার করা প্রত্যেক নাগরিকের নিজ দায়িত্ব। আজ আমরা সে সম্পর্কে জানবো  NID কার্ডে ভুল তথ্য সংশোধন করার নিয়ম  হারানো NID কার্ড পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া  অনলাইনে NID সংক্রান্ত আবেদন করার ধাপসমূহ  ১. জাতীয় পরিচয়পত্রের ধরন বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি ধরণের NID কার্ড প্রচলিত রয়েছে: স্মার্ট কার্ড (Smart NID Card):  চিপযুক্ত, প্লাস্টিকের কার্ড যা বায়োমেট্রিক ডেটা ধারণ করে। লেমিনেটেড NID কার্ড (Old NID):  পূর্বের কাগজ-ভিত্তিক লেমিনেটেড কার্ড, যা এখন ধীরে ধীরে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে। ২. NID কা...

বর্তমান অর্পিত সম্পত্তি আইনের বৈশিষ্ট্য লেখ

Image
অর্পিত সম্পত্তি আইনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা : অর্পিত সম্পত্তি আইন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত আইন। মূলত ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তান সরকার ভারতে চলে যাওয়া নাগরিকদের সম্পত্তিকে “শত্রুসম্পত্তি” হিসেবে ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর “অর্পিত সম্পত্তি” নামে পরিচিত হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পত্তিগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত প্রদান নিশ্চিত করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইনটি সংশোধন ও সংস্কারের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে প্রণীত হয়েছে, যাতে এর প্রয়োগে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সংখ্যালঘু নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা যায়। বর্তমানে ২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন এবং ২০১১ সালের সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সরকারের দখলে থাকা ও বেসরকারি দখলে থাকা সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন, সহ-অংশীদারদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বার্থে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে অর্পিত সম্পত্তি আইনের বৈশিষ্ট্য: নিচে বর্তমানে অর্পিত সম্পত্তি আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো। ১। 'ক...

অর্পিত সম্পত্তি আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর

Image
অর্পিত সম্পতি আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ভূমিকা : ব্রিটিশ উপমহাদেশের কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। আর ১৯৬৫ সালে এ বিরোধের জের ধরে দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধে যারা পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শত্রুসম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন সরকার মহামান্য রাষ্ট্রপতির ৪নং অধ্যাদেশ দ্বারা শত্রুসম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তিকে হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্পিত সম্পত্তি আইনের সূচনা ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালীন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার “Defence of Pakistan Ordinance” নামে একটি প্রতিরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। এর আওতায় “Pakistan Defence Rules” প্রণয়ন করা হয়, যার ১৮২(১)(খ) ধারায় “শত্রুসম্পত্তি” চিহ্নিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্ব...

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অর্পিত সম্পত্তি আইনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর

Image
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু অবস্থানের জন্য শত্রুসম্পত্তি আইনের ভূমিকা ভূমিকা : ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তবিরোধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে যারা পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন, তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে পাকিস্তান সরকার “শত্রুসম্পত্তি” ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে সরকার ঘোষণা দেয় যে, ভারতে চলে যাওয়া ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের শত্রু এবং তাদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অধীনে থাকবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ নং ২৯ এর মাধ্যমে পাকিস্তান আমলের সেই ‘শত্রুসম্পত্তি আইন’-এর অনেক ধারাই হুবহু গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীকালে “অর্পিত সম্পত্তি আইন” নামে পরিচিতি পায়। স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী এই আইনের ফলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের জমি, ঘরবাড়ি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি এমনকি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিও কেড়ে নেওয়া হয়। শত্রুসম্পত্তি আইনের উৎপত্তি ও বিকাশ: ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তানের অ...

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের বর্ণনা দাও।

Image
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের চিত্র ভূমিকা :  ধর্ম মানবজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতিষ্ঠান। সমাজে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে বসবাস করে আসছে। একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তবে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক স্বার্থ, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব বা ধর্মান্ধতার কারণে এই সম্প্রীতির বন্ধনে ফাটল দেখা দেয়। ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তখন নানা নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়, যা দেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণ: বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলমান, বাকি অংশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। ফলে ইসলাম এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম, আর অন্যান্য ধর্ম সংখ্যালঘু। ইতিহাসে দেখা যায়, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনাই ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য একটি স্ব...

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

Image
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর ভূমিকা : কোনো দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় কোনো ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা যদি তুলনামূলকভাবে কম হয়, তাহলে সেই ধর্মকে সংখ্যালঘু ধর্ম বলা হয় এবং সেই ধর্মের অনুসারী গোষ্ঠীকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, একটি দেশের প্রধান বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের তুলনায় অন্য ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা সীমিত হলে, তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত হয়। ধর্মীয় সংখ্যালঘুত্ব কেবল সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের দিক থেকেও নির্ধারিত হয়। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বৈশিষ্ট্য নিম্নে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো- ১. সংখ্যাগত নির্ধারণ : ধর্মীয় সংখ্যালঘুত্বের সবচেয়ে মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সংখ্যা। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি যদি একটি ধর্মের অনুসারী হয়, তবে সেই ধর্মকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলা হয়, আর অন্য সব ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু হিসেবে গণ্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ইত্যাদি ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু। ২. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নির্ধারণ : অনেক সময় কোনো দেশে একাধিক স...

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আলোচনা কর

Image
সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সম্পর্কে মতামত ভূমিকা : বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ। এখানে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও নানা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, উপজাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সংবিধানে সকল নাগরিকের সমঅধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর এবং ভবিষ্যতে এর টেকসই বাস্তবায়ন কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে মতামত প্রদান করা হলো। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় নানা নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করে তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমত , সরকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছে— ১. পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি উপজাতীয় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী; ২. সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ (য...

শত্রু সম্পত্তি আইন কী? 'ত্রিত্ববাদ' বলতে কী বুঝ

Image
শত্রু সম্পত্তি আইন ও  ত্রিত্ববাদ বলতে কী বুঝ ? ভূমিকা : ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে তখন যারা তাদের সম্পত্তি রেখে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ আগ করে ভারতে স্থায়ীভাবে চলে গিয়েছিল তাদের হলয়িগুলোই শত্রু সম্পত্তি নামে অভিহিত। ১৯৭৪ সাল থেকে এর নাম অর্পিত সম্পত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সালে এ আইনের কিছু সংশোধনী হয়। শত্রু সম্পত্তি আইন: ভূমিসংক্রান্ত যে আইনে শত্রু সম্পত্তিকে স্বর্ণিত সম্পত্তি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটাই শত্রু সম্পত্তি আইন। ১৯৯৫ সালে 'ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস' ঘোষিত বিধিমালা অনুসারে ১৯৬৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব নাগরিক পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে যায় তাদের পরিতাক্ত সম্পত্তি 'শত্রু সম্পত্তি হিসবে তালিকাভুক্ত হয়। এয়ায় ১৯৭৪ সালে 'শত্রু সম্পত্তি এম শরিবর্তন করে "অর্পিত সম্পত্তি" রাখা হয়। এ সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে মূল মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে "হদির সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ২০০১" প্রণয়ন করা হয়। তবে তা বস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা জারি না করায় আইন সুগার দীর্ঘকাল কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ ...

অর্পিত সম্পত্তি আইনের প্রধান প্রধান উপাদানসমূহ লিখ

Image
অর্পিত সম্পত্তি আইনের প্রধান উপাদানসমূহ লিখ ভূমিকা :  ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের অনেক নাগরিক তাদের নিজস্ব সম্পত্তি ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এই সম্পত্তিগুলোকে 'শত্রু সম্পত্তি' নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৭৪ সালে এই আইনটির নাম পরিবর্তন করে 'অর্পিত সম্পত্তি আইন' করা হয়। ২০১১ সালে এই আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়। অর্পিত সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে শত্রু সম্পত্তির অধিকার সুনির্দিষ্ট করা হয় এবং যারা এসব সম্পত্তির মালিক তারা কীভাবে তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারে, সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়। এই আইনটি সুষ্ঠু সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। অর্পিত সম্পত্তি আইনের প্রধান উপাদানসমূহ: এ আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিচে আলোচনা করা হলো: ১. সম্পত্তির তালিকা ও আবেদন প্রক্রিয়া : অর্পিত সম্পত্তি আইনের প্রথম উপাদান হলো 'ক' এবং 'খ' তফসিলের মাধ্যমে সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ। 'ক' তফসিলে সরকারের দখলে থাকা সম্পত্তির তালিকা রয়েছে এবং 'খ' তফসিলে সরকারের দখলে না থাকা কিন্তু ব্য...

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ডিনোমিনেশন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমস্যাসমূহ

Image
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ডিনোমিনেশন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমস্যাসমূহ ভূমিকা :  বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সহাবস্থান করে আসছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের ডিনোমিনেশন বা শাখা বিদ্যমান, যেগুলোর আচার-অনুষ্ঠান এবং বিশ্বাসের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু খ্রিষ্টান ডিনোমিনেশন প্রচলিত এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায় মিশ্রিত হয়ে বসবাস করে। এই প্রতিবেদনে আমরা বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ডিনোমিনেশনগুলো আলোচনা করবো। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ডিনোমিনেশনসমূহ ১. রোমান ক্যাথলিক: রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় একটি খ্রিস্টান শাখা। এই শাখার মানুষরা পোপের নেতৃত্বে পরিচালিত চার্চভিত্তিক ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণ করেন। রোমান ক্যাথলিকদের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান যেমন পাপধারা, প্রার্থনা, বাপ্তিস্ম, এবং Eucharist (পবিত্র আহার) পালন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান বসবাস করেন। প্রধান শহরগুলোতে যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুরে ক্যা...

কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন কি? উপজাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকারভেদ ও উপাদানসমূহ আলোচনা

Image
কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন কি? উপজাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকারভেদ  ও উপাদান আলোচনা ভূমিকা : নৃবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা হলো রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান, যা মানুষের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করে। এটি মূলত মানুষের সমাজে রাজনৈতিক আচরণ, ক্ষমতা, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। রাজনীতি শুধুমাত্র রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি মানুষের জীবনযাত্রা, সামাজিক সম্পর্ক, এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও নিবিড়ভাবে জড়িত। রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান বিশেষভাবে দুটি ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন কেন্দ্রীভূত (centralized) ও অ-কেন্দ্রীভূত (decentralized) এর বিশ্লেষণ করে। এই আলোচনায়, আমরা কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন ও উপজাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের উপাদানসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন: কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক সংগঠন বা Centralized Political System হলো একটি সমাজব্যবস্থার এমন রূপ, যেখানে ক্ষমতা একটি কেন্দ্রে, বা বিশেষত কোনো এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। প্রাচীন সমাজগুলোর মধ্যে Band এবং Tribe গোষ্ঠী যখন বড় হতে শুরু করে, তখন সমাজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা...

ব্যান্ড সংগঠন কি? ব্যান্ড রাজনৈতিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

Image
রাজনৈতিক সংগঠন ব্যান্ডের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, কাঠামো এবং সমাজে এর ভূমিকা ভূমিকা : নৃবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রবিহীন সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আদিম সমাজে, বিশেষত শিকার ও সংগ্রহ সমাজে ব্যান্ড রাজনৈতিক সংগঠন একটি মৌলিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ব্যান্ড সংগঠন একটি ক্ষুদ্র, স্বশাসিত গোষ্ঠী, যা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমন্বিত ছিল। এই ধরনের সংগঠন মূলত এমন একটি সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে যেখানে সম্পদ, সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্ব সবার মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা হয়। ব্যান্ড রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণা প্রভাবিত ছিল না এবং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লেখায় ব্যান্ড সমাজের বৈশিষ্ট্য এবং এর কাঠামো সম্পর্কিত আলোচনা করা হবে। ব্যান্ড সংগঠন ব্যান্ড সংগঠন শব্দটি সাধারণত একটি আদিম সামাজিক কাঠামো নির্দেশ করে, যেখানে ২৫-৩০ জন সদস্য একত্রিত হয়ে সমানাধিকারে জীবনযাপন করে। নৃবিজ্ঞানী এটি ব্যবহার করেন প্রাথমিক জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার জন্য, যারা একে অপরের সাথে শিকার, সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জীবনধারণ করে। এই সমাজে...

বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর জীবনী

Image
জ্ঞানের সাগর ও সমাজ সংস্কারের পথিকৃৎ বাংলা গদ্যের জনক  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী ভূমিকা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০ – ১৮৯১) ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, লেখক এবং গদ্যকার। তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য, মানবতাবাদী চিন্তা ও নির্ভীক সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রম তাঁকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য দক্ষতার জন্য তিনি “বিদ্যাসাগর” (অর্থাৎ জ্ঞানের সাগর) উপাধি লাভ করেন। জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন : ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (১২ আশ্বিন ১২২৭ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন দরিদ্র ব্রাহ্মণ, যিনি জীবিকার জন্য কলকাতায় পুরোহিতের কাজ করতেন। মাতা ভগবতী দেবী ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও স্নেহময়ী নারী, যিনি ছেলেকে সততা ও পরিশ্রমের শিক্ষা দেন।  অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যেও ঈশ্বরচন্দ্র অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শিক্ষা অর্জনের জন্য ছোটবেলায় পায়ে হেঁটে বীরসিংহ থেকে কলকাতায় আসেন। শিক্ষা জীবন: ১৮২৮ সালে তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ...