Posts

Showing posts from December, 2024

জর্জ হোমান্স এর সামাজিক আচরণ সম্পর্কিত প্রধান নীতিমালা ব্যাখ্যা কর

Image
জর্জ হোমান্সের সামাজিক আচরণ সম্পর্কিত প্রধান নীতিমালা বা বিনিময় তত্ত্ব আলাচনা ভূমিকা:- জর্জ ক্যাসপাস হোমান্স একজন আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ। এই চিন্তাবিদ ক্ষুদ্র গোষ্ঠির সামাজিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অগ্রসরমান পরীক্ষালব্ধ পূর্বানুমান এবং ব্যাখার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃৎ তাত্ত্বিক হিসেবে সমাদৃত। এই তাত্ত্বিক সমজাবিজ্ঞানী ট্যালকট পারসন্স এর সাথে দীর্ঘদিন ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন। বিনিময় তত্ত্ব ও স্তরায়ন তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানী হোমান্সের দুইটি উল্লেখযোগ্য তাত্ত্বিক অবদান। জর্জ হোমান্স-এর সামাজিক বিনিময় তত্ত্ব: জর্জ ক্যাসপাস হোমান্স-এর একটি যুগান্তকারী তত্ত্ব হলো সামাজিক বিনিময় তত্ত্ব। নিম্নে তাঁর এই তত্ত্বটি আলোচনা করা হলো- সামাজিক বিনিময় তত্ত্বের প্রাথমিক ধারণা: সামাজিক বিনিময় তত্ত্ব বলতে সাধারণ অর্থে সেই তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বুঝানো হয়েছে যেখানে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা দলের মধ্যকার সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করা হয়। সামাজিক বিনিময় তত্বের মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, যা গঠিত হয় Subjective cost benefit analysis এবং Co...

পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের মধ্যে ৫ টি পার্থক্য লেখ

Image
পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের মধ্যে পাঁচটি পার্থক্য ভূমিকা:- পরিবার হলো বাবা মা ভাই বোন একত্রে বসবাস করার নাম। পরিবার ছাড়া সমাজ গঠিত হয় না। বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। পরিবারের ধরন দেশ, কাল, পাত্র, ক্ষমতা, আবাসন ইত্যাদি ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। পরিবারের প্রধান দুটি ধরন হলো পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক। এ পরিবার সাধারনত পরিবারের ক্ষমতা কাঠামোর উপর নির্ভর করে গড়ে উঠে। অর্থাৎ বলা যায় পরিবারের ক্ষমতা যার উপর ন্যস্ত হবে পুরুষ বা নারী তার উপর ভিত্তি করেই এই পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের উদ্ভব। পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের মধ্যে পার্থক্য পরিবার হলো একটি সর্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। নিম্নে পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের মধ্যে ৫টি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো- ১। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু: যে পরিবারের কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা পরিবারের পিতা, স্বামী বা বয়স্ক কোনো পুরুষের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার বলে। অর্থাৎ বয়স্ক পুরুষ এখানে ক্ষমতা ধারন করে। অপরদিকে, যে পরিবারের ক্ষমতা পরিবারের মাতা, স্ত্রী বা বয়স্ক কোনো নারীর হাতে থাকে তাকে মাতৃতান্ত্রিক পর...

সামন্ততন্ত্র বলতে কি বুঝায়? সামন্ততন্ত্র পতনের কারণ লিখ

Image
সামন্ততন্ত্র বলতে কি বুঝায়? সামন্ততন্ত্র পতনের কারণসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর মধ্যযুগে ইউরোপে বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপে দাসপ্রথা নির্ভর সমাজব্যবস্থায় অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার কারণে একসময় দাসপ্রথা সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, ঠিক তখনই নতুন একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠে যার নাম সামন্তপ্রথা। দাসপ্রথার পর এটি নতুনভাবে রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে ভূমি ব্যবস্থায় সামরিক কাঠামোর মাধ্যমে নতুন প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলে যা ইতিহাসে সামন্তপ্রথা নামে পরিচিত। সামন্ততন্ত্র সংজ্ঞা: *feudalism* বা সামন্তবাদ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ *Feodalis* এবং ফরাসি শব্দ *Feodalite* থেকে। যা Feud বা Fief থেকে এসেছে। Feudalism শব্দটির অর্থ হচ্ছে সামন্ত প্রভূদের অধীনস্থ ভূখন্ড। fief এর মালিক বা লর্ডদেরকে খাজনার শর্তসাপেক্ষে যেসব কৃষক বা প্রজারা জমি চাষাবাদ করতো তাদেরকে সামন্ত বা vassal বলা হতো। একই অর্থে সম্রাটের vassal ছিলো রাজা বা সামন্ত প্রভুরা। কারণ এই সামন্তপ্রভূরা vassal দের মতো সম্রাটকে খাজনা দিত অথবা vassal এর প্রয়োজনে ভূমি গ্রহণকারী সামন্তপ্রভূরা তাদের সা...

ট্যালকট পারসন্স এর সামাজিক ক্রিয়াতত্ত্ব আলোচনা কর

Image
ট্যালকট পারসন্সের সামাজিক ক্রিয়াতত্ত্ব আলোচনা ভূমিকা:- আদর্শ, উদ্দেশ্য, প্রকৃত ও চিন্তন প্রক্রিয়ার স্বকীয়তার কারণে ট্যালকট পারসন্স এর চিন্তা ভাবনা কিছুটা অতীত ও বিচ্ছিন্ন। তবুও তিনি সমাজবিজ্ঞান অর্থনীতি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজবিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতিতে কার অবদান সর্বাধিক। তিনি মূলত ক্রিয়াবাদী তাত্ত্বিক। তাঁর চিন্তাধারা জটিল ও বিমূর্ততায় আচ্ছন্ন। ট্যালকট পারসন্স-এর সামাজিক ক্রিয়াতত্ত্ব: সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে ট্যালকট পারসন্স এর অবদান অতুলনীয়। তিনি তার *Classical Theory* (শাস্ত্রীয় তত্ত্ব) ব্যবহার করে আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্বসমূহ দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। ক্রিয়াবাদী সমাজবিজ্ঞানীদের জগতে ট্যালকট পারসন্স এর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত। পারসন্স ছিলেন একজন Micro Sociologist। তিনি মনে করতেন যে সামাজিক সম্পর্কে সামাজিক কর্মের দ্বারা বিশ্লেষিত হতে পারে। অর্থাৎ পারসন্স অবস্থান বিশ্লেষণে Action বা কর্মের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৩৭ সালে তার বিখ্যাত গ্রন্থ The Structure of Social Action প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে তিনি Social Action সম্পর্কিত তত্ত্বটি প্রদান করেন। ট্যালকট পারস...

সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর। Discuss the importance of sociology lessons

Image
সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা ভূমিকা:- মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করাই তার স্বভাব। সৃষ্টিলগ্নে মানুষ ছিলো অসহায় তাই তারা সমাজ গড়ে তোলে। আর এ সমাজকে নিয়ে আলোচনা করে সমাজবিজ্ঞান। সমাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ও মানুষের আচার-আচরণ জীবনযাত্রা প্রণালী সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এছাড়া সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা সমাজের সাথে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কেও জানা যায়। সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা: মানুষের প্রয়োজনেই সমাজের উদ্ভব। আর সমাজের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের জন্য সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি। সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১। মানব সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ: সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা মানব সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। আদিম যুগে মানুষ কিভাবে বসবাস করত তা জানতে সাহায্য করে এবং তাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিলো তাদের আচার আচরণ, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার অন্যতম উৎস হলো সমাজবিজ্ঞান (sociology)। ২। মানুষ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সমাজের মানুষ সম্পর্ক...

একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর Discuss the origin and evolution of sociology as an independent science

Image
সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ: একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের আবির্ভাব ভূমিকা:- মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে এটাই মানুষের স্বভাব। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। মানুষের এসব সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যই সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি। সমাজবিজ্ঞান একদিনে সৃষ্টি হয়নি; এটি ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে। বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী তাঁদের গবেষণা ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করেছেন। সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁৎ-এর হাত ধরেই সমাজবিজ্ঞানের জন্ম, তাই তাঁকে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: একটি যুগান্তকারী বিজ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ একদিনে হয়নি। এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে বিভিন্ন দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং গবেষকদের চিন্তাভাবনা ও গবেষণার ফলস্বরূপ। নিম্নে সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১. প্লেটোর অবদান: প্লেটো সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তিতে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার আদর্শ ধারণা প্রদান করেছিলেন, যা ছিলো তাঁর "আদর্শ রাষ্ট্র"। তাঁর তত্ত্ব অনুসারে, সমাজের বিভি...

জেমস কোলম্যানের সামাজিক পুঁজির ধরণ আলোচনা কর

Image
জেমস কোলম্যানের পুঁজির ধরণ আলোচনা ভূমিকা:- জেমস স্যামুয়েল কোলম্যান ছিলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিক একজন আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী, তাত্ত্বিক এবং প্রয়োগিক গবেষক। আমেরিকান সমাজবিজ্ঞান সমিতি এর একজন সভাপতি ছিলেন। কোলম্যান শিক্ষা সমাজবিজ্ঞান এবং জননীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সামাজিক পুঁজি প্রত্যয়টি ব্যবহারকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন জেমস কোলম্যান। তাঁর রচিত দুইটি গ্রন্থ The Adolescent Society (1961), এবং Coleman report (Equality of educational oppertunity, 1966) এ শিক্ষা, সমাজতত্ত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচ্য।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষা নীতির পূনর্বিন্যাস, উৎপাদনমুখিতা এবং সমতার অনুঘটক নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোলম্যানের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কোলম্যানের সামাজিক পুঁজি সামাজিক পুঁজি প্রত্যয়টি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন প্রখ্যাত আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী জেমস স্যামুয়েল কোলম্যান। তিনি তাঁর Fundations of social Theory গ্রন্থে সামাজিক পুঁজি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন অসংখ্য সম্পদ পারিবারিক সম্পর্ক এবং সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠনের মধ্যে পাওয়া যায়। তিনি ব...

CERD কী? CERD এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর

Image
CERD সংজ্ঞা এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা ভূমিকা:- CERD স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ কোনভাবেই তার নাগরিক তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক,সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যর ভিত্তিতে তাদের সাথে কোনরুপ অসম রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করবে না, কোনো জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় আইন বৈষম্যের ভিত্তিতে প্রণয়ন করবে না। CERD চুক্তি: জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ১৯৬৫ সালে ২১ শে ডিসেম্বর পৃথিবীর সর্বপ্রথম বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণে একটি সাধারণ সনদ উপস্থাপন করা হয়। যাতে পৃথিবীর অধিকাংশ কার্যাবলির ১৯ নং প্রতিবেদন হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়। এই অধিবেশনকে বলা হয় ‘‘convention on the elimination off all forms of racial discrimination’’ বা CERD. সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার কনভেনশনের এই অধিবেশনে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাকে CERD চুক্তি বলা হয়। Cerd লক্ষ্য-উদ্দেশ্য CERD এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: CERD চুক্তি মূলত তৎকালীন সময়ে বিশ্ববাস্তবতার সাথে কতকগুলো বিষয়কে সামনে রেখে কিছু সাধারণ সমস্যা দূরীকরণের উদ্দেশ্য নিয়েই স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: বিশ্বের প্রতিটি মানুষ এবং জীব ও প্রাণী জম্মগতভাবে স্ব...

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর

Image
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা ভূমিকা:- রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান (political sociology) হলো মূলত একটি মিশ্র প্রকৃতির বিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সমন্বয়ে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান লাভ করে। এই দুই বিজ্ঞানের মধ্যে চলমান সংযোগ সম্পর্কের ফলে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের আবির্ভাব হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর পূর্ব থেকেই মানুষের জ্ঞান চর্চার অগ্রগতির ফলেই সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমূহ পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শাখাগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়। আর এই শাখাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের আবির্ভাব মূলত আধুনিককালে। যদিও এর আবির্ভাব আধুনিককালে তারপরও এর বিকাশ এখনও বর্তমান। বর্তমানে বিশ্বের গতিশীল রাজনীতিতে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বের নতুন নতুন ধারা সংযোজিত হচ্ছে যার ফলে মানুষের নিকট রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ সমূহের মধ্যে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের আবির্ভাব মূলত আধুনিককালে। এটি উদ্ভব আধুনিককালে হলেও এর বিকাশ এখনও বর্তমান। বর্তমান বিশ্বের গতিশীল রাজনীতিতে রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানে নতুন নতুন ধারা স...

সুশীল সমাজ বলতে কী বোঝায়? সুশীল সমাজের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

Image
সুশীল সমাজ কী? সুশীল সমাজের বৈশিষ্ট্য আলোচনা ভূমিকা:- একটি গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার জন্য এবং উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সুশীল সমাজ বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ, সুশীল সমাজ সবসময় সরকার ও রাষ্ট্রের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রাখে যাতে দেশের জনগণ এবং সরকার উভয় রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ,জনগণ সরকারের আনুগত্য প্রকাশ করে আর সরকার সবসময় জনগণের জন্য কাজ করে। সুশীল সমাজের সংজ্ঞা: সুশীল সমাজ যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Civil Society. সুশীল সমাজ বলতে বুঝায় এমন এক ধরনের গোষ্ঠীকে যারা সবসময় জনগণের জন্য কল্যাণের কাজ করে। সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ স্বতন্ত্র এরা কোন রাজনীতি করে না। কারণ এরা কোন দলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে না, হোক সরকারি দল বা অন্য বিরোধী কোন দল। সুতরাং সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত না থেকে সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে। সুশীল সমাজ প্রামাণ্য সংজ্ঞা: বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সুশীল সমাজের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে সুশীল সমাজ সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীদের কয়েকট...

বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির পার্থক্য লিখ

Image
বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা ভূমিকা:- মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে তাদের চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন আবিষ্কার করে এবং তা তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে যা তাদের সংস্কৃতি বহন করে। মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিচার, বিবেচনা, কলাকৌশল ইত্যাদি দ্বারা আবিষ্কার করে এসব বস্তু সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে। আর এ বিষয়গুলো মানুষের নৈতিক থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা, জ্ঞানের অগ্রগতি সাধন সবই সংস্কৃতির অবদান। বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির পার্থক্য বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতির পার্থক্য সম্পর্কে জানতে হলে আগে আমাদেরকে বস্তুগত এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি কি সেটা জানতে হবে। বস্তুগত সংস্কৃতি যেসব সংস্কৃতির আকার আছে অর্থাৎ বস্তুগত উপাদান দ্বারা তৈরী বা অস্তিত্ব বিদ্যমান তাই বস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ঘরবাড়ি, দালানকোটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ইত্যাদি। অবস্তুগত সংস্কৃতি যেসব সংস্কৃতির আকার নেই বা দেখা যায় না তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- মানুষের মূল্যবোধ, চেতনা, নীতি, নৈতিকতা এগুলোর সমন্বিত রুপই অবস্তুগত সংস্কৃতি। নিম্...

উন্নয়নশীল দেশ কাকে বলে? উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

Image
উন্নয়নশীল দেশ কাকে বলে? উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- উন্নয়নশীল শব্দটি একটি গতিশীল অবস্থাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, যে সব দেশের জনগণ উন্নত জীবনযাত্রার মানের আশায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে সচেতনভাবে উন্নতির চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। দেশের সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রমশ উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যৎ এ এসব দেশের উন্নয়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলে। উন্নয়নশীল দেশের সংজ্ঞা উন্নয়নশীল দেশ বলতে সে সব দেশকে বোঝায় যে সব দেশে কিছুটা অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং ক্রমশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। আবার, উন্নয়নশীল দেশ বলতে স্বল্পোন্নত দেশ বা নিম্ন আয়ের দেশকে বোঝায়। এছাড়া যে সকল দোশের জীবনযাত্রার মান কম, অনুন্নত শিল্পাঞ্চভিত্তিক এবং মানব উন্নয়ন সূচক অপরাপর দেশের তুলনায় নিম্নমুখী সেগুলোকে উন্নয়নশীল দেশরুপে চিহিৃন্ত করা হয়। উন্নয়নশীল দেশসমূহে জনগণের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নত দেশের তুলনায় কম। বস্তুত, উন্নয়নশীল দেশ বলতে উন্নয়নের পথে ক্রমবর্ধমান দেশসমূহকে বোঝায়। উদাহরণস্বরুপঃ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দ...

রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ অলোচনা কর

Image
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ আলোচনা ভূমিকা:- রাষ্ট্র হলো জনগণের চূড়ান্ত আশা ভরসার প্রতীক। মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ স্তরে চাহিদা পূরণ ও অধিকার সংরক্ষণের জন্যই রাষ্ট্রে উৎপত্তি হয়েছে। রাষ্ট্র ছাড়া মানুষের পূর্ণ বিকাশ ঘটতে পারে না। তবে এই রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মাঝে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তির কথা বলেছেন। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদসমূহ রাষ্ট্রে উৎপত্তি সংক্রান্ত যেসব উল্লেখযোগ্য মতবাদ রয়েছে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- ১। ঐশী মতবাদ রাষ্ট্রে উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রথম মতবাদ হলো ঐশী মতবাদ। এ মতবাদের মূল কথা হলো রাষ্ট্র ঐশ্বরিকভাবে সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান।রাষ্ট্র মানুষের সৃষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান নয়। রাজা বা শাসক ঐশ্বরিকভাবেই সৃষ্ট তাই তারা নির্ভূল। তারা যা বলবে তাই সঠিক। কারণ তারা রাজা বা শাসক ঐশ্বরিক সৃষ্টি তাই এজন্য সকলে শাসককে সর্বময় হিসেবে মানতো এবং ভাবতো রাজাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু এ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এটা মেনে নিলে রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠার সম্ভবনা বেশি থাকে।এতে রাষ্ট্রে কল্যাণ ব্যাহত হতে ...

রক্ষণশীলতা কী? রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মধ্যে পার্থক্যসমূহ লিখ

Image
রক্ষণশীলতা কী? রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল সমাজের মধ্যে পার্থক্যসমূহ লিখ ভূমিকা:- মানবসমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল।সময়ের সাথে সাথে সমাজেও লেগেছে ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া। বর্তমান সমাজে আজও দুই ধরনের গোষ্ঠী দেখা যায়। একদল হলো প্রগতিশীল যারা নতুনকে গ্রহণ করতে চায়। অন্যদল হলো রক্ষণশীল যারা পুরাতনকে আকড়ে ধরে পড়ে থাকতে চায়। তারা পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে না। রক্ষণশীলতা সংজ্ঞা রক্ষণশীলতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Conservatism. যার অর্থ নতুন কোন বিষয়কে মেনে না নেওয়া। সাধারণভাবে রক্ষণশীলতা বলতে বুঝায় প্রগতিশীলতার বিপরীত ধারণাকে। অর্থাৎ যে সমাজে পরিবর্তন সহজে মেনে নেওয়া হয়না এবং প্রচলিত সমাজব্যবস্থাকে আকড়ে ধরে ধর্মীয় নীতিবোধ, রীতিনীতি ও আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হয় সে সমাজকে রক্ষণশীল সমাজ বলা হয়। যারা অতীত ঐতিহ্য, ধর্ম, বর্ণ, সংস্কার, কর্ম, পন্থা, প্রথা ইত্যাদি সবকিছুকে অতীত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বজায় রাখতে চায় এবং তারা পরিবর্তনশীল মনোভাব তৈরি করতে পারে না এবং নতুনকে গ্রহণ করার অভ্যাস ও তাদের নেই তারা পুরাতনকে নিয়েই পড়ে থাকতে চায় তাকেই রক্ষণশীল সমাজ বলে। উদাহরণস্বরূপ: সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বী তারা তাদের পুরাতন ঐতিহ...

গণসংখ্যা নিবেশন কী? গণসংখ্যা নিবেশনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর

Image
গণসংখ্যা নিবেশন কী? গণসংখ্যা নিবেশনের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা ভূমিকা:- গণসংখ্যা তত্ত্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণসংখ্যা নিবেশন হলো এমন একটি পরিসংখ্যান প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ায় উপাত্তসমূহকে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভক্ত করে। আবার তথ্যগুলোর উপর ভিত্তি করে গণসংখ্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে আর তার সংখ্যাগুলোর সংখ্যাকে গণসংখ্যা বলে। গণসংখ্যা নিবেশন সীমা নির্ধারণে সহায়তা করে থাকে এবং শ্রেণি অন্তর্ভূক্ত নির্দেশ করে। গণসংখ্যা নিবেশনের ফলে উপাত্ত বিশ্লেষণ সহজ হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চতার উপাত্ত যদি যথাযথভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, তবে আমরা সহজেই বুঝতে পারি কতজন শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার সীমার মধ্যে পড়ে। গণসংখ্যা নিবেশন: গণসংখ্যা নিবেশন হলো চলক (variable) সম্পর্কিত বিস্তৃত এবং বিশৃঙ্খল রাশি যা তথ্যকে সারণিকরনের মাধ্যেমে সংক্ষিপ্ত আকার প্রকাশ করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।গণসংখ্যা নিবেশন বস্তুত কতকগুলো উপাত্তকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে এবং এগুলি কোনভাগে পড়লো অথবা কার অন্তর্ভূক্ত হলো তা দেখাবার জন্য যে সারণি বা টেবিল তৈরি করা হয় ...

সনেট ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জীবনী

Image
সনেট প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত: বাংলা সাহিত্যের এক বিপ্লবী সাধক ভূমিকা:- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনালগ্নে যে কজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব নিজের স্বকীয়তা ও সাহিত্যসাধনার মাধ্যমে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁদের অন্যতম। তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সনেটকার এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক, পাশাপাশি নাটক ও প্রহসনের নতুন ধারার প্রবর্তক। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই কবি কেবল সাহিত্যকেই সমৃদ্ধ করেননি, বরং তাঁর জীবনও হয়ে উঠেছে এক বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময় অধ্যায়। জন্ম ও শৈশবকাল মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশের) যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতার নাম জাহ্নবী দেবী। উচ্চশিক্ষিত এবং সংস্কৃতিবান পরিবারে জন্ম নেওয়া মধুসূদনের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মায়ের কাছেই। পরে শেখপুরার মসজিদের ইমাম মুফতি লুৎফুল হকের কাছে তিনি বাংলা, ফারসি ও আরবি শিখেন। ধর্মান্তর ও শিক্ষা জীবন কলকাতায় হিন্দু কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই মধুসূদন পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৮৪৩ সালে তিনি খ...

মেগাসিটি কি? প্রধান শহর ও মেট্রোপলিটন শহরের মধ্যে পার্থক্য লিখ

Image
মেগাসিটি কি? প্রধান শহর ও মেট্রোপলিটন শহরের মধ্যে পার্থক্য ভূমিকা:- বিশ্বব্যাপী নগরায়ন প্রক্রিয়ায় মেগাসিটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। একটি বিশাল এলাকায় অপরিমেয় বাড়তি জনঘনত্ব নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে এবং একটি নতুন মাত্রার বিকশিত হয়েছে যা অবকাঠামোগত আর্থসামাজিক এ পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি করেছে। মেগাসিটি সংজ্ঞা আধুনিক যুগে মেগাসিটি বলতে এমন মেট্রোপলিটন এলাকাকে বুঝায় যার জনসংখ্যা ১কোটির বেশি। আবার অনেক জনসংখ্যা বিশরদ মনে করেন যে শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি কিলোমিটারে ২০০০ জন ন্যূনতম তাকেই মেগাসিটি বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায় মেগাসিটি বলতে একক মেট্টোপলিটান এলাকাকে বুঝায় কিংবা সমন্বিতভাবে কয়েকটি মেট্টোপলিটান এলাকাকে বুঝায় যোগুলো ধীরে ধীরে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে পড়ে। মেগাসিটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা আদমশুমারীর সংজ্ঞা অনুযায়ী যদি কোন মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা ৫০ লক্ষ বা তার বেশি হয় তবে উক্ত মেট্রোপলিটন এলাকাটিকে মেগাসিটি হিসেবে অভিহিত করা হয়। সর্বশেষ বলা যায় ঢাকাকে বাংলাদেশের একমাত্র মেগাসিটি বলা যেতে পারে। এটি প্রায় দুই দশক ধরে মেগাসিটি হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। ঢাকা শুধু দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রই নয়, বরং এট...