জেমস কোলম্যানের পরিচয়? সামাজিক পুঁজি সংক্রান্ত জেমস কোলম্যানের ধারণাটি ব্যাখ্যা কর

জেমস কোলম্যান- জীবনী, রচনাবলি ও সামাজিক পুঁজি সংক্রান্ত ধারণা ব্যাখ্যা

ভূমিকা: জেমস স্যামুয়েল কোলম্যান শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক একজন আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী, তাত্ত্বিক এবং প্রায়োগিক গবেষক ছিলেন। তিনি আমেরিকান সমাজবিজ্ঞান সমিতির একজন সভাপতি ছিলেন। তাঁর রচিত, "The Adolescent Society (1961) এবং Coleman Repart" গ্রন্থ দুটি শিক্ষা সমাজতত্ত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষানীতির পুনর্বিন্যাস, উৎপাদনমুখিতা এবং সমতার অনুঘটকে নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোলম্যানের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। আজ আমরা জানবো জেমস কোলম্যানের জীবনী ও তার সামাজিক পুঁজি সম্পর্কে ধারণার বিস্তারিত।

জেমস কোলম্যানের পরিচয়? সামাজিক পুঁজি সংক্রান্ত জেমস কোলম্যানের ধারণা

কোলম্যানের জীবনী:

১৯২৬ সালের ১২ মে আমেরিকান সমাজতাত্ত্বিক জেমস স্যামুয়েল কোলম্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ান অঙ্গরাজ্যের বেডফোর্ড নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। কোলম্যানের পিতার নাম ছিল বেডফোর্ড এবং মাতার নাম ছিল Maurine। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বেডফোর্ডে তাঁর বাল্যকাল অতিবাহিত হয়। তাঁরপর তিনি Kentlaky এর Louisuill-তে গমন করেন। ১৯৪৪ সালে গ্র্যাজুয়েশনের পর তিনি ভার্জিনিয়ার একটি ছোট স্কুলে শিক্ষকতার জন্য তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁকে U. S. Navy তে যোগদান করতে হয়। ১৯৪৯ সালে কোলম্যান Purdue বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Chemical Engineering এ B.S ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫১ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বনামধন্য সমাজবিজ্ঞানে বিভাগে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত ক্যামিস্ট হিসেবে Eastman Kodak কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৫৫ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে PHD ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাজবিজ্ঞানী Robert K. Merton প্রখ্যায় পদ্ধতিবিজ্ঞানী Paul Lazarsfeld Sey Maur, Martin Lipset এই তিনজন কোলম্যানের জীবনে ব্যাপক প্রভাব রেখেছিল। মূলত Paul Lazarsfeld এর আগ্রহ ও উদ্দীপনারই তিনি Quantitative Method এবং Mathematical Sociology এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

জেমস কোলম্যান ১৯৫৬ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। কিছুদিন তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে John Hopking বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৭৩ সালে শিকাগোতে প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। তিনি National Opinion Research Center Professor এবং Senior Study Director হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালে তিনি American Sociological Association-এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Richard Posner বচিত Public Intellectualy: A Study of Qeclinc' গ্রন্থে আমেরিকার শীর্ষ ১০০ জন বৃদ্ধিজীবীর মধ্যে কোলম্যানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি Syseymour Martin, Lipset এবং Martin A. Trow এর সাথে শিল্প সমাজবিজ্ঞান (Industrial Sociology) নিয়ে কাজ করেন, যা শিল্প সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি আমেরিকান Union Democracy ও Youth and Education-এর উপর ব্যাপক গবেষণা কর্ম পরিচালনা করেন। তিনি Mathematical Sociology নিয়ে কাজ করেন এবং Introduction to Mathmatical Sociology' গ্রন্থটি রচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব বিশেষ করে Rational Choice Theory এর দিকে ধাবিত হন এবং Foundations of Social Theory গ্রন্থটি রচনা করেন। আমেরিকার চিন্তার জগতে প্রভাব সৃষ্টিকারী এই মহান ব্যক্তি ১৯৯৫ সালের ২৫ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Illinois অঙ্গরাজ্যের শিকাগোতে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

জেমস কোলম্যানের রচনাবলি:

কোলম্যান ২৮টি গ্রন্থ এবং ৩০১টি প্রবন্ধ রচনা করেন, যা তাঁকে সমাজতত্ত্বের এক উচ্চমার্গীয় অবস্থায় সমাসীন করেছে। নিম্নে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো তুলে ধরা হলো-

1. Community Conflict (1955)

2. Union Democracy The Internal Politics of the International Typographical Union (1956)

3. The Adolescent Society (1961)

4. Equality of Educational Opportunity (1966).

5. High School Achievement (1982)

6. Public and Private High School (1987)

7. Foundations of Social Theory (1990)

গুরুত্বপূর্ণ অবদান:

সমাজবিজ্ঞানী জেমস স্যামুয়েল কোলম্যান এর তাত্ত্বিক সমাজবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানের যেসব তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে কোলম্যান অবদান রেখেছে তা নিম্নরূপ-

1. Industrial Sociology 2. Union democracy 3.Youth and Education 4.Mathematical Sociology 5. Rational Choice Theary 6. Social Capital.

জেমস কোলম্যানের সামাজিক পুঁজি:

প্রখ্যাত আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী জেমস স্যামুয়েল কোলম্যান তাঁর Foundations of Nocial Theory' গ্রন্থে সামাজিক পুঁজি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অসংখ্য সম্পদ পারিবারিক সম্পর্ক এবং সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠনের মধ্যে পাওয়া যায়। তিনি বিশ্বাস করেন শিশুর আনগত এবং সামাজিক বিকাশের জন্য সামাজিক পুঁজি অপরিহার্য। পুঁজির তিনটি প্রকরণ রয়েছে। যথা-

(ii) মানবীয় পুঁজি (Human Capital): মানবীয় পুঁজি হচ্ছে ব্যক্তির দক্ষতা, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা, যা সমাজে তাদের মূল্য নির্ধারণ করে।

(ii) দৈহিক বা শারীরিক পুঁজি (Physical Capital): দৈহিক পুঁজি হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে বাস্তব এবং সাধারণত একটি ব্যক্তিগত দ্রব্যাদি, যা যন্ত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে তোলে।

(iii) সামাজিক পুঁজি (Social Capital): সুনির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আনঅর্জনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সামাজিক মর্যাদা অর্জন করে এবং এর মাধ্যমেই তা সামাজিক পুঁজিতে রূপান্তরিত হয়। তদুপরি সামাজিক পুঁজির ক্ষেত্রে বিনিয়োগের এ তিনটি ধরন সৃষ্টি করে সমাজের পুঁজির বিনিময়ের তিনটি প্রধান দিক।

জেমস কোলম্যান এর মতে সামাজিক পুঁজির ধারণায় বলে, "Social capital and human capital are ofica complementary By having certain skill sets experiences and knowledge, an individual can gain social status and therefore receive more social capital" (Coleman, James The Foundations of Social Theory, Cambridg MA Belknap of Harvard up, pp 300-318.) অর্থাৎ সামাজিক এবং মানবীয় পুঁজি পরস্পরের পরিপূরক, সুনির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানঅর্জনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সামাজিক মর্যাদা অর্জন করতে পারে এবং এভাবেই সে অধিক সামাজিক পুঁজি গ্রহণ করে।

কোলম্যান -আরো বলেন, "The situation of doing favours for some one as, credit slips Should an individual need a favour, he is essentially giving someone cese a credin slip, which signifies that they will be paid back for their goods and serviecs. For an individual to believe that theu favour will be reciprocated (Coleman Rames, the Foundations of Soical Theory, Cambridge, M. A. Belknap of Harvard Up. PP. 300-318), যদিও সামাজিক পুঁজির ব্যবহারিক মূল্য রয়েছে তথাপি এটি সহজে বিনিময়যোগ্য নয়। কোলম্যান আপেক্ষিক পুঁজির (relative capital) ধারণা উদ্ভাবন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে পুঁজির মূল্য অনুসন্ধান প্রকৃতপক্ষে সামাজিক পরিবেশ এবং ব্যক্তির উপর নির্ভর করে। এরই ফলশ্রুতিতে মানবীয় পুঁজি এবং দৈহিক পুঁজি এবং দৈহিক পুঁজির এই ঘটনার ফলে যথারীতি পরিবর্তন হবে। কোলম্যান আরো ধারণা অনুসন্ধান করেন যে, মানবীয় এবং দৈহিক পুঁজিতে বিনিয়োগের চেয়ে সামাজিক পুঁজিতে বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত সহজ। দৈহিক পুঁজিতে বিনিয়োণ অর্থনৈতিক আর্থিক উভয় ক্ষেত্রে সাধারণ একট ভালো সিদ্ধান্ত, মানবীয় পুঁজিতে বিনিয়োগ যে কাউকে অধিক ধীমান এবং অভিজ্ঞ করে তোলে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। যখন এটি সামাজিক পুঁজি বিনিয়োগের জন্য উদ্দীপনা হিসেবে আসে তখন তা সবসময় ব্যক্তিগতভাবে মর্মস্পর্শীয় নয়।

কোলম্যান বলেন, "When the individuals invest in capital They are not necessarily investing in themselves Investment is social capital lead to invest in the social structure Which the capital lies Which in tum, will benefit those individuals and populations part of that particular social structure অর্থাৎ ব্যক্তিবর্গ যখন সামাজিক পুঁজিতে বিনিয়োগ করে, তখন আর নিজেদের জন্য বিনিয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে না। সামাজিক পুঁজিতে বিনিয়োগ সামাজিক কাঠামোতে বিনিয়োগের পথকে প্রশস্ত করে।

উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বস্তুত সামাজিক পুঁজিসংক্রান্ত জেমস কোলম্যানের ধারণা সমাজবিজ্ঞানে অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। পারিঘারিক সম্পর্ক এবং সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সামাজিক পুঁজি পড়ে ওঠে এবং সামাজিক পুঁজির পথ ধরেই সমাজ কাঠামোর পথ বিনির্মিত হয়।

জেমস কোলম্যানের সামাজিক পুঁজি ধরন বিষয়ে জানতে ক্লিক করুন।

shikhaprotidin

I have a Master's degree in Sociology from the National University and I run my sociology and education platform Shikhaprotidin.com to help students.

নবীনতর পূর্বতন