সমসাময়িক সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের উদ্ভব ও বিকাশ বা সামাজিক শক্তিসমূহ আলোচনা
ভূমিকা: সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের বিকাশের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হচ্ছে উনবিংশ শতাব্দী। ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বের জন্য এ সময়টি "সন্ধিক্ষণ" হিসেবে বিবেচিত। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি তথা মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় উনিশ শতকে। উনিশ শতকের এ পরিবর্তন গুণগত, মাত্রাগত এবং পরিমাণগত সবদিক থেকেই অপরিসীম গুরুত্বের অধিকারী বলে বিবেচিত।
সমসাময়িক সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের উদ্ভব ও বিকাশ
তার গ্রন্থে সমাজবিজ্ঞান তত্ত্বের ঐতিহাসিক আলোচনায় দুটি প্রধান ধারার কথা উল্লেখ করেন । যথা- (ক) সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের বিকাশে সামাজিক শক্তিসমূহ (খ) বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিসমূহ এবং সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের উদ্ভব।
(ক) সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের বিকাশে সামাজিক শক্তিসমূহ নিম্নরূপ
১. রাজনৈতিক বিপ্লব:
সাধারণভাবে ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৫/১৭৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ফ্রান্সে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় তাই ফরাসি বিপ্লব। যাকে ইংরেজি ভাষায় বলে, French Revolution, ফরাসি বিপ্লব প্রাথমিকভাবে ফ্রান্সে শুরু হলেও এই বিপ্লব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফরাসি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর বিস্তৃতি ঘটেছিল সমগ্র ইউরোপে এবং পরবর্তীতে সমগ্র বিশ্বে। ফ্রান্স বিপ্লবের দ্বারা সূচিত এ সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসই সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব (Sociological Theory) উত্থানের মূল বিষয়। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক বিপ্লবের ইতিহাস তৎকালীন সমাজে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব বিকাশে সমাজতাত্ত্বিকদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. শিল্পবিপ্লব এবং পুঁজিবাদের উত্থান:
সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব গঠনে শিল্প বিপ্লব তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হয় ইংল্যান্ডে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যা উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে পাশ্চাত্য সমাজগুলোকে দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করে কিন্তু এই শিল্পবিপ্লবের সূত্রপাত হঠাৎ উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তে যন্ত্রচালিত শিল্প সমাজব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটায়। The New Encyclopedia of Britannica-তে বলা হয়েছে "শিল্পবিপ্লব হচ্ছে কৃষিভিত্তিক হস্তশিল্পনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্প ও যন্ত্রচালিত উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া, যা অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে শুরু হয় এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যান্য অংশে বিস্তার লাভ করে।"
কোনো একদিনে হয়নি বরং পারস্পারিক নির্ভরশীল কতকগুলো উন্নয়ন যা পশ্চিমা বিশ্বকে গৃহকেন্দ্রিক, কৃষিভিত্তিক ও হস্তচালিত ও
৩. সমাজতন্ত্রের উদ্ভব:
শিল্পায়ন ব্যবস্থা এবং পুঁজিবাদের অতিরিক্ত প্রভাবে সাড়া দিতে সমাজতন্ত্রের জন্ম। অর্থাৎ, যখন শিল্পায়ন এবং পুঁজিবাদের উত্থান Western society-তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ, তখন মধ্যবর্তী সংস্কারমূলক সমাজব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্রকে বেছে নেওয়া হয়। যদিও কিছু সমাজবিজ্ঞানী পুঁজিবাদের সমাধান হিসেবে সমাজতন্ত্রকে সমাধান হিসেবে দেখেছেন, তবে অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানী একে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এবং বাক্তিগতভাবে বিরোধিতা করেছেন। এককভাবে কার্স মার্কস ছিলেন সমাজতন্ত্রের সক্রিয় সমার্থক এবং পুঁজিবানকে ছুড়ে ফেলে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি তার মতাদর্শ প্রদান করেছেন।
৪. নগরায়ণ:
উনবিংশ শতাব্দীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো নগরায়ণ। শিল্পবিপ্লবের ফলে নগরের বিকাশ ঘটে। বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপিত হওয়ায় গড়ে ওঠে অসংখ্য ছোটবড় নগর। গ্রামীণ জীবনে পেশার অনিশ্চয়তা, ভঙ্গুর সামন্তবাদের বেকারত্ব, শহরে শ্রমিকের কাজ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, আরাম-আয়েশ ও বিলাসী জীবন ইত্যাদি কারণে নগরায়ণের সৃষ্টি হলে নগরের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়।
৫. নারীবাদ:
ইউরোপের ইতিহাসে ঊনবিংশ শতাব্দীর যুগটি ছিল একদিকে তীব্র সামাজিক সংঘাতের, অপরদিকে গতীর বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের যুগ। দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই এই বিতর্কগুলো ছিল পুরুষ তাত্ত্বিকদের দ্বারা প্রভাবিত। কেউ সমাজতন্ত্র তৈরির জন্য কাল্পনিক ধারণা তুলে ধরেছেন, কেউ সেদিনকার মানব দুর্গতির সমাধানের জন্য নৈরাজ্যবাদী সমাধানের পথ বেছে নিয়েছেন, অথবা কেউ অন্যকিছুতে বিশ্বাস করতেন, যা পরবর্তীতে মার্কসবাদী বিজ্ঞান নামে পরিচিত হয়েছে। তবে বিতর্কে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সকলেই ছিলেন পুরুষ বুদ্ধিজীবী। এর মাঝে বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে কোথাও কোথাও, যেমন ফ্রান্সে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝির দিকে স্বল্পকালের জন্য নারীবাদী চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করেছিল।
৬. ধর্মীয় পরিবর্তন:
রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সামাজিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। মানুষের ধর্মীয় আদর্শ রাজনৈতিক বিপব, শিল্পবিপ্লব এবং নগরায়ণের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। প্রারম্ভিককালের অনেক সমাজতাত্ত্বিক সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন, তারা তাদের ধর্মীয় জীবনের বিশ্বাস সমাজবিজ্ঞানেও অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। তারা ধর্মীয় নীতিমালার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণের চিন্তা করেন। অনেকের জন্য (যেমন- কোঁৎ) সমাজবিজ্ঞান ছিল একটা ধর্ম। অন্যদের কাছে তাঁদের সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব ধর্মীয় জীবন থেকে অবিচ্ছিন্ন ছিল বলে তাঁরা মনে করত।
৭. বিজ্ঞানের বিকাশ:
শিল্পবিপ্লবকালীন সমাজতান্ত্রিক তত্ত্ব যেভাবে উন্নীত হচ্ছিল, বিজ্ঞানের ওপরেও তার একটি প্রস্তাব লক্ষ করা যাচ্ছিল। শুধু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয় বরং ব্যাপকভাবে সমাজের ক্ষেত্রে এর প্রভাব প্রতীয়মান ছিল। বিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছিল। বিজ্ঞান মানুষের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করছিল। ফলে বিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য শাখা (পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা এবং রসায়ন প্রভৃতি) সমাজে সম্মানের স্থান করে দেয়। সমাজবিজ্ঞানীগণ (বিশেষ করে কোঁৎ, ডুর্খেইম) তাদের চিন্তাধারায় বিজ্ঞানকে সংশিষ্ট করেছিলেন এবং তারা সমাজবিজ্ঞানের জন্য একটা Scimmific model তৈরি করতে চেয়েছিলেন যে মডেলটি অনেকটা জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের মডেলের মতো।
৮. ফরাসি সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ:
বস্তুত সমাজবিজ্ঞানের অকড়ের বিকাশের ক্ষেত্রে ফরাসি সমাজবিজ্ঞানীদের অবদান অনিস্বীকার্য। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে Claude Henri Saint-Simon (1760-1825), August Comte (1798-1857) এবং Emil Durkheim (1858-1917) সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ। Saint-Simon (1760-1825) ছিলেন একজন ইতিবাচক সমাজচিন্তাবিদ। যিনি মনে করতেন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ন্যায় সমাজবিজ্ঞানেও সামাজিক প্রপঞ্চ অধ্যয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল অনুসরণ করা উচিত কিন্তু তিনি নিজেও সামাজিক সংস্কারের পক্ষে ছিলেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা থেকে সমাজবিজ্ঞানকে পৃথকায়িত হতে হবে বলে তিনি মনে করতেন
৯. জার্মান সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ:
জার্মান সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম ডাব্লিকেরা হচ্ছেন G. F. W. Hegel (177) 1831), Karl Marx (1818-1883), Max Weber (1864-1920) এবং George Summel (1858-1918)। মূলত জার্মান সমাজবিজ্ঞান Marxian এবং Non-Marxian দুটি ধারায় বিভক্ত। Hegel এর মতে, সমাজের পরিবর্তন ঘটে দ্বান্দিকতা (Dialectic) ধারণা থেকে। Hegel সমাজের বিবর্তনবাদী তত্ত্ব প্রদান করেছেন। দ্বান্দিকতা এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি, যা এই ব্যাখ্যা প্রদান করে যে, বিশ্ব স্থির কোনো কাঠামো দ্বারা সৃষ্ট নয় বরং তা প্রক্রিয়াগত, সুসম্পর্কিত, দ্বান্দিক এবং পরস্পরবিরোধী। তিনি মানুষের সচেতনার (Consciousness) ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এই দ্বান্দিকতায় পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করেছেন।
১০. ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানের আবিভার্ব:
ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞান উনবিংশ শতাব্দীতে প্রধানত তিনটি দ্বান্দিক উৎসে এর উৎপত্তি ঘটে। তিনটি দ্বান্দিক উৎস হলো- রাজনৈতিক অর্থনীতি, অপেক্ষাকৃত উন্নত চিন্তাচেতনা (Ameliorism) এবং সামাজিক বিবর্তন। ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানীগণ বাজার অর্থনীতিকে দেখেছেন ইতিবাচক শক্তি হিসেবে, শৃঙ্খলার ধারা হিসেবে, সাদৃশাপূর্ণ এবং সমাজের ঐকা হিসেবে। ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হলেন হার্বার্ট স্পেন্সার। স্পেন্সারকে স্মরণ করা হয় মূলত তার বিবর্তবাদী তত্ত্বের জন্য। তিনি চার্লস ডারউইনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যোগ্যতমরা টিকে থাকে ধারণাটি গ্রহণ করেন এবং ডারউইনের অনেক পূর্বেই তিনি ‘Survival of the fittest’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
১১. ইতালীর সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ:
ইতালীয় সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে Vilikedo Parnia এবং Gartoon Mora এর রচনাবলির মাধ্যমে। ভিলফ্রেডো প্যারেটো (১৮৬৮-১৯২৩) মনে করেন, মানুষের প্রবৃত্তি এখন একটি বাজযুক্ত শক্তি যে মার্কসের প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে একটা নাটকীয় সামাজিক পরিবর্তনকে অপম্ভব করে দেয়। প্যারেটো সামাজিক পরিবর্তনের এলিট তত্ত্ব প্রদান করেন একটা ক্ষুদ্র এলিট যারা আবশ্যকীয়ভাবে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজ স্বার্থ অনুযায়ী। পরিবর্তন তথনই হয় যখন এলিটদের একটি গোষ্ঠী অধঃপতিত এবং পরিবর্তিত হয় শুধু অন্য একটি এলিট গোষ্ঠী দ্বারা। সমাজবিজ্ঞানে প্যারেটোর অবিস্মরণীয় অবদান সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্বসমূহকে অনেক যুগোপযুগী করে তুলেছে।
খ. বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিসমূহ এবং সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের উদ্ভব:
সমাজবিজ্ঞানিক তত্ত্ব বিকাশে উক্ত সামাজিক পরিবেশ বা Social Settings-গুলো প্রধান ভূমিকা পালন করলেও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিসমূহ বা intellectual forces গুলোকে এ থেকে পৃথক করা যায় না। উনিশ শতকের পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক অবস্থার পটভূমিতে দার্শনিকদের বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পশ্চিম ইউরোপে ব্যাপক মানসিক উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। এ যুগকে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ বা জ্ঞান বিকাশের যুগ (Age of Enlightment) বলা হয়। এ যুগে বিজ্ঞান ও যুক্তির মানদকে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ জ্ঞান দীপ্ত যুগের সূত্রপাত হয় অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইউরোপে। এ যুগের দার্শনিক চিন্তাবিদরা নিজেদেরকে বিগত দিনের চিন্তা নায়কদের তুলনায় অনেক বেশি আলোক প্রাপ্ত ও অগ্রসর বলে গণ্য করতেন। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
(i) জ্ঞানালোকের যুগ:
অনেক সমাজ বিশ্লেষক মনে করেছেন, বুদ্ধিবৃত্তি বা আনালোক পর্ব সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। Ritzer বলেছেন, জানালোক পর্ব এমন একটি সময়কে নির্দেশ করে যখন স্মরণীয়ভাবে সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও দার্শনিক চিন্তায় পরিবর্তন আনে। এ প্রজ্ঞাযুগের উল্লেখযোগ্য সমাজচিন্তাবিদ হচ্ছেন বনে দেকার্ত যদিও তিনি নিজে বিজ্ঞানী ছিলেন না কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তথা দর্শনের স্রষ্টা হিসেবে তার অবদান স্মরণীয়। জানালোক চিন্তাবিদদের পুরানো গোষ্ঠীর অন্যতম মুখপাত্র হলেন 'ভলতে'।
(ii) জ্ঞান উন্মেষের প্রতি রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়া:
জ্ঞানালোকবর্তিকা যুগে একটি রক্ষণণীল প্রতিক্রিয়াবাদী দল ছিলেন, যারা তীব্রভাবে অধুনিকতাবিরোধী ছিলেন। (প্রথম খণ্ড) তারাও প্রারম্ভিককালের চিন্তাকে প্রভাবিত করেছেন। এই রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়াবাদীগণের মতে, জানালোকবর্তিকা যুগের মানুষের তুলনায় মানবসমাজের নিজস্ব একটি অস্তিত্ব রয়েছে।
উপসংহার: উপরিউক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও জাপানি, ভারতীয় সমাজবৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশেষণ, তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্বের বিকাশকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। মূলত মানবসমাজ সম্পর্কিত চিন্তাবিদদের অন্তর্দৃষ্টিই তত্ত্ব। মানুষ বিভিন্ন সারদাদের অথতিই তই। সভ্যতার উষালগ্ন থেকে সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা থেকেই আবির্ভার ঘটেছে সমাজতত্ত্বের। আর সামাজিক জীবন ও সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বিকাশিত হয়েছে আজকের এ সমাজতত্ত্ব।
