Posts

সংখ্যালঘুদের জন্য রাষ্ট্রীয় নীতিমালাগুলো সংক্ষেপে আলোচনা কর।

Image
সংখ্যালঘুদের জন্য রাষ্ট্রীয় নীতিমালাগুলো সংক্ষেপে আলোচনা ভূমিকা: পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রে একই সাথে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে বসবাস করে থাকে। এ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা কম থাকে আবার কোনো সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে। একটি দেশের অভ্যন্তরে তুলনামূলক কম লোকসংখ্যা, সম্প্রদায়কে Minority বা সংখ্যালঘু হিসেবে অভিহিত করা হয়। এখানে সম্প্রদায় বলতে বিভিন্ন পেশা, ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ ও বয়স প্রভৃতিভিত্তিক সম্প্রদায় হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক সম্প্রদায় বেশ আলোচিত বিষয়। সংখ্যালঘুদের জন্য রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা অধিকার ও কর্তব্যসমূহ: সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আর এসব পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটেই প্রণয়ন করতে হয় সংখ্যালঘুদের জন্য বিভিন্ন নীতি। এ নীতিগুলো হলো- ১. সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা: মূলত একই রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে একে অপরের সান্নিধ্যে আসা বাঞ্ছনীয়। কেউ ক্ষমতাশালী আবার কেউ ক্ষমতাহীন এ মানসিকতা দূর করতে হবে। সংখ্যায় কম হওয়ায় সংখ্যালঘুকে কোনোভাবেই অবহেলা করা ...

সাইবার সিকিউরিটি কী? সাইবার আক্রমণ কী এবং কেন হয়? ডিজিটাল জীবনে সাইবার নিরাপদ থাকার সম্পূর্ণ গাইড

Image
সাইবার সিকিউরিটি: ডিজিটাল জীবনে নিরাপদ থাকার সম্পূর্ণ গাইড ভূমিকা :- বর্তমান পৃথিবী প্রযুক্তিনির্ভর। আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং, ছবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সবই ডিজিটাল দুনিয়ায় সংরক্ষিত। আর এই ডিজিটাল দুনিয়াকে নিরাপদ রাখা বা সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচানোই হলো সাইবার সিকিউরিটি। এক কথায়, এটি হলো আপনার অনলাইন সম্পদ, তথ্য ও পরিচয়কে সুরক্ষিত রাখার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী সাইবার আক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে। বড় প্রতিষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোন পর্যন্ত কোথাও নিরাপত্তাহীনতা কম নয়। তাই সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা সবার জানা উচিত। সাইবার সিকিউরিটি কী? সাইবার সিকিউরিটি হলো এমন ব্যবস্থা যা কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার, মোবাইল ডিভাইস ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনকে হ্যাকিং, ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, ফিশিংসহ বিভিন্ন সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া, টুল এবং ব্যবহারকারীর সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করে। সাইবার অপরাধীরা যেভাবে আপনার তথ্য চুরি বা ক্ষতি করতে চায়, সাইবার সিকিউরিটি আপনাকে সেভাবে রক্ষা করে। সাইবার আক্রমণ কী এবং কেন হয়? সা...

এথনিক গোষ্ঠী বা এথনিসিটি কি? এথনিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধর

Image
এথনিক গোষ্ঠী বা এথনিসিটির সংজ্ঞা দাও ও এথনিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর ভূমিকা :-  নৃগোষ্ঠী বলতে আমরা জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে জনগণের শ্রেণিবিভাজনকে বোঝালেও এথনিক গ্রুপ আমরা নির্ধারণ করি সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে । নৃবিজ্ঞানীদের পরিভাষায় এথনিক অর্থ হচ্ছে পূর্বপুরুষ ও  সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে দলবদ্ধ একক জনগোষ্ঠী। যাদের রয়েছে নিজস্ব জাতিগত উৎসস্থল, আলাদা খাদ্যাভ্যাস, পোশাক পরিচ্ছদের ধরন, পারিবারিক নাম এবং সম্পর্ক, ভাষা, গানবাজনা, ধর্ম এবং অন্যান্য প্রথাবলি। এথনিক গ্রুপ বা এথনিসিটি: এথনিক গ্রুপ হচ্ছে এমন কিছু জনসংখ্যার সমষ্টি, যার সদস্যরা একে অপরের সাথে অভিন্ন কোনো কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের কারণে পরিচিত। এই ঐতিহ্যগত পরিচিতিটি হতে পারে আন্তরিক কিংবা কাল্পনিক। তবে যাই হোক না কেন, এথনিক গ্রুপের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক। ইংরেজি Ethnicity এবং Ethnic group এই দুটি পরিভাষা এসেছে মূলত গ্রিক শব্দ Ethnos থেকে। এথনোস বলতে তখন গ্রিক ভাষায় নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাতিকে বোঝানো হতো। যাদের বংশগত পরিচয় একই এবং যাদের ভিন্ন একটি সাধারণ সংস্কৃতি রয়েছে। এথনিক পরিভাষাটিক...

জাতির সংজ্ঞা দাও। জাতি গঠনের উপাদানসমূহ কী?

Image
জাতির সংজ্ঞা দাও। জাতি গঠনের উপাদানসমূহ কী? অথবা, জাতি বলতে কী বোঝ? জাতির স্বরূপ বিশ্লেষণ কর। ভূমিকা :- যে-কোনো সমাজে জাতি চেতনার উন্মেষ ঘটে দ্বিবিধ উপাদান সহযোগে, যথা- ভাবগত উপাদান ও বাহ্যিক উপাদান। ভাবগত উপাদান বলতে বোঝায় সমষ্টিগত পর্যায়ে অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে জনসাধারণের ঐক্যবোধ এবং অভিন্ন রাজনৈতিক জীবন প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। বাহ্যিক উপাদান হলো পরিবেশের ঐক্য ও সমতা। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে জাতি গঠনে ভাবগত উপাদানের প্রভাব বেশি। জাতির সংজ্ঞা: ল্যাটিন শব্দ natio থেকে Nation শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। জাতি একটি সত্তা যা জাতীয়তাবোধের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয় এবং জনসমষ্টি যখন একটি ভূখণ্ডে, একই ভাষা, একই ধর্ম, একই ঐতিহ্যে, একই প্রথায়, একই নীতি ও আদর্শ মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে আচার ব্যবহারে লিপ্ত থাকে তখনই তা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জাতির প্রমাণ্য সংজ্ঞা: জাতি সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষী বিভিন্নভাবে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- লর্ড ব্রাইস বলেন, “A nation is a nationality which has organized itself into a political body, which is independent or desiring to be indepe...

বাংলাদেশের উপজাতি গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা কর।

Image
বাংলাদেশের উপজাতি গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা কর। বাংলাদেশের এথনিক গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে যা জান লেখো। উত্তর :- বাংলাদেশে বসবাসরত উপজাতি সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্বতন্ত্র ধারা লক্ষ করা যায়। আদিকাল থেকেই তারা উৎপাদনক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ধারা অনুসরণ করে আসছে। তাদের ঐতিহ্যগত পেশা হচ্ছে জুমচাষ। বর্তমানে জুমচাষ থেকে বেরিয়ে এসে নানা স্থানে নানাভাবে অর্থ উপার্জন করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার ছোঁয়া পাওয়ায় তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশের উপজাতি গোষ্ঠী/এথনিক গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কাঠামো: নিম্নে বাংলাদেশের উপজাতি গোষ্ঠী/এথনিক গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- ১. জুমচাষ: উপজাতি সম্প্রদায়ের অনেকেরই অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকটা কৃষিনির্ভর, বিশেষ করে তারা পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে খনন করে চাষাবাদ করে, ফসল উৎপন্ন করে, যা 'জুমচাষ' নামে পরিচিত। এ চাষের ফলে যে খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন হয় তা দ্বারা তাদের জীবন যাত্রা নির্বাহ করে থাকে। তবে জুমচাষ অনেকাংশে প্রকৃতিনির্ভর। তাই উৎপাদন সর্বদা সাফল্যজনক নাও হতে পারে। যেমন- গারোরা জুমচাষের...

মানবজাতির প্রধান প্রধান নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধর।

Image
মানবজাতির প্রধান প্রধান নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যসমূহ ভূমিকা: নৃগোষ্ঠী বা মানবধারা হচ্ছে নৃবিজ্ঞানের প্রধান আলোচ্য বিষয়। নৃগোষ্ঠীর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন মানবধায়ার বংশানুসারে গায়ের রং মাখার আকৃতি, চুলের রং ও ধরন, মুখাবয়ব, নাসিকার আকৃতি, দৈহিক উচ্চতা প্রভৃতি জীবনের বিভিন্ন প্রলক্ষণ শনাক্ত করা যায়। নৃগোষ্ঠীর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবজাতির মানসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সভ্যতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রতিভাত হয়। বিভিন্ন Race সাধারণত বয়ে আনে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র ইতিহাস ধারা। মানবজাতির প্রধান প্রধান নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য: মানবজাতির প্রধান প্রধান নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো- (ক) ককেশীয় বা শ্বেতকায়: ১. এদের আবাসস্থল প্রধানত ইউরোপ, আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলব্যাপী। ২. ককেশীয়ানের অধিকাংশের গায়ের রং সাদা বা কালো লালচে। এদের মুখাকৃতি প্রধানত সরু বা লম্বাকৃতির হয়ে থাকে। ৩. ককেশীয়দের নাক প্রধানত উন্নক, চিকন, লম্বা ও সরু। ককেশীয়দের চোখের রং হালকা থেকে কালো-বাদামি। চোখের মণি নীল, ঠোঁট প্রধানত গাড়লা, কান লম্বায় ও প্রশস্তে মাঝারি ধরনের। ৪ ককেশীয়দের চু...

গোত্র কী? জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য লিখ

Image
গোত্র কী? জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য লিখ উত্তর :- সমাজবদ্ধ মানুষ পরস্পরের সাথে বিভিন্ন সম্পর্কে আবদ্ধ। নানামুখী ও নানামাত্রিক এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। মানবজাতিকে সংঘবদ্ধ বা ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এ সকল সম্পর্ক ক্রিয়াশীল ভূমিকা পালন করে থাকে। উল্লিখিত সম্পর্কগুলোর মধ্যে রক্তের সম্পর্কের একটি বিশেষ রূপ হচ্ছে গোত্র বা কৌম। গোত্রের সংজ্ঞা : সাধারণ অর্থে গোত্র হচ্ছে এমন একটি গোষ্ঠী, যারা বিভিন্ন আদিপুরুষের বংশধর হিসেবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। গোত্রের ভিত্তি হচ্ছে অভিন্ন পূর্বপুরুষ এবং এর একক হচ্ছে পরিবার। গোত্রের সংজ্ঞায় Carol R. Ember Melvin Ember বলেন, "গোত্র হচ্ছে একদল আত্মীয় যারা বিশ্বাস করে তারা একটা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে, যারা পুরুষ হতে পারে আবার মহিলাও হতে পারে। ক্ল্যানের ক্ষেত্রে মাতৃসূত্রীয় বংশধারাকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।" গোত্রের সংজ্ঞায় ড. রিভার্স বলেছেন, "গোত্র বা কৌম একপাক্ষিক (Unilateral)। বহির্বি...