জড়বাদ এবং দ্বান্দ্বিক জড়বাদের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং মূলনীতিসমূহ
ভূমিকা : জীবন ও জগতের সাথে জড়িত সমস্যাবলি নিয়ে দর্শন আলোচনা করে। সত্তা সম্বন্ধীয় সমস্যাটি দর্শনের বিভিন্ন সমস্যাবলির মধ্যে অন্যতম। মৌলিক উপাদান মানে সত্তা। এ পরিদৃশ্যমান জগতের আড়ালে যে মূল উপাদান বা সত্তা রয়েছে তা জড় বা আধ্যাত্মিক, এ নিয়ে দর্শনে মূলত দুটি মতবাদ গড়ে উঠেছে। একটি হচ্ছে জড়বাদ বস্তুবাদ এবং অপরটি হচ্ছে ভাববাদ।
জড়বাদ সংজ্ঞা:
জড়বাদ হচ্ছে এমন একটি তত্ত্ববিষয়ক মতবাদ, জড়কে বিশ্বজগতের আদিসত্তা বলে মনে বরে। Materialism এর বাংলা প্রতিশব্দ জড়বাদ বা বস্তুবাদ। জড়ের ধর্ম হচ্ছে গতি। মন বা আত্মা বলে কোনো সত্তা নেই বরং মন ও প্রাণ জড় থেকেই উদ্ভূত। বিশ্বজগতের যাবতীয় বস্তু জড়বাদ পরমাণুর আকর্ষণ ও বিকর্ষণের ফলে সৃষ্টি হয় এবং বিশ্বজগৎ কতকগুলো যান্ত্রিক নিয়মের অধীন। মন ও প্রাণ জড়ের জটিলতম রূপ মাত্র। জড়বাদ বা বস্তুবাদের মূলকথা হচ্ছে জ্ঞেয় বস্তুর অস্তিত্ব বা সত্তা মানুষের জ্ঞান বা মনের উপর নির্ভর করে না। জড়বাদ যান্ত্রিক বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী ও যন্ত্রবাদের মুখপাত্র। বস্তু এর অস্তিত্ব মান ও জ্ঞান নিরপেক্ষ। বস্তু জগতের বাইরে অন্য কিছু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই। বস্তুই শুরু এবং বস্তুই শেষ। এছাড়া বস্তুবাদীরা আরো মনে করেন বস্ত্রই প্রথম এবং প্রধান ও বস্তু থেকেই সূত্রপাত।
জড়বাদের বৈশিষ্ট্য:
জড়বাদের মূলতত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে যেসব বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তা নিম্নরূপ:
১. পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুই জড়ের আকর্ষণ ও বিকর্ষণের ফলে সৃষ্ট।
২. জড়বাদীদের মতে, জড়ই হচ্ছে আদি সত্তা বা মৌলিক উপাদান নেই।
৩. জড়বাদে কোনো অলৌকিক বা আধ্যাত্মিক শক্তির স্থান
৪. জড়বাদ যান্ত্রিক বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী।
৫. জড়বাদ শক্তির নিত্যতার নিয়মে বিশ্বাস করে।
৬. যান্ত্রিক কার্যকারণ সম্পর্ক হচ্ছে জড়বাদের আসল বৈশিষ্ট্য।
৭. আত্মার অস্তিত্ব, অমরত্ব, ঈশ্বর, ধর্ম ইত্যাদি জড়বাদের দিক থেকে মিথ্যা বা অলীক।
৮. জড়বাদের বাইরে কোনো জ্ঞান বা দর্শনকে বস্তুবাদীরা অস্বীকার করে।
৯. জড়বাদী ও বস্তুবাদীরা বিশ্বাস করে বস্তু থেকে ধারণা বা জ্ঞানের উৎপত্তি।
দ্বান্দ্বিক জড়বাদ:
দ্বান্দ্বিক জড়বাদের উদ্ভব ঘটে শিল্পবিপ্লব থেকে উদ্ভূত তীব্র সমাজ সংগ্রাম থেকে। প্রাকৃতিক জগৎ ও সমাজ সম্পর্কে মার্কসের দর্শনে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ও বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় পরিলক্ষিত হয় বলে মার্কসের দর্শনকে দ্বান্দ্বিক জড়বাদ বলা হয়। এই দ্বান্দ্বিক জড়বাদ আধুনিক জড়বাদের ইতিহাসে সচল ও ব্যবহারিক জড়বাদের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। তিনি এঙ্গেলসের সাহায্যে এ মতবাদ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এ মতবাদ লেলিন, স্টালিন, মাওসেতুং প্রভৃতি নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সরকারি দর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সার্বিক সামাজিক উন্নয়নে এক বিরাট বিপ্লব সাধিত হয়। মার্কস ফুয়েরবার্ক এর বস্তুবাদ ও সমকালীন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের প্রবর্তন করেন। কার্ল মার্কসের দ্বান্দ্বিক জড়বাদ দর্শনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সংযোজন। তিনি তাঁর দ্বান্দ্বিক জড়বাদে ভাববাদের অবৈজ্ঞানিক পথ বর্জন করে বিজ্ঞানসম্মন ও বাস্তব পন্থায় বিশ্বজগতকে জানার চেষ্টা করেছেন।
দ্বান্দ্বিক জড়বাদের মূলকথা:
দ্বান্দ্বিক জড়বাদের মূলকথাগুলো নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
প্রথমত, জড়ই হচ্ছে একমাত্র সত্তা, এটিই দ্বান্দ্বিক জড়বাদের মূলকথা। চিন্তা হলো জড়ের জটিল প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ। কাজেই জড়ের অস্তিত্ব সচল জড়ের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং মানুষ হলো উন্নতমানের জড় পিণ্ড।
দ্বিতীয়ত, এঙ্গেলসের মতে, প্রকৃতির সকল প্রক্রিয়া দ্বান্দ্বিক এবং দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান ঘটে; এখানে দ্বন্দ্ব বলতে জড়ের সঙ্গে জড়ের দ্বন্দ্ব বোঝানো হয়েছে। লেনিনের মতে, দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি হলো বস্তুসত্তার জ্ঞানপদ্ধতি, যেখানে বিপরীত শক্তির দ্বন্দ্বের মাধ্যমেই উন্নতি ও পরিবর্তন ঘটে।
তৃতীয়ত, জড়ের স্বাভাবিক ধর্ম হলো গতি, দ্বান্দ্বিক জড়বাদ অনুসারে। জাগতিক পরিবর্তন ও ক্রমোন্নতির একমাত্র কারণ, যা সকল অধ্যাত্মবাদ বা গতানুগতিক চিন্তাধারাকে বাতিল করে দিয়ে জড়ের ক্রমবিকাশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জড়ের দ্বান্দ্বিক গতি।
চতুর্থত, সচল জড়বাদের উপর জড়বাদ প্রতিষ্ঠিত। মানুষ কোনো দর্শন বা চিন্তাভাবনার সাহায্যে পরিচালিত নয়, বাস্তব জীবনের দ্বারা পরিচালিত। বাস্তবের উপর এ মতবাদ অধিক গুরুত্বারোপ করে। মার্কস এ প্রসঙ্গে বাস্তবতা বর্জিত জ্ঞানের কথা অস্বীকার করেন।
পঞ্চমত, ব্যক্তিরা একে অন্যের উপর এবং সমাজের উপর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে গতিসৃষ্টি করে, যা সমাজের পরিবর্তন ঘটায়। মার্কস ব্যক্তিকে সমাজের ক্রমোন্নতির উপায় হিসেবে গ্রহণ করেন।
ষষ্ঠত, মার্কস মনকে সক্রিয় বলে স্বীকার করেন। বিবর্তন প্রক্রিয়া জড় থেকে মনের উদ্ভব হলেও জড়ের উপর মনের ক্রিয়া করার শক্তি আছে। তিনি বলেছেন, মানুষ তার নিজের ভাগ্য বিধাতা, ভাগ্যের ক্রিড়নক নয়।
সপ্তমত, মার্কসের মতে, সমাজে শাসক শ্রেণি যতদিন থাকবে, ততদিন ধর্মও থাকবে। শোষণমূলক সমাজব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে ধর্ম ক্রমে তিরোহিত হবে। তিনি ধর্মকে ‘জনগণের আফিম’ বলেছেন, কারণ ধর্ম মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে মোহনিদ্রায় আচ্ছন্ন রাখে। ধর্ম ও ঈশ্বরের ধারণা শাসক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে।
অষ্টমত, উৎপাদন পদ্ধতি সমাজ বিকাশে বিভিন্ন অবস্থা নিয়ন্ত্রিত করে। ইতিহাস অর্থনৈতিক অবস্থার দ্বারাই নির্দিষ্ট হবে। শ্রেণির দ্বন্দ্ব হলো মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব।
দান্দ্বিক জড়বাদের মূলনীতি
'Dialectics of Nature' গ্রন্থে এঙ্গেলস জড়বাদের তিনটি মূলনীতি বা সূত্রের কথা বলেছেন।নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ঐক্য ও বিরোধের সংগ্রাম:
বস্তুর সমস্ত পরিবর্তন এ নিয়ম মেনে চলে। মহাশূন্যে প্রতিনিয়ত বিপরীত শক্তির আকর্ষণের ফলে নতুন নতুন তারকার জন্ম হচ্ছে এবং বিকর্ষণের ফলে তারকার মৃত্যু হচ্ছে। জীবদেহে ও দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে। এই দুই শক্তির নাম আত্মীকরণ ও বিআত্মীকরণ এবং এ দুটি ঐক্যের নাম বিপাক। আত্মীকরণের প্রাধান্য থাকলে দেহ বাড়ে আর বিআত্মীকরণের প্রাধান্য থাকলে দেখ বুড়িয়ে যেতে থাকে।
আবার এ একই নিয়মের বলে উৎপাদন শক্তির সাথে উৎপাদন সম্পত্তির বিরোধ ঘটলে নতুন সমাজের পত্তন হয়। মার্কসের মতে, প্রকৃতি ও সমাজে কোনো সময় এ দুই শক্তির ভারসাম্য থাকে না বলে বিশ্বজগতের সবকিছুতেই পরিবর্তন ঘটে থাকে।
২. পরিমাণগত বিবর্তন থেকে গুণগত বিবর্তনে উত্তরণ:
মার্কসের মতে, “পরিমাণগত পরিবর্তনে ছেদ ঘটলে তা উল্লম্ফনের মাধ্যমে গুণগত পরিবর্তনে রূপান্তরিত হয়।" বস্তুর পরিমাণগত পরিবর্তন ধীরগতির অন্যদিকে গুণগত পরিবর্তনে ছেদ থাকে বলে তাতে উল্লম্ফের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়। সমাজ বিকাশের ক্ষেত্রে এ সূত্রটি সমভাবে কাজ করে। শ্রমিকদের আত্মশক্তি জোরদার হলে হঠাৎ করে তারা উৎপাদনের প্রতিবন্ধকতা শোষক শ্রেণিকে উৎখাত করে সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া জলের বরফে রূপান্তর পরিমাণগত পরিবর্তনের রূপান্তরের দৃষ্টান্ত।
৩. নেতিক নেতিকরণের নিয়ম:
বীজগাণিতিক মান কে - নঞবক ধরে করলে হবে । একে আবার নঞবক করলে হতে - x ( x) = x² বা x অপেক্ষা উন্নত। মার্কস সামাজিব। মতবাদে এ নীতি প্রেরণ করে বলেছেন যে পুঁজিবাদ তার নঞর্থকতা ছাড়া থাকতে পারে না। কিন্তু এই নঞর্থকতা পরিশেষে পুঁজিবাদকেই অস্বীকার করে। মার্কস দেখান যে, পুঁজিবাদীরা অধিক লাভের জন্য সারা পৃথিবীর অধিক শ্রমিক নিয়োগ করেন। যার ফলে বিশ্বের সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি পুঁজিবাদকে ধ্বংস করে শ্রেণিবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করে।
সমালোচনা:
পৃথিবীতে কোনো কিছুই সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। মার্কস বর্ণিত দ্বান্দ্বিক জড়বাদও এর ব্যতিক্রম নয়। নিচে সংক্ষেপে দ্বান্দ্বিক জড়বাদের সমালোচনাসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১. বার্ট্রান্ড রাসেলের মন্তব্য:
‘History of Western Philosophy’ গ্রন্থে বার্ট্রান্ড রাসেল কার্ল মার্কসের সমালোচনা করে বলেন যে, মার্কস নিজেকে নাস্তিক হিসেবে উপস্থাপন করলেও তিনি এক ধরনের মহাজাগতিক আশাবাদ পোষণ করতেন, যা মূলত একজন একেশ্বরবাদীর বিশ্বাসের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ এবং কেবল তারাই এমন ধারণা যাচাই বা প্রমাণ করতে পারেন।
২. ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী:
দ্বান্দ্বিক জড়বাদ অন্যান্য জড়বাদের মতো প্রচলিত ধর্ম, ঈশ্বর, পরম মূল্য ইত্যাদি ধর্মবোধ ও নীতিবোধের উপর চরম আঘাত হেনেছে। কিন্তু এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য পরিণত হয়েছে। নয়, এর ফলে মানুষ যন্ত্রে পরিণত হয়েছে
৩. অবৈজ্ঞানিক প্রকৃতির:
অধিকাংশ তাত্ত্বিকদের মতে, মোটামুটিভাবে বলতে গেলে মার্কসের দর্শনের সব উপাদান যা হেগেলের দর্শন থেকে সৃষ্টি হয়েছে তা অবৈজ্ঞানিক। কারণ এ উপাদানগুলোকে সত্যি বলে ধরে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা সেন নেই।
৪. অসন্তোষজনক:
'বস্তু দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় চলে' এ মতবাদ সন্তোষজনক নয়। কেননা অনেক প্রাকৃতিক বস্তু ও ঘটনার সাক্ষাৎ মিলে, যেগুলো একটি দ্বান্দ্বিক আকারে আচরণ করে বলে মনে হয়।
৫. অবাস্তব:
জড়ের গতির ফলে যে জীবের বা প্রাণের উৎপত্তি হয় তা ঠিক নয়। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ সম্পর্কে মার্কসের বক্তব্য বাস্তব। মন এবং দেহ পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করে কেননা জীব জীবনহীন জড় নয়। সুতরাং জড়ের গতি নেই, এটি সক্রিয়/এ নয়। কেবল সচেতন বস্তুর মাধ্যমেই দ্বান্দ্বিক উন্নতি সম্ভব।
৬. সাম্যবাদ ও পুজিবাদ বিরোধী:
মার্কস সাম্যবাদকে 'বাদ' ও পুঁজিবাদকে 'প্রতিবাদ' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু সাম্যবাদ ও পুঁজিবাদ উভয়ের সমন্বয়ে হবে গণতন্ত্র।
৭. ব্যক্তিসত্তাকে অবজ্ঞা:
মার্কস ব্যক্তিকে সমাজের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেন এবং ব্যক্তিসত্তার প্রয়োজনীয়তাকে খাটো করে দেখেন। তিনি ব্যক্তিকে কেবল সর্বনৈতিক ব্যবস্থার দাস হিসেবে ভাবেন। যদিও তিনি ব্যক্তি ও সমাজের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বাসী, তবুও তিনি ব্যক্তির ইচ্ছায় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, মার্কসের মতে, একমাত্র দ্বান্দ্বিক ব্যাখ্যার কল্যাণেই দর্শন নিরর্থক তত্ত্ব আলোচনাকে বর্জন করে মানব হিতৈষী বিদ্যার পরিণতি লাভকরতে পারে। তাই এর দার্শনিক মূল্যকে অস্বীকার করা যায় না। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের সমালোচনা সত্ত্বেও দর্শনের ইতিহাসে দ্বান্দ্বিকতার সাহায্যে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নের এ ব্যাখ্যার প্রচেষ্টা এক অনন্য সর্বদা দাবি করতে পারে। কারণ, মার্কসই। প্রথম বৈজ্ঞানিক এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলির ভিত্তিতে জগতের। সবকিছুর দ্বান্দ্বিক উন্নয়নের কথা বলেন।

No comments:
Post a Comment