Chicago এবং Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারার মধ্যে সাদৃশ্য বা সম্পর্ক আলোচনা কর

Chicago ও Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারার সাদৃশ্যসমূহ

ভূমিকা:- "সামাজিক মনোবিজ্ঞান ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ (Symbolic Interactionism) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি। এই মতবাদটি মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত হয়ে বিকশিত হয়েছে একটি হলো শিকাগো স্কুল (Chicago School) যার নেতৃত্বে ছিলেন হার্বার্ট ব্লুমার এবং অন্যটি হলো আইওয়া স্কুল (Iowa School) যার নেতৃত্বে ছিলেন ম্যানফোর্ড কুন।

যদিও গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে এই দুই স্কুলের মধ্যে কিছু তাত্ত্বিক বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, তবে মূল আদর্শিক জায়গায় এদের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। উভয় স্কুলই বিশ্বাস করে যে, মানুষের সমাজ ও ব্যক্তিত্ব পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং প্রতীকের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। আজকে আমরা শিকাগো (Chicago) ও আইওয়া (lowa) কেন্দ্রিক চিন্তাধারার প্রধান সাদৃশ্যসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।"

Chicago এবং Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারার মধ্যে সাদৃশ্য

Chicago এবং Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারার সাদৃশ্যসমূহ

নিম্নে Chicago এবং Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারার মধ্য বিদ্যমান সাদৃশ্য বা সম্পর্কগুলি আলোচনা করা হলো।

১। মানবজাতির প্রকৃতি:

মানবজাতি তাদের পরিবেশের পারিপার্শ্বিক দিকগুলো চিহ্নিত করার জন্য প্রতীকের ব্যবহার করে থাকে। মানুষ যাকে অদ্বিতীয় মনে করে এবং যার ফলে সে অদ্বিতীয় হয় সেটা তার প্রতীকী ক্ষমতা। মানবজাতি আত্মপ্রতিফলন এবং মূল্যায়নেও সক্ষম।

২। মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতি:

মিথস্ক্রিয়াভিত্তিক মনে মানুষের অঙ্গভঙ্গির ব্যাখ্যা এবং পরিচালনা ক্ষমতার উপর। মিথস্ক্রিয়ার মূলমন্ত্র হচ্ছে ভূমিকা পালন। কারণ, এটা অন্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে সাহায্য করে এবং এমন বিষয়ের মূল্যায়ন করে যার কোনো অস্তিত্ব নেই।

৩। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি:

প্রতীকী মিথস্ক্রিয়ামুখী প্রকৃতির মাধ্যমে সামাজিক কাঠামোর সৃষ্টি হয় অতঃপর তার অস্তিত্ব বজায় রাখে এবং এরই মধ্যে পরিবর্তন সাধিত হয়ে থাকে।

৪। সামাজিক প্রতিষ্ঠান:

প্রতীকী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ধরন তৈরি করে। তাই প্রতীকী প্রক্রিয়া সম্পর্কিত জ্ঞান ছাড়া মানুষ কখনো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ধরন উপলব্ধি করতে পারে না।

৫। সমাজতাত্ত্বিক পদ্ধতির প্রকৃতি:

সমাজতাত্ত্বিক পদ্ধতিকে অবশ্যই মানবজাতির ঐ সমস্ত প্রক্রিয়া সমূহের উপর আলোকপাত করতে হবে যা পরিস্থিতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করে এবং পরিকল্পনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যে কোনো পদ্ধতিকে ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যক্তি সমূহের উপর আলোকপাত করতে হবে।

৬। সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের প্রকৃতি:

মতবাদসমূহের অবশ্যই ক্রিয়ামুখী প্রকৃতির উপর আলোকপাত করতে হবে এবং সাধারণ ধরনের আওতায় পরিচালিত কর্মকাণ্ডে এবং মিথস্ক্রিয়াগুলোকে পরিস্থিতি অনুযায়ী একে অপর থেকে পৃথক করতে হবে।

৭। পরিপ্রেক্ষিতের ব্যবহার:

ভূমিকা পালন এবং মন ব্যক্তিগত পরিপ্রেক্ষিতের ব্যবহার করতে সাহায্য করে। এই পরিপ্রেক্ষিতের আলোকেই মানুষ ভূমিকা পালন করে এবং মনের মাধ্যমে চিন্তাভাবনা করে কিংবা পরিস্থিতির সংজ্ঞায়ন চর্চা করতে পারে।

৮. চিন্তার প্রতীকী প্রকৃতি:

মানুষ কেবল আচরণ করে না বরং তার চিন্তা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিফলনের মাধ্যমে আচরণ গঠিত হয়—এই দৃষ্টিভঙ্গি উভয় ধারায় গুরুত্বপূর্ণ।

৯. অভিজ্ঞতার গুরুত্ব:

Chicago এবং Lowa উভয়েই ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজ বোঝার পক্ষে।

১০. পরিবর্তনশীল সমাজ ধারণা:

মানুষ বিশ্বাস করে যে সমাজ একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যা প্রতিনিয়ত মানুষের মিথস্ক্রিয়া ও প্রতীকী ব্যাখ্যার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়।

উপসংহার: সবশেষে উপরিউক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে Chicago এবং Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারার মধ্যে বেশ কিছু সম্পর্ক বা সাদৃশ্য রয়েছে। Chicago এবং Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারা সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্যয়। Chicago ও Lowa কেন্দ্রিক চিন্তাধারা উভয়ই প্রতীকী মিথস্ক্রিয়া, ব্যক্তিক চিন্তা, ভূমিকা পালন এবং পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় গভীরভাবে সংযুক্ত। সমাজের আচরণগত বিশ্লেষণে এদের অবদান অপরিসীম।

shikhaprotidin

I have a Master's degree in Sociology from the National University and I run my sociology and education platform Shikhaprotidin.com to help students.

নবীনতর পূর্বতন