রাষ্ট্র শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার উক্তিটি মূল্যায়ন কর

রাষ্ট্র শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার উক্তিটির মূল্যায়ন

ভূমিকা: বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক কার্ল মার্কস তাঁর বন্ধু এঙ্গেলসের সহযোগিতায় লেখা Manifesto of the Communist Party' গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তি, গতিপ্রকৃতি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর পূর্বে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বা জার্মান দার্শনিক হেগেল রাষ্ট্রকে একটি শাশ্বত ও মঙ্গলকামী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলেও মার্কস একে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিতে বিচার করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র চিরন্তন নয় এবং কোনো পরম কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠানও নয়। রাষ্ট্র হলো শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার। এক শ্রেণি অন্য শ্রেণিকে শোষণ করার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। লেনিনের ভাষায় (Lenin), "The state is an organ of class rule, an organ for the oppression of one class by another.

রাষ্ট্র শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার উক্তিটি মূল্যায়ন

রাষ্ট্র হলো শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার:

রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও কর্মধারা বিশ্লেষণে মার্কসবাদ একটি বৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসেবে পরিচিত। সমাজবিকাশের মৌল ধারাগুলো বিশ্লেষণ করে মাকর্সবাদ রাষ্ট্রের প্রকতি অনুধাবন করার কথা বলে। মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাষ্ট্র সমাজবহির্ভূত নয়, চুক্তির দ্বারাও সৃষ্টি হয়নি। ঈশ্বরসূষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, এমনকি কোনো আত্মসচেতন নৈতিকসত্তাও নয়। সমাজ বিকাশের এক নির্দিষ্ট অধ্যায়ে ঐতিহাসিক কারণেই রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটেছে।

লেনিন বলেছেন, অতীতে এমন এক সময় ছিল, যখন রাষ্ট্র ছিল না। সমাজ যখন বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, সমাজে শোষক ও শোষিতের উত্তৰ হলো তখনই রাষ্ট্র দেখা দিল।

এঙ্গেলস বলেছেন, শ্রেণিগত বৈষমের কারণে শক্তির প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্র তৈরি হলো। তাঁর নিজের ভাষায়, "The State became a necessity, because of this cleavage.

১. বলপ্রয়োগমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্র:

মার্কসীয় তত্ত্বে রাষ্ট্র কোনো কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার। এঙ্গেলসের মতে, সমাজে শ্রেণি বিভাজনের ফলে রাষ্ট্র একটি প্রয়োজনীয়তায় পরিণত হয়েছে; তাঁর ভাষায়: "The State became a necessity, because of this cleavage." কার্ল মার্কস রাষ্ট্রকে একটি বলপ্রয়োগমূলক যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন যার মাধ্যমে এক শ্রেণি অন্য শ্রেণিকে শোষণ করে। মার্কসের নিজস্ব ভাষায় "The state is nothing more than a machine for the oppression of one class by another."

কমিউনিস্ট ইশতেহার (Communist Manifesto) অনুযায়ী, রাজনৈতিক ক্ষমতা হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির সংগঠিত শক্তি, যা অন্য শ্রেণির ওপর বলপ্রয়োগে ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্র তার এই আধিপত্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, জেল এবং আইন-আদালতের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখে। মার্কসের মতে, আদিম সাম্যবাদ পরবর্তী সমগ্র মানবসমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস; তাঁর বিখ্যাত উক্তি: "The history of all hitherto existing society is the history of class struggles." পরিশেষে, সমাজবিকাশের ধারায় শ্রেণি বিভাজনের অবসান ঘটলে শোষণের এই যন্ত্র বা রাষ্ট্রটিও চিরতরে অবলুপ্ত হবে।

২. ঐতিহাসিক বিবর্তন স্তর:

আদিম সাম্যবাদী সমাজ: সম্পদের ওপর যৌথ অধিকার ছিল। ব্যক্তিগত মালিকানা ও শ্রেণিবিভাগ না থাকায় এই সমাজে রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

দাসভিত্তিক সমাজ: ব্যক্তিগত মালিকানার শুরুতেই দাস-মালিক ও ক্রীতদাসের মধ্যে শ্রেণিবিভাগ হয়। দাসদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমবার রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।

সামন্ত সমাজ: এই স্তরে সামন্তপ্রভুরা ভূমিদাসদের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে এবং শোষণ চালাতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করত।

পুঁজিবাদী সমাজ: বর্তমানে পুঁজি ও সম্পদের মালিকানা মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে থাকে। তারা সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণির ওপর প্রভাব কায়েম করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে।

সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ: পুঁজিবাদী অবস্থা ভেঙে যখন সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন শোষণমুক্ত সমাজতন্ত্র সৃষ্টি হবে। এর চূড়ান্ত পর্যায়ে আসবে সাম্যবাদ, যেখানে কোনো শ্রেণিভেদ থাকবে না এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ায় তা বিলীন (Wither away) হয়ে যাবে।

৩. উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus Value) ও শোষণ

মার্কসের মতে, পুঁজিবাদী শোষণের মূলে রয়েছে উদ্বৃত্ত মূল্য। মালিক পণ্যের বিক্রয় মূল্য থেকে যে মুনাফা পায় এবং শ্রমিককে যে নগণ্য মজুরি দেয়, তার পার্থক্যই হলো উদ্বৃত্ত মূল্য। এটি শ্রমিকের প্রাপ্য হলেও মালিক তা আত্মসাৎ করে, যা সমাজে সংঘাত ও বৈষম্য সৃষ্টি করে।

৪. সর্বহারার একনায়কত্ব ও রাষ্ট্রের অবলুপ্তি

পুঁজিবাদী শোষণের চরম পর্যায়ে শ্রমিক শ্রেণি বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবে। তখন প্রতিষ্ঠিত হবে 'সর্বহারার একনায়কত্ব'। সমাজতান্ত্রিক এই ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে। মার্কসের মতে, যখন সমাজ শ্রেণিহীন হবে, তখন শোষণের আর প্রয়োজন থাকবে না এবং রাষ্ট্রও ধীরে ধীরে বিলুপ্ত (Wither away) হবে।

সামালোচনা:

উদারনৈতিক দর্শনের সমর্থক বুর্জোয়া লেখকগণ রাষ্ট্র সম্পর্কে মার্কসবাসী ব্যবস্থার অসম্পূর্ণতা-যুক্তিহীনতার কথা বলেন।

প্রথমত, সমাজের বিকাশে মার্কস অর্থনৈতিক উপাদানের ওপর মানসিক প্রাধান্য দিয়েছেন। সমাজ বিবর্তনে মানুষের প্রবৃত্তি, প্রক্ষোভ, মতাদর্শ, ধর্ম কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মানুষের জীবনে উদয়পূর্তির চিন্তাই সব নয়। আদর্শের জন্য মানুষ যুগে যুগে যে সংগ্রাম করেছে, মার্কসবাদ তাকে উপেক্ষা করেছে।

দ্বিতীয়ত, শ্রেণিসংগ্রামের ধারণাটিও একমাত্র সত্য নয়। ইতিহাসের শ্রেণিদ্বন্দ্বের সঙ্গে শ্রেণি সহযোগিতার বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত কম নয়।

তৃতীয়ত, মার্কসবাদ শ্রেণিসংগ্রাম প্রধান মনে করে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণাকে প্রশ্রয় দেয়। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানির মাধ্যমে প্রীতিবন্ধনে আবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সমাজে উত্তরণ সম্ভব নয়।

চতুর্থত, সর্বহারা বিপ্লবের পরে শ্রেণিহীন, শোষণহীন সমাজে রাষ্ট্র বিলুপ্ত হবে এই ধারণাকেও অনেকে মানেন না। আধুনিক বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা লক্ষ্য করে বলা যায়, রাষ্ট্রের বিলুপ্তির সম্ভাবনা কম।

পঞ্চমত, মার্কসের উদ্বৃত মূল্যকে অর্থনীতিবিদরা তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। মার্কস শুধু শ্রমকেই উৎপাদনের উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন কিন্তু শ্রম ছাড়া অন্যান্য উপাদানও আছে।

ষষ্ঠত্ব, মার্কস বলেছেন, পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকদের অবস্থা ভয়াবহ হবে কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি ও বাজার অর্থনীতির জন্য পুঁজিবাদী দেশে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

উপসংহার: অবশ্য এ কথা মনে রাখতে হবে যে, ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্পূর্ণ উচ্ছেদ পৃথিবীতে না হলে রাষ্ট্রের প্রয়োজন থাকবে, মার্কসবাদীরা তাই মনে করেন এবং বলেন। তাছাড়া বাষ্ট্র শ্রেণিশোষণের যন্ত্র, বলপ্রয়োগের প্রতিষ্ঠান এই ধারণা সমর্থন করা যায় না। বর্তমান বিশ্বে সমাজকল্যাণ ও জনকল্যাণ রাষ্ট্রে কর্মকাণ্ড মার্কসবাদী দৃষ্টিতে অস্বীকার করে। উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রবক্তাগণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ইতিবাচক ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা, কর্ম ও মজুরির ব্যবস্থা করার কার্জ যখন রাষ্ট্র করেছে, তখন তাকে শ্রেণিশোষণের মন্ত্র/হাতিয়ার বলা যায় না। অতএব সমালোচনার উত্তরে একটি কথা বলা যায় যে, মার্কসবাদ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে প্রমাণ করেছে, ধনবৈষম্য মূলে সমাজে রাষ্ট্র শোষণের হাতিয়ার বা যন্ত্র।



মূল

রাষ্ট্র হলো শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার:

রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও কর্মধারা বিশ্লেষণে মার্কসবাদ একটি বৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসেবে পরিচিত। সমাজবিকাশের মৌল ধারাগুলো বিশ্লেষণ করে মাকর্সবদ রাষ্ট্রের প্রকতি অনুধাবন করার কথা বলে। মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাষ্ট্র সমাজবহির্ভূত নয়, চুক্তির দ্বারাও সৃষ্টি হয়নি। ঈশ্বরসূষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, এমনকি কোনো আত্মসচেতন নৈতিকসত্তাও নয়। সমাজ বিকাশের এক নির্দিষ্ট অধ্যায়ে ঐতিহাসিক কারণেই রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটেছে। লেনিন বলেছেন, অতীতে এমন এক সময় ছিল, যখন রাষ্ট্র ছিল না। সমাজ যখন বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, সমাজে শোষক ও শোষিতের উত্তৰ হলো তখনই রাষ্ট্র দেখা দিল। এঙ্গেলস বলেছেন, শ্রেণিগত বৈষমের কারণে শক্তির প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্র তৈরি হলো। তাঁর নিজের ভাষায়, "The State became a necessity, because of this cleavage বাষ্ট্রের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করে কার্ল মার্কস বলেন যে, "রাষ্ট্র হলো শ্রেণিশোষণের হাতিয়ার,” বলপ্রয়োগের মাধ্যমে একটি শ্রেণিকে শোষণ করার জন্য অপর শ্রেণির হাতিয়ার। মার্কসের নিজের ভাষায়, The stage is nothing more than a machine for the oppression of one class by another. কমিউনিস্ট ইশতেহারে বলা হয়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতা হলো কোনো শ্রেণির সংগঠিত ক্ষমতা। সমাজবিকাশের এক নির্দিষ্ট স্তরে শ্রেণি বিভাজনের কারণে রাষ্ট্রের উদ্ভব, শ্রেণি বিভাজনের অবসানে রাষ্ট্রও অন্তর্হিত/অবলুপ্ত হবে।

রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগমূলক প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশ, সেনাবাহিনী জেল, আইন-আদালতের মাধ্যমে শ্রেণি শাসন ও শ্রেণিশোষণ বলবৎ থাকে। এর ব্যাখ্যা করে মার্কস বলেছেন, সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তরে শ্রেণিসংগ্রাম হলো মানবসমাজের ইতিহাসের মূল বৈশিষ্ট্য। তাঁর নিজের কথায়, "The history of all hitherto existing society is the history of class struggies Communist Manifesto", মানবসমাজের ইতিহাস বলতে মার্কস ও এঙ্গেলস লিখিত ইতিহাসের (Written history) কথাই বলেছেন, আদিম সমাজজীবনের কথা বলেননি। আদিম যৌগ জীবনে ব্যক্তিগত লিখিত সম্পত্তি ছিল না, উৎপাদনব্যবস্থা জটিল ছিল না। অর্থাৎ, উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল সহজ-সরল। সমাজে শ্রেণি বিভাজন না থাকায় শোষণের হাতিয়ারেরও প্রয়োজন ছিল না। আদিম যৌথজীবন সাম্যভিত্তিক ছিল, তাই একে আদিম সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা বলে অভিহিত করা হয়। সমাজে দাসত্ব প্রথা চালু হাল সেই প্রথাভিত্তিক সমাজে প্রথমবারের মতো দাস-মালিক ও ক্রীতদাসের মধ্যে সামাজিক শ্রেণিবিভাজন দেখা দিল। সমন্তযুগে সমাজ দ্বন্দ্বশীল সামন্তপ্রভু বা জমিদার এবং ভূমিদাসদের মধ্যে বিভক্ত হয়। এই ভূমিহীনদের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে এবং শোষণ চালিয়ে যেতে সামন্তপ্রভুরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। সামস্ত সমাজব্যবস্থার পতনের মধ্য দিয়ে ধনতান্ত্রিক অর্থাৎ, বুর্জোয়া সমাজ গড়ে ওঠে। পুঁজিবাদী বা বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থায় প্রধানত পুঁজিপতিশ্রেণি ও সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণি এই দুটি শ্রেণি লক্ষণীয়। এখানে উৎপাদনের উপকরণগুলোর মালিকানা মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের হাতে চলে যায়। শ্রমিকশ্রেণির শ্রমশক্তি ছাড়া আর কিছুই রইল না। তারা তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এই সর্বহারাশ্রেণির ওপর প্রভাব কায়েম করতে এবং শোষণ চালাতে পুঁজিপতিরা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। ফলে দুটি শ্রেণির মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়। মার্কসের মতে, এই বিরোধ তীব্রতর হওয়ার কারণ হলো মালিক শ্রেণি কর্তৃক উদ্বৃত্ত মূল্যের আত্মসাৎ। মালিক পণ্যের জন্য যে দাম পায় এবং তার পরিবর্তে শ্রমিকদের যা দেওয়া হয় তার পার্থক্য হলো উদ্বৃত্ত মূল্য। এটি শ্রমিকের প্রাণ্য কিন্তু তারা তা পায় না। সুতরাং সমাজ বিকাশের সকল স্তরের প্রভুত্বকারী-শ্রেণি অর্থাৎ দাস-মালিক, সামন্তপ্রভু এবং ধনিক বা বুর্জোয়াশ্রেণি আপন বা নিজ নিজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও শ্রেণিশোষণ অব্যাহত রাখতে বলপ্রয়োগমূলক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। সমাজের বিকাশের প্রতি অধ্যায়ে রাষ্ট্রের শোষণমূলক অব্যাহত ছিল। ধনতান্ত্রিক সমাজে বুর্জোয়া ও সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণির দ্বন্দ্ব চরম রূপ লাভ করে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে শ্রমিকশ্রেণি কৃষক ও জনগণের সহযোগিতায় বিপ্লবের মাধ্যমে বুর্জোয়া রাষ্ট্রের উচ্ছেদ ঘটিয়ে সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সর্বহারা বিপ্লবের পরবর্তী অধ্যায়ে রাষ্ট্র হলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। উৎপাদনব্যবস্থার সামাজিক মালিকনা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সমাজে মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থাকবে না। এরূপ সমাজের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- Form each according to his ability to each according to his work এই সমাজে মালিক-শ্রমিকের ভেদ থাকবে না, শোষণ থাকবে না, তাই শ্রেণিশোষণের যন্ত্র রাষ্ট্র বিলুপ্ত হবে।

Md Belal Hossain

আমি মোঃ বেলাল হোসাইন, বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স/স্নাতকোত্তর (M.S.S) ডিগ্রী অর্জন করেছি এবং Shikhaprotidin-এর প্রতিষ্ঠাতা। Shikhaprotidin একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমি সমাজবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করি ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করি।

নবীনতর পূর্বতন