বাংলাদেশে সাম্প্রতিক শরণার্থী সমস্যা বা রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনা কর

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক শরণার্থী সমস্যা বা রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনা

ভূমিকা: ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যদি সঠিকভাবে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত না হয়, মানব সৃষ্ট বা অন্য কোনোভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মূল আবাস হতে সম্পূর্ণ উৎপাটিত হয়, তাহলে তারা শরণার্থীতে পরিণত হয়। শরণার্থী সমস্যা বর্তমান বিশ্বের এক বহুল আলোচিত সমস্যা।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক শরণার্থী সমস্যা/রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনা কর


বাংলাদেশে সাম্প্রতিক শরণার্থী সমস্যা

বাংলাদেশে "রোহিঙ্গা" ইস্যুতে সাম্প্রতিক শরণার্থী সমস্যা বর্তমানে অধিকতর দেখা যাচ্ছে। এ সম্পর্কে নিয়ে আলোচনা করা হলো।

১. অপর্যাপ্ত বাসস্থান:

বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে তারা একত্রে গাদাগাদি করে অস্থায়ী বসবাস করছে। কক্সবাজারের উখিয়া স্থানে প্রচুর রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এতে মূলধারার জনগোষ্ঠী অনেকাংশেই ক্ষিপ্ত হয়েছে। কারণ এদেশের ১৬ কোটি জনগোষ্ঠী স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। এর মধ্যে আরও ১১.৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি জনমনে সমস্যার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

২. অর্থ সংকট:

এমনিতেই এদেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে আবার রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভরণ-পোষণ সরকারের দিতে হচ্ছে। এদেরকে দিয়ে মূলধারায় কাজ করানো যাচ্ছে না। তাই শরণার্থী আর্থিক সমস্যা সৃষ্টিতেও ভূমিকা রেখেছে।

৩. অভিবাসন সমস্যা:

অভিবাসন খাতে যেমন বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিসে প্রচুর নকল পাসপোর্ট জট পেকেছে। তদন্তে দেখা যায়, এসব রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর পাসপোর্ট। শরণার্থীরা বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে বিরাট সমস্যা তৈরি করেছে। এতে ভোগান্তির স্বীকার হালে মূলধারায় সাধারণ জনগোষ্ঠী। 

৪. স্বাস্থ্য সমস্যা:

একত্রে বহু শরণার্থী থাকায় নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে ও কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে এসব শরণার্থীদের রোগ-শোক বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক শরণার্থী অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্যসেবার জন্য সেখানে ডাক্তার রয়েছে। শরণার্থীদের মাধ্যমে নতুন নতুন রোগ-শোক বৃদ্ধি গাচ্ছে।

৫. মাদকাসক্ত বৃদ্ধি:

শরণার্থীদের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে মাদকাসক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত ১০ বছরে এ হার বহু গুণে বেড়ে গেছে। শরণার্থীদের অনেকেই এসব কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ যুবসমাজকে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

৬. পরিবেশ সমস্যা:

শরণার্থীরা একইসাথে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আশ্রয় নেয়। তখন সেখানকার পরিবেশের বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হয়। এছাড়াও ঐ স্থানের পরিবেশের নানামুখী সমস্যা বৃদ্ধি পায়।


৭. নৈতিক অবক্ষয়:

শরণার্থীরা বেশিরভাগই নৈতিক অবনতি ঘটায়। তারা নানাবিধ মাদক ও অন্যান্য অপকর্মের সাথে লিপ্ত হয়। চুরি, ছিনতাই অনেক বেড়ে যায়। এতে নৈতিক অবক্ষয় জাতীয় সমাজের উপর পাড়ে।

৮. লোকালয়ে চলাচল:

শরণার্থী রোহিঙ্গারা বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছে। ঢাকা শহর এ রোহিঙ্গারা সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে নানাবিধ অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এতে শহরের সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এসব সমস্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

৯. পুনর্বাসন সমস্যা:

শরণার্থী সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো পরিকল্পনায় থাকে না। তাই তাদের পুনর্বাসনের জাতীয় নির্দেশনা নেই। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করলেও তা বাস্তবে প্রতিফলন দেখা যায়নি। মায়ানমার তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করায় বাংলাদেশে এ সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১০. রাজনৈতিক সমস্যা:

শরণার্থী সমস্যা সাধারণত আন্তর্জাতিক পরিসরে উদ্বৃত হয় বেশি। এটা আন্তর্জাতিক স্থানান্তরে Push Factor হিসেবে কাজ করে থাকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন কূটকৌশলে শরণার্থী সমস্যা অজান্তেই ভোগ করছে।

১১. মৌলিক চাহিদা পূরণে অসমর্থতা:

শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ প্রধান কাজ। বাংলাদেশে সাধারন কোটি মানুষের এখনো পরিপূর্ণ মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তার মধ্যে আবার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক চাহিধা পুরণ সম্পূর্ণই অবান্তর প্রক্রিয়া। তাই এসব ভিত্তিমূলের সমস্যা বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের যেকোনো স্তরের মানুষই শরণার্থীতে পরিণত হতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এর কার্যকারিতা বেশি থাকে। এই শরণার্থীরা এক প্রকার সংখ্যালঘু। তবে বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যা নিরসান অতিসত্বর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো একান্তই অপরিহার্য।

No comments:

Post a Comment