-->

Horkheimer এবং Marcuse-এর Critical Theory সম্পর্কে আলোচনা

Horkheimer এবং Marcuse-এর Critical Theory সম্পর্কে আলোচনা

ভূমিকা: সমাজবিজ্ঞানের সমালোচনামূলক স্কুল হিসেবে ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠায় ম্যাক্স হোর্কহেইমার (১৮৯৫–১৯৭৩) অন্যতম ব্যক্তিত্ব। উনিশ শতকে বুর্জোয়াদের সমালোচনা করতে গিয়ে বুর্জোয়া বিরোধী চিন্তাধারার সূচনা হয়েছিল। এ সময় ম্যাক্স হোর্কহেইমার ও হার্বার্ট মার্কুজ তাদের Critical Theory-এর মাধ্যমে বিশ শতকের যুদ্ধোত্তর পর্বে এক সমালোচনার ঝড় তুলে। ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটেছিল। মার্কুজ এ সময় উদ্বৃত্ত নিপীড়ন, সম্পাদিত কার্যনীতি, একরৈখিক মানুষ, নিপীড়ন সহিষ্ণুতা, সর্বগ্রাসী গণতন্ত্র এবং পুঁজিবাদ সমালোচনা করেন।

Horkheimer এবং Marcuse-এর Critical Theory

হোর্কহেইমার ও মার্কুজের Critical Theory:

Critical Theory বা বিশ্লেষণী তত্ত্বের ভিত্তিভূমি স্থাপিত হয় ফরাসি দার্শনিক দেকার্তের দর্শনে। এক্ষেত্রে হোর্কহেইমার ও মার্কুজ দেখেন যে, যৌক্তিক বাস্তব হয়ে যায় এবং বাস্তব যৌক্তিক হয়ে ওঠে। তারা মনে করেন, রিয়াল এবং র্যাশনালের একাত্মতায় দর্শনের বাইরে মানুষের আর কোনো অবস্থান থাকবে না। তারা বিশ্বাস করেন যে, যুক্তি মানুষের মুক্তির পথকে রুদ্ধ করে, সেই যুক্তিবিজ্ঞান অনুসৃত নয়। বৈজ্ঞানিক চিন্তা পদ্ধতিতে অযৌক্তিকের কোনো স্থান নেই। হোর্কহেইমার সোশ্যাল ডেমোক্রেসি এবং সোভিয়েত মডেল কোনোই সমাজকে র্যাডিকেলভাবে মুক্ত করতে পারেনি। তিনি আধুনিক যুক্তির কূটাভ্যাসকে রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং নান্দনিকভাবে বিরোধিতা করেছেন।

তিনি বিশ্লেষণী তত্ত্বের মাধ্যমে মৌল সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সমালোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। এই তত্ত্বে তিনি প্রভুত্ববাদ, সামরিক মনোবৃত্তির প্রাবল্য, অর্থনৈতিক ভাঙন, পরিবেশগত সমস্যা এবং বৃহৎ সংস্কৃতির দরিদ্রতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি র্যাডিকেল এবং কনজারভেটিভ-এর সমন্বয়ে বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রদান করতে চেয়েছিলেন, যা মার্কসবাদে বাধাপ্রাপ্ত হয়। মার্কসিস্টরা যেখানে মানুষের সাম্যের কথা রাজনৈতিকভাবে বলেন, অর্থাৎ, প্রাকৃতিক সাম্য বলতে চান, সেখানে হোর্কহেইমার-এর মতো ক্রিটিক্যাল থিওরিস্টরা বা বিশ্লেষণী তত্ত্ববিদেরা মার্কসবাদে অবমূল্যায়িত মানব ব্যাপারগুলোকে বড় করে দেখেন।

এ প্রসঙ্গে হোর্কহেইমার বলেন, "সমাজের ডাইনামিক্স বুঝবার জন্য এর মার্কস এঙ্গেলসের পদ্ধতি যদিও এখনো অপরিহার্য, তবুও গার্হস্থ্য তা উন্নয়নের বা নানাজাতির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মার্কসবাদ ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ।"

হোর্কহেইমার নিজেদের সম্পদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশ্লেষণী তত্ত্বের বিকাশ ঘটান, যেখানে তিনি বুর্জোয়া এবং দারিদ্র্যের পাশাপাশি অবস্থান অবলোকন করেছেন। এ তত্ত্ব সমাজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে মানবতার মুক্তির জন্য যা যৌক্তিক, সেই যুক্তির দিকে ধাবিত হয়।

মানবজাতি প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সক্ষম হবে এবং নিশ্চিতও হতে পারবে। তাঁর নন্দনতত্ত্ব, সামাজিক-রাজনৈতিক মতবাদ, আনতত্ত্ব, যোগাযোগমুণী ক্রিয়াতত্ত্ব, উন্নয়ন মনোবিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানকে অলঙ্কৃত করেছে। তিনি সমাজবিজ্ঞানের বৃহৎ পরিসর তত্ত্বের আধুনিকতার প্রধান প্রাণকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর Public Sphere তত্ত্বে জনপরিসর সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।

মূলত বিশ্লেষণী কল্পনা একটি শিল্পের অনুসরণ। এটি এমন একটা বিশ্ব তৈরি করবে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো, যেখানে মানুষের প্রয়োজন ও সন্তুষ্টির বিষয়টিকে অতীব গুরুত্ব দেওয়া হবে। Critical Theory জ্ঞান এবং ইতিহাসের পরিপূর্ণ পাঠাদ্ধারে এখানেও গুরুত্ব দিয়ে থাকে। Critical Theory বা বিশ্লেষণী তত্ত্ব সোশ্যাল টোটালিটি (সমাজের সামগ্রিকতা) এর উপর বেশ গুরুত্ব দেয়, কেননা এটি মানুষ, মানব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং তার বিকাশকে পরিস্ফুটিত করে। এ প্রসঙ্গে এডর্ন্নে এবং হোর্কহেইমার বলেন, "The concept of social totality refers to the history of man, himself, to his building, his cultural formation and development."

হোর্কহেইমার মার্কসের রাজনৈতিক অর্থনীতি হিসেবে বিবেচনা করেন, যা বিশ্লেষণী তত্ত্বকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করে। বিশ্লেষণী তত্ত্ব শুধু পুঁজিবাদকেই নয়, সমগ্র পাশ্চাত্য ইতিহাসকেও সমালোচনা করেছে। এই তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষবাদী ধারণার বিরোধিতা করেছে, কেননা প্রত্যক্ষবাদী ধারণা বিশ্লেষণী ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক, কারণ প্রত্যক্ষবাদী ধারণায় এটা বিশ্বাস করা হয় যে নৈতিক এবং রাজনৈতিক পছন্দের সকল আলোচনাই অধিবিদ্যামূলক এবং অযৌক্তিক। সহজভাবে বলতে গেলে, সকল নৈতিক প্রস্তাবনাই সমানভাবে অর্থহীন। অন্যদিকে, বিশ্লেষণী তত্ত্বের মূল লক্ষ্যই হলো সকল যুক্তি বহির্ভূত যুক্তিশীলতাকে নৈতিক মূল্যবোধের আওতায় এনে মানবিক যুক্তিশীলতায় রূপান্তরিত করা।

মার্কুজের মতে, পুঁজিবাদ হলো পুঁজির চাষাবাদ। এখানে শ্রমিকের শ্রম ও উদ্বৃত্তসমূহ শোষণ করা হয়। অবাধ মুনাফা লাভ ও আয়ের অসম বণ্টন একচেটিয়া ভোগদখল ব্যবস্থা তৈরি করেছে। মার্কুজের সমালোচনা মার্কসের বস্তুবাদের বিচ্ছিন্নতাবোধের সাথে মিল রয়েছে। মার্কুজ তাঁর One Dimensional Man গ্রন্থে এ যান্ত্রিক এবং সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন সমালোচনা করেছেন। মার্কুজ মনে করেন, বর্তমান সংস্কৃতি একপেশে এবং একমাত্রিক হয়ে উঠেছে, যা মানুষের মুক্তি এবং বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, হোর্কহেইমার ও মার্কুজ উভয়ই ফ্রাঙ্কফুর্ট সমালোচনা স্কুলের তাত্ত্বিক। তথাকথিত সমাজের অবস্থা সমালোচনার মাধ্যমে, তথা Critical Theory-এর মাধ্যমে তারা সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এখানে বুর্জোয়াদের সমালোচনার মাধ্যমে তাত্ত্বিক কাঠামোর বর্ণনা করা হয়েছে।

নবীনতর পূর্বতন