নির্বাচকমন্ডলী কী? নির্বাচকমণ্ডলীর গুরুত্ব ও ভূমিকা আলোচনা্
নির্বাচকমন্ডলী কী? নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা
ভূমিকা:- নির্বাচন হলো রাষ্ট্রের মানুওেষর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দেশের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়। কারণ নির্বাচন একটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নির্বাচন পৃথিবীর সকল দেশেই হয়ে থাকে তবে রাজনৈতিক বা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাদে। আমাদের মত কতকগুলি গণতান্ত্রিক দেশ রয়েছে যেখানে প্রতিটি দেশে গণতন্ত্রিক নির্বাচন হয়ে থাকে।আর এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণের স্বার্থরক্ষা হয়ে থাকে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে নির্বাচকমন্ডলী। কারণ নির্বাচকমন্ডলী নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করে থাকে।
নির্বাচকমন্ডলী
নির্বাচকমন্ডলী হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। আর একটি নির্দিষট ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করে থাকে। কারণ, যারা নির্বাচকমন্ডলী তারা প্রত্যক্ষভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলে।বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশ রয়েছে প্রতিটি দেশের সরকার গঠনে নির্বাচকমন্ডলী কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা
নিম্নে নির্বাচকমনন্ডলীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা প্রদান করা হলো-
প্রফেসর Lecky বলেন নির্বাচকমন্ডলী হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যারা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি মনোনীত করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Appadorai-এর মতে “নির্বাচকমন্ডলী হলো এমন এক ধরনের শ্রেণি যারা প্রত্যক্ষ ভোট প্রদানের ক্ষমতা রাখেন।”
এককথায় বলা যায় নির্বাচকমন্ডলী হচ্ছে সকল ভোটার বা নির্বাচকদের সমষ্টি। প্রত্যেক আধুনিক রাষ্ট্রে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আইন অনুযায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রাখে। এ সকল ব্যক্তির সমাহারতেই নির্বাচকমন্ডলী বলে। মোট কথা নির্বাচকমণ্ডলী হলো রাষ্ট্রের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যারা সরকারের মা্যেমে গণতন্ত্র নিশ্চিত করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। কারণ ভোটধিকার হলো রাজনৈতিক অধিকার। আর ভোট প্রদান ছাড়া কখনও একটি দেশে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা যায় না। সকল ভোটারের সর্বোচ্চ সম্মতিক্রমে ভোট প্রদানের মাধ্যমেই জনগণ তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা প্রতিনিধি নির্বাচন করে থাকে। কারন নেতা ছাড়া কোন দেশ চলতে পারে না। গণতান্ত্রিক দেশে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনই গণতন্ত্র রক্ষার সর্বজনীন পদ্ধতি।
নির্বাচকমণ্ডলীর গুরুত্ব ও ভূমিকা:
১. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা:
নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, যা জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে। নিয়মিত ও অবাধ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী ও টেকসই হয়।
২. জনগণের মতামতের প্রতিফলন:
নির্বাচকমণ্ডলী জনগণের প্রত্যাশা, চাহিদা ও মতামত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। ভোটের ফলাফল দেখেই বোঝা যায় কোন ব্যক্তি বা দল জনগণের আস্থা ও সমর্থন লাভ করেছে। এভাবে সরকার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে বাধ্য হয়।
৩. ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা:
ভোট প্রদান করার মাধ্যমে জনগণ শাসকদের কার্যকলাপের মূল্যায়ন করে। যারা ভালো কাজ করে না, জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এতে শাসকগোষ্ঠী জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে এবং স্বেচ্ছাচারিতা কমে।
৪. নীতি-নির্ধারণে প্রভাব:
ভোটারদের রায় অনুযায়ী সরকার গঠিত হয়। ফলে সরকার নীতি প্রণয়নের সময় জনগণের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয়। এতে জনকল্যাণমূলক নীতির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৫. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি:
নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। তারা রাষ্ট্রীয় বিষয়, আইন-কানুন ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
৬. শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিতকরণ:
নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটের মাধ্যমেই এক সরকার থেকে আরেক সরকারে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়। এতে রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিরতা কমে এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
৭. নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি:
নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের মৌলিক অধিকার—ভোটাধিকার—প্রয়োগ করতে পারে। এটি নাগরিকত্বের দায়িত্ববোধ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে দৃঢ় করে।
৮. দুর্নীতি ও অপশাসন প্রতিরোধ:
ভোটের ভয় শাসকদের দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে। জনগণ সচেতন হলে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য নেতারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।
৯. যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে সহায়তা:
নির্বাচকমণ্ডলী সচেতনভাবে ভোট প্রদান করলে দক্ষ, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা আরও কার্যকর ও জনমুখী হয়।
১০. সামাজিক ঐক্য ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি:
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মানুষ একত্রিত হয়। এতে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে ভোট প্রদান করে নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্বাচিত একটি ঐতিহ্যবাদী ঘটনা। কারণ, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মধ্যে গ্রিসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হতো। সেখান থেকে এ ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশ পরিচালনা করা হয় যা গণতন্ত্র রক্ষা করে। এজন্য নির্বাচকমণ্ডলী বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা অপরিসীম।

Comments
Post a Comment