১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ভূমি সংস্কার নীতি আলোচনা কর

১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ভূমি সংস্কার নীতি আলোচনা

ভূমিকা:- স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাঙালি জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ে সরকারিভাবেই ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো শুরু। গ্রামীণ কৃষি কাঠামো ভেঙে পড়া অবস্থাকে উত্তরণের জন্য তৎকালীন সরকার উপলব্ধি করেন যে ভূমি ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। এজন্যই ১৯৭২ সালে ভূমি সংস্কার নীতি গৃহীত হয়।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ভূমি সংস্কার নীতি

১৯৭২ সালের ভূমি সংস্কার নীতি

১৯৭২ সালের ভূমি সংস্কার নীতিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১। প্রতি পরিবার জমির পরিমাণ ১০০ বিঘা নির্ধারন রাখা। তবে চা, রাবার সমবায় চাষ ইত্যাদির ক্ষেত্রে এ সীমা শিথিলযোগ্য।

২। ১০০ বিঘার বেশী সকল জমি ৬০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ বলে হস্তান্তর করা।

৩। ১০০ বিঘার উদ্বৃত্ত জমি সরকার হাতে নিয়ে ক্ষুদ্র ও ভূমিহীনদের মাঝে বন্টন করা। এই বন্টনে জমির আকার হবে ১.৫ একরের কম।

৪। ১৯৭২ সালের ভূমি সংস্কারে ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ হয় যা ১৪ই এপ্রিল ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকে।

৫। ১৯৭২ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল বকেয়া খাজনা মওকুফ।

৬। সরকারি ইজারাদারি প্রথা বিলুপ্ত করেন এবং অকৃষিকে কৃষি থেকে সরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন।

৭। ভূমি প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয় স্থাপন।

৮। নতুন এ সংস্কারে চর সম্পত্তির মালিক হবেন সরকার এবং এ সম্পত্তি ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

৯। ১৯৭২ ভূমি সংস্কারে সেলামী ব্যতীত জমি বন্টনের ব্যবস্থা করা ।

এগুলিই ছিলো ১৯৭২ সালের ভূমি সংস্কার নীতিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের ভূমিসংস্কারে বিরাজমান সমস্যাসমূহ

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের শতকরা ৪০ ভাগ লোক প্রত্যক্ষ ও ৭০ ভাগ লোক পরোক্ষ ভাবে কৃষির সাথে জড়িত। কারন আমাদের দেশ শিল্পোন্নত নয় বরং কৃষিকে কেন্দ্র করেই আমাদের সকল অবস্থার পরিবর্তন হয়। তবে আমাদের কৃষিতে ভূমি সংস্কারে কিছু সমস্যা বিরাজমান। আর ভূমি সংস্কারের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তার পথে নানা ধরনের বাধা রয়েছে যা ভূমিসংস্কারের জন্য বাধাস্বরুপ।

১। রাজনৈতিক সমস্যা

যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য রাজনীতি বেশ সহায়ক হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তেমনি ভূমিসংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে ভূমিসংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনীতি হলো একটি বড় পাঠ।

২। বেনামী লেনদেন

আমাদের দেশে ৯০ এর দশকে যে ভূমি সংস্কার আইন প্রবর্তন করা হয়েছে তাতে অনেকে নামে বেনামে জমির মালিকানা লাভ করেছে। তাছাড়া উপযুক্ত খাজনা না দেওয়ার জন্য অনেক জমির জন্য আদালতের দৌড় গোড়ায় পৌছায়ছে। যা ভূমিসংস্কারে বড় বাধা।

৩। ভূমির অসম বণ্টন

আমাদের দেশে ভূমির অসম বণ্টনের কারনে অনেক সময় গ্রামীণ মানুষের মাঝে নানা ধরনের অসমতা দেখা যায়। কারণ এখানে যারা বেশি জমির মালিক তারা সাধারণত দরিদ্র চাষীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

৪। সামাজিক অসাম্য

আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষই গ্রামে বাস করে। আর গ্রামের মাঝে তেমন বৈষম্য দেখা যায় না। ভূমি ব্যতীত তেমন বৈষম্য নেই, যত বৈষম্য সবই ভূমির সাথে সম্পর্কিত। যারা অনেক জমির মালিক তারা সবসময় দরিদ্র কৃষকের উপর কর্তৃত্ব করে। কারণ দরিদ্র কৃষকরা ধনীদের জমি বর্গাচাষ করে করে যা সমাজিক অসমতা বৃদ্ধি করে।

সর্বশেষ বলা যায় ভূমি সংস্কার আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। কারন উপযুক্ত ভূমিসংস্কারের অভাবে আমাদের দেশের আবদি জমির নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে যা কৃষির জন্য বেশ হুমকিস্বরুপ।

No comments:

Post a Comment