সামাজিক কাঠামোর প্রত্যয়সমূহ আলোচনা
ভূমিকা:- মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক জীব এবং যূথবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। নিজের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে মানুষ সমাজ গঠন করেছে এবং সেই সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখতে গড়ে তুলেছে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো। সমাজবিজ্ঞানে সামাজিক কাঠামো (Social Structure) বলতে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিরাজমান একটি স্থায়ী ও সুসংগঠিত সম্পর্ককে বোঝায়।
সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন। একটি ভবন যেমন ইট, বালি ও সিমেন্টের সমন্বয়ে গঠিত হয়, সমাজও তেমনি কিছু মৌলিক প্রত্যয় বা উপাদানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।
সামাজিক কাঠামোর প্রত্যয়সমূহ:
যেকোন ধরনের কাঠামো নির্ভর করে নিজ নিজ গুরুত্ব প্রকাশ করার জন্য। ঠিক তেমনি সামাজিক কাঠামোর বেশ কিছু প্রত্যয় রয়েছে। নিম্নে সমাজ কাঠামোর প্রত্যয়সমূহ তুলে ধরা হলো।
১। মৌল ধারণা বা প্রত্যয়, ২। কেন্দ্রীয় প্রত্যয় ও ৩। নির্দেশ জ্ঞাপক প্রত্যয়
১। মৌল ধারণা বা মৌল প্রত্যয়:
সামাজিক কাঠামো হলো সেই কাঠামো যেখানে মৌল প্রত্যয় বিদ্যমান থাকে। কারণ, মৌল প্রত্যয় ব্যতিত কোন কাঠামো টিকে থাকে না। মৌল প্রত্যয় আবার দুই প্রকার যথা- (ক) মৌল কাঠামো ও (খ) উপরি কাঠামো।
মৌল কাঠামো এবং উপরি কাঠামো সর্বদা মৌল প্রত্যয়কে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।
২। কেন্দ্রীয় প্রত্যয়
কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হলো সমাজ কাঠামোর জন্য বিশেষ ধরনের ধারণা বা প্রত্যয়। কারণ, সামাজিক প্রত্যয়সমূহ সর্বদা কেন্দ্রীয় প্রত্যয়ের উপর বেশি নির্ভরশীল। সামাজিক কাঠামোর ক্ষেত্রসমূহ আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় প্রত্যয়সমূহকে আবার ৪ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (ক) সমাজ, (খ) রাষ্ট্র, (গ) সম্পত্তি ও (ঘ) জ্ঞাতি সম্পর্ক।
(ক) সমাজ
সমাজ হলো সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রধান উপায়। কারণ, সমাজ ছাড়া কখনো সামাজিক কাঠামো কল্পনা যায় না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বিষয় কাজ করে থাকে যা সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করে। মানুষের সকল ধরনের সামাজিক কর্মকান্ড সমাজকে ঘিরেই সম্পন্ন হয়। তাই সমাজ হলো সামাজিক কাঠামো নির্ণয়ের প্রাণশক্তি।
(খ) রাষ্ট্র
কোন দেশ বা সমাজ গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা প্রদান করা। কারণ, একটি রাষ্ট্র তখনই মানুষের সকল ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করবে যখন তার সকল কাজকর্ম কাঠামোগতভাবে সম্পন্ন করা হবে। তাই সামাজিক কাঠামোর ক্ষেত্র হিসেবে রাষ্ট্র বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
(গ) সম্পত্তি
সম্পত্তি হলো একটি অর্জন। কারণ, সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য সম্পত্তি বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশের মত অন্যান্য দেশেও সম্পত্তিকে সমাজ কাঠামোর প্রাথমিক প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
(ঘ) জ্ঞাতি সম্পর্ক
সামাজিক বিভিন্ন সম্পর্ক নির্ভর করে সে দেশের মানুষের পারস্পরিক জ্ঞাতি সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে। আমাদের দেশ সহ অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রত্যয় লক্ষ্য করা যায়।
৩। নির্দেশ জ্ঞাপক প্রত্যয়
মানুষ সামাজিক জীব সমাজে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত সমাজের কাঠামোসমূহ পরিবর্তনের জন্য চিন্তাভাবনা করে থাকে।
উপসংহার: উপরের আলোচনা হতে পরিশেষ বলা যায় যে, গ্রামীন সমাজের চিত্র সম্পর্কে জানা আবশ্যক যা সমাজের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।কেননা সনাতন বা প্রাচীন পদ্ধতীতে চাষাবাদ এদেশের কৃষির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া বাংলাদেশে এখনো সনাতন কৃষি কাঠামো বিরাজ করছে। তবে একথা সত্য আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে গ্রামীণ আবাদী কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে যা আমাদের দেশের সামাজিক কাঠামোর জন্য বেশ প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান।
