নগর সংস্কৃতি বলতে কি বুঝ? নগর সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য লিখ
➢ভূমিকাঃ- সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের সামাজিক পরিচিতি। সংস্কৃতি বলতে সংস্কারের মাধ্যমে প্রাপ্ত গুণকে বোঝায়। এযকোন সমাজ প্রচলিত সামাজিক আচরণ ও কার্যাবলির মার্জিত রুপই হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতি হলো সামাজিক জীবনবোধ থেকে উদ্ভূত একটি সামাজিক প্রপঞ্চ। মানুষ একত্রে বসবাসের ফলেই সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। আবার সংস্কৃতি হারিয়ে যায় যখন কোন জাতির বিনাশ হয়।
নগর সংস্কৃতির সংজ্ঞা
নগর সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ‘Urban Culture’। নগর হলো কোনো একটি স্থান যেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জনসমষ্টি থাকে যারা সাধারণত বিভিন্ন অকৃষিজ পেশায় নিয়োজিত থাকে। অন্যদিকে, সংস্কৃতি হলো সমাজ ও মানুষের আস্থা, জ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্টান ইত্যাদি বিষয়গুলো সমাজ থেকে অর্জন করে সভ্য নাগরিক হিসেবে বসবাস করার মধ্য দিয়ে ।
নগর সংস্কৃতির প্রামাণ্য সংজ্ঞাঃ
নগর সংস্কৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষী বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো-
A.L Kroeber এর মতে ''প্রতিক্রিয়া, অভ্যাস, কৌশল ও মূল্য প্রভৃতি দ্বারা সৃষ্ট ব্যবহার নগর সংস্কৃতি গঠন করে নগর সংস্কৃতি মানুষের বিশেষ, একচেটিয়া, উপদান।''
Prof. R. B, Mandal এর মতে ''নগর সংস্কৃতি হলো নগর জীবনের এতদ্ব্যতীত মানুষের নগর কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কুশলতা জ্ঞান বিশিষ্ট বিভিন্ন দিকের সমষ্টি।''
According to Mumford ''Industrialization is key too the present urban culture and city civilization.''
সুতরাং উপরের আলোচনার উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি যে, নগর সংস্কৃতি হলো নগরে বসবাসকারী মানুষের আচার-আচরণ, শিল্প, সাহিত্য, বিশ্বাস ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদি।
নগর সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ
নগর ও সংস্কৃতি গড়ে উঠে কতকগুলো বৈশিষ্ট্যর উপর ভিত্তি করে। সেগুলো নিচে দেওয়া হল-
১। শ্রম বিভাগ:
নগর সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য শ্রম বিভাগ। নগর সমাজে কাজের যোগ্যতা দেখা যায়। Specibization এর উপর জোর দিয়ে শ্রমবিভাগের জন্য নগরের অধিবাসীরা স্ব-স্ব এখতিয়ারে সীমাবদ্ধ। নগর সমাজে দক্ষতার উপর প্রকৃত মূল্যায়ন করা হয়।
২। আকার ও ঘনত্ব:
নগর সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নগর সমাজের আকার ও ঘনত্ব। সাধারণত নগরে আকারের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। ফলে নগরের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি হয়।
৩। পরিবর্তনশীলতা:
নগর সংস্কৃতির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পরিবর্তনশীলতা। কেননা চাকরি বা কাজের প্রত্যাশায় অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে। তারা নগরের কোনো অংশে বসবাস করে। তাদের জীবনধারা সবসময় এক থাকে না। ফলে তাদের পরিবর্তনের সাথে সাথে সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে।
৪। প্রযুক্তি ও কলাকৌশল:
নগর সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উন্নত প্রযুক্তি ও কলাকৌশল। সাধারণত নগরে বিচিত্র ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের সমাগম ঘটে।নগরে বসবাস করার সুবাধে তারা প্রযুক্তি ও কলাকৌশল ব্যবহার করে। ফলে তারা সহজেই দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তর তে পারে।
৫। জনসংখ্যা:
নগর সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো নগর সমাজের অধিক জনসংখ্যা। নগরে বসবাসকারী জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হয় চাকরি বা কাজের সন্ধানে আসা গ্রাম থেকে হাজারো জনসংখ্যা যা নগরে এসে ঠাসাঠাসি করে বসবাস করে।
৬। নতুনত্ব:
নগর সংস্কৃতির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো নতুনকে আঁকড়ে ধরা। নগরের অধিবাসীরা পুরাতনকে ফেলে দিয়ে নতুনকে সাদরে গ্রহণ করে।
পরিশেষে বলা যায় উন্নত সংস্কৃতির অন্যতম ধারক হলো নগরবাসী।কেননা শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে সংস্কৃতিতে সৃষ্টি হয়েছে বৈচিত্র্যতা।

No comments:
Post a Comment