দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ কী কী? আলোচনা কর

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ কী কী? আলোচনা কর

ভূমিকা:- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণ রোধ করার ক্ষমতা মানুষের নেই, তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এর ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management) হলো এমন একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং পরবর্তী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়।

একটি কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তখনই সফল হয় যখন তা একটি নির্দিষ্ট চক্র বা ধাপ অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে দুর্যোগপূর্ব সতর্কতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সম্মিলিত প্রচেষ্টা জীবন ও সম্পদ রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। আমরা আজকের পোস্টে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান তিনটি ধাপসমূহ নিয়ে আলোচনা করব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা

সাধারণভাবে প্রাকৃতির দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগজনিত সকল প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার উদ্দেশ্য দুর্যোগ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি দুর্যোগ পূর্ব, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নের সামগ্রিক কার্যক্রমকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ:-

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দুর্যোগের পূর্বে, দুর্যোগ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ রয়েছে। (ক) দুর্যোগপূর্ব পর্যায় (খ) দুর্যোগকালীন পর্যায় ও (গ) দুর্যোগ পরবর্তী পর্যায়।

(ক) দুর্যোগপূর্ব পর্যায়

দুর্যোগপূর্ব পর্যায়ে যেসব প্রস্তুতি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তা হলো- দুর্যোগ প্রবণ এলাকার জনগণ, প্রশাসন, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনগণের করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্যোগ মোকাবেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য স্থানীয় ও জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন। স্বেচ্ছাসেবক ও জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ । দুর্যোগকালে উদ্ধার, অপসারণ ও ত্রাণ পরিচালনার জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, এবং তা অতিদ্রুত জনগণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ। আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও কেন্দ্রগুলোর সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদান করা।

(খ) দুর্যোগকালীন পর্যায়

এ পর্যায়ে দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার জন্য অপসারণ, তল্লাশি, উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসাসহ স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার প্রস্তুতি ও আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়।

(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পর্যায়

এ পর্যায়ে দুর্যোগের পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন- কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি, কৃষি ঋণের চাহিদা নিরুপণ ও প্রদান, বাসস্থান, রাস্তা সংস্কার, বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার,দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

উপসংহার: পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগপুর্ব, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী বিষয়গুলো সমন্বয় করে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতিকে প্রশমন করা। অর্থাৎ দুর্যোগের ঝুকি হ্রাস ও দুর্যোগজনিত সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়াগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা। একটি কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনগণ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। তাই প্রত্যেক নাগরিকের উচিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রতি সচেতন হওয়া এবং কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আরও জানুন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কী ও দুর্যোগ প্রকারভেদসমূহ।

Md Belal Hossain

আমি মোঃ বেলাল হোসাইন, বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স/স্নাতকোত্তর (M.S.S) ডিগ্রী অর্জন করেছি এবং Shikhaprotidin-এর প্রতিষ্ঠাতা। Shikhaprotidin একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমি সমাজবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করি ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করি।

নবীনতর পূর্বতন