আধুনিকীকরণ তত্ত্বের সংজ্ঞা এবং কাঠামোগত দিকসমূহ আলোচনা
ভূমিকা:- ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রুম্যানের চার দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে আধুনিকীকরণ তত্ত্বটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে আধুনিকীকরণ তত্ত্বটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিকীকরণ তত্ত্ব মূলত প্রাচীন, কৃষিভিত্তিক ও ঐতিহ্যনির্ভর সমাজ থেকে শিল্পোন্নত, প্রযুক্তিনির্ভর ও যৌক্তিক সমাজের দিকে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করে। এটি সামাজিক পরিবর্তনের একটি গতিশীল রূপ।
আধুনিক সমাজতন্ত্রে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া তত্ত্বটি নিয়েও আলোচনা করা হয়। সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তির সাথে সাথেই এ তত্ত্বটি বিকাশ লাভ করেছে। বর্তমান সামাজিক চিন্তার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অনেক। তাছাড়া সামাজিক বিষয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের প্রভাব স্পষ্ট।
আধুনিকীকরণ তত্ত্ব (Modernization Theory):
আধুনিকীকরণের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Modernization. যা ল্যাটিন শব্দ Moderns থেকে এসেছে। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে সমসাময়িক সাহিত্যকে ধ্রুপদী সাহিত্য থেকে পৃথক করার জন্য শব্দটির ব্যবহার করা হতো। মূলত সাহিত্য স্থাপত্য ও ফ্যাশনে নতুন কোনো ধারণাকে বুঝতে শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায়। অনেক সমাজতাত্ত্বিক মনে করেন ১৯৪৯ সালে অনুন্নত বিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে প্রথম যে তত্ত্ব বিশ্ব গড়ে উঠে তা আধুনিকীকরণ নামে পরিচিত। তাই অনেকেই মনে করেন যে উন্নয়নই হলো আধুনিকীকরণ। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে মানুষের মনের পরিবর্তন মূল্যবোধ অভিমুখীই হলো আধুনিকীকরণ। তবে সহজ অর্থে আধুনিকীকরণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে শিল্পপূর্ণ ও সনাতনী পুরাতন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও বিন্যাস শিল্পোন্নত সমাজ ব্যবস্থার দিকে প্রবর্তিত হয়।
আধুনিকীকরণ তত্ত্বের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
আধুনিকীকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন নিম্নে কয়েকটি সংজ্ঞা প্রদান করা হলো।
এস পি হান্টিংটন (s. p. huntington) এর ভাষায়- আধুনিকীকরণ হলো মানুষের চিন্তাধারার ও কার্যাবলির একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। (Modernization is all areas of human thought and activity)
আইজেনস্টেড বলেন- ''আধুনিকীকরণ সামাজিক সংগঠনের কাঠামোগত দিক ও সাধারণ জনমিতির দিকসমূহ অন্তর্ভূক্ত করে।''
ডেভিড জেরি ও ডুলিয়া জেরি বলেন- 'আধুনিকায়ন হলো প্রকৃতপক্ষে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যেখানে শিল্পায়ন অন্তর্ভূক্ত থাকে এবং যার দ্বারা প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজ উন্নত অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।'
সি ই ব্লাকের মতে 'আধুনিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার ফলে ঐতিহাসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিবর্তনশীল কার্যকলাপ সম্পাদনের উপযোগী হয়ে উঠে এবং মানুষের জ্ঞানের উপর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।'
কার্ল ডয়েসের মতে-'আধুনিকীকরণ এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে পুরাতন সামাজিক অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যবোধ ছিন্ন ও লুপ্ত হয়ে যায় এবং জনগণ নবতর সামাজিক আচরণের জন্য প্রস্তুত হয়।'
C. E. Block তাঁর The Dynamics of Modernization' গ্রন্থে বলেন, "আধুনিকীকরণ এমন এক প্রক্রিয়া যার ফলে ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিবর্তনশীল কার্যকলাপ সম্পাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে এবং মানুষের জ্ঞানের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।"
আইজেনস্টেড বলেছেন, "আধুনিকীকরণ সামাজিক সংগঠনের কাঠামোগত দিক ও সামাজিক জনমিতিক দিকসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।"
Professor L. W. Pye-এর মতে, "আধুনিকীকরণ সামাজিক পরিবর্তনের সে প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ায় গ্রাম বা কূলভিত্তিক সমাজসমূহ আধুনিক শিল্পায়িত এবং শহরকেন্দ্রিক জগতের চাপ ও আবেদনে সাড়া দিতে বাধ্য হয়।"
W. W. Rostow-এর মতে, "আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রকৃতির ওপর মানুষের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।"
পরিশেষে বলা যায় যে, আধুনিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার ফলে ঐতিহাসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্রুত পরিবর্তনশীল কার্যকলাপ সম্পাদনের উপযোগী হয়ে উঠে এবং যা সমাজজীবন ও মূল্যবোধের সাথে সংশ্লিষ্ট। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষিনির্ভর ও ঐতিহ্যগত সমাজ কাঠামো ভেঙে নতুন শিল্পভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গড়ে ওঠে। আধুনিকীকরণ কেবল বাহ্যিক নয়, মানুষের মনোজগতে ও চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব ফেলে। এটি সমাজকে উন্নয়নের পথে পরিচালিত করে
আধুনিকীকরণ তত্ত্বের কাঠামোগত দিকসমূহ
বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীগণ আধুনিকীকরণ তত্ত্বের কাঠামোগত দিক নিয়ে বিভিন্নভাবে আলোচনা করেছেন। নিম্নে এ তত্ত্বের কাঠামোগত দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো-
১. শিল্প সমাজ:
স্বাভাবিকভাবেই শিল্প সমাজ উন্নত সমাজের পথ প্রদর্শন করে। গ্রামভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্প সমাজে উত্তরণকে আধুনিকীকরণ বলে। শিল্প সমাজ শুধু শিল্পক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করে না বরং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করে। শিল্প সমাজে শিল্পের মধ্য দিয়ে সমাজের মনোভাব, আচরণ, চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। কৃষকদেরকে শিল্প সমাজে চাষি না বলে কৃষি শ্রমিক পরিবর্তন সাধন করে। এভাবে কৃষিক্ষেত্রেও শিল্প সমাজ গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়।
২. সামাজিক গতিশীলতা
আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। সামাজিক গতিশীলতা বলতে বোঝানো হয় যার যা যোগ্যতা রয়েছে তার মধ্য দিয়ে কাজ করা। মানুষ ভালো কাজের আশায় নিজস্ব গুণাবলির বিকাশ ঘটায়। মানুষ উন্নত জীবনযাপন এবং সামাজিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় নিজস্ব গুণাবলির বিকাশ ঘটায়।
৩. আইনগত আলোচনা:
আধুনিকীকরণ কাঠামো আলোচনায় আইনগত দিকের কথা বলা হয়। এখানে বলা হয় যে, আধুনিকীকরণের আইনগত ভিত্তি আছে। আইনের মধ্য দিয়েই সমস্ত বিষয় পরিচালিত হয়। সমাজের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করে। সমাজের আইন ভঙ্গ করে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। কেননা সমাজের কোনোকিছুই আইনের বাইরে নয়। সমাজের প্রতিটি বিষয় বা ক্ষেত্র স্বকীয়তা অর্জন করে। সমাজের কোনো প্রতিষ্ঠান, বিষয়, ক্ষেত্রের বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। এটি উন্নয়নকামী সমাজের জন্য প্রযোজ্য।
৪. রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা:
আধুনিকীকরণ তত্ত্বে রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে জনগণের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়। এ তত্ত্বে একনায়কত্ব তথা স্বৈরাচার প্রতিহত করার কথা বলা হয়। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সমাজ উন্নতি লাভ করতে পারে না। জনসাধারণকে প্রশাসনিক কাজে সরাসরি সম্পৃক্তকরণের মধ্য দিয়ে একনায়কত্ব প্রতিহত করা সম্ভব। প্রতিটি ব্যক্তি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তৎপর হলে উন্নয়ন সম্ভব।
৫. উন্নয়নতাত্ত্বিক আলোচনা
সমাজের প্রতিটি বিষয় বিশ্লেষণ করে তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব। আধুনিকীকরণ তত্ত্বে সর্বদা উন্নতিসাধনের কথা বলা হয়। আধুনিকীকরণ পেশার ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করে। মানুষ পূর্বে যেখানে কৃষির ওপর জীবিকানির্বাহ করত সেখানে আধুনিক শিল্প সমাজ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত পেশার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। নব্য আধুনিকীকরণ তাত্ত্বিকদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে যে ফল পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায় শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে, যে শিক্ষা ব্যক্তিকে পেশা নির্ধারণে সহায়তা করে।
৬. বহুমাত্রিক আলোচনা:
প্রতিটি সমাজ বহুমাত্রিক এবং সমাজ বহুমাত্রিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। এখানে প্রতিটি বিষয়ের Antomy থাকতে হবে। বহুমাত্রিক সমাজের উন্নয়ন সাধনের জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজন সেসব উপাদান একান্ত অনুভবের মধ্য দিয়ে অর্জন সম্ভব।
৭. অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও প্রযুক্তির ভূমিকা
আধুনিকীকরণের সাথে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন অপরিহার্য। প্রযুক্তির উন্নয়ন যেমন শিল্পোন্নয়ন, উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ একদিকে যেমন শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়ায়, তেমনি অন্যদিকে এটি সমাজের সকল স্তরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তন তৈরি করে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, আধুনিকীকরণ পুঁজি, উৎপাদন এবং বাণিজ্যের দিক থেকেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
৮. সাংস্কৃতিক আধুনিকীকরণ
আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়ায় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথাগত সমাজের সংস্কৃতি পরিবর্তিত হয়ে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মিডিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পকলা, এবং গ্লোবালাইজেশনের প্রভাবে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে একটি নতুন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। এই পরিবর্তন কখনও কখনও পুরানো সংস্কৃতির বিলুপ্তি অথবা সংকটের কারণও হতে পারে, যদিও কখনও তা সংস্কৃতির এক নতুন রূপ হিসাবে আবির্ভূত হয়।
৯. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ এক দিক হলো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। উচ্চমানের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হয়, যা সোজাসুজি জাতীয় উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য অপরিহার্য। আধুনিক সমাজে উন্নত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মাধ্যমে একটি সমাজের মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা সে সমাজকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং কার্যকরী করে তোলে।
১০. বৈশ্বিকীকরণ এবং সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ
আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি বড় দিক হলো বৈশ্বিকীকরণ, যা পৃথিবীকে একসাথে যুক্ত করে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে ব্যবসা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি, এবং প্রযুক্তির আদান-প্রদান বৃদ্ধির কারণ হয়। বৈশ্বিকীকরণ সমাজকে বিশ্বের অন্যান্য অংশের সাথে সমন্বিত এবং সংযুক্ত করে। এর ফলে, সমাজের সাংস্কৃতিক প্রভাব পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ শুরু হয়। যেমন, ফ্যাশন, খাদ্য, ভাষা, এবং বিনোদন শিল্পের মধ্যে একাধিক দেশীয় বৈশিষ্ট্য মিশে যায়।
১১. সামাজিক সমতা ও মানবাধিকার
আধুনিকীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক সমতা এবং মানবাধিকার। আধুনিক সমাজে সকল মানুষের সমান অধিকার এবং সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রথাগত সমাজের মধ্যে যে ধরণের বৈষম্য (যেমন, জাতিগত, লিঙ্গভিত্তিক, বা অর্থনৈতিক বৈষম্য) বিদ্যমান ছিল, আধুনিকীকরণ এই বৈষম্য দূর করতে প্রচেষ্টা চালায়। আধুনিকীকরণ তত্ত্বের মাধ্যমে সামাজিক ও আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয় যাতে প্রত্যেক নাগরিক তার মৌলিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ও শ্রমের সুযোগ পায়। এই প্রক্রিয়ায়, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা হয়, যা সমাজের সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
১২. জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ ও গবেষণা
আধুনিকীকরণের আরেকটি কাঠামোগত দিক হল জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের উন্নয়ন। আধুনিক সমাজে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক উন্নতি একটি সমাজকে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করে। আধুনিকীকরণের মাধ্যমে, সমাজে নতুন নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করা হয়, যা সমাজের সামগ্রিক উন্নতি ঘটায়। এর ফলে শিক্ষা, প্রযুক্তি, এবং গবেষণার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়, যাতে সমাজকে এক নতুন জ্ঞানের ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়।
উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, আধুনিকীকরণ একটি মূল্যবোধগত প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, সমাজে, বস্তুগত দিকের পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধগত দিকেরও পরিবর্তন সাধিত হয়। এখানে বস্তুগত দিক ও মূল্যবোধগত দিক পরস্পর আন্তঃক্রিয়ারত। মানুষ উন্নত জীবনযাপনের আশায় নিজস্ব যোগ্যতা ও দক্ষতার উন্নতি সাধন করে। জীবনকে সাজাতে নিত্যনতুন পণ্যসামগ্রীর প্রচলন করে। মূলত আধুনিকীকরণ ছাড়া সমাজের উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
