নগর বিকাশে ম্যাক্স ওয়েবার তত্ত্ব আলোচনা
ভূমিকা:- "মানব সভ্যতার ইতিহাসে নগরায়ন বা নগর বিকাশ একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রখ্যাত জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) তাঁর অন্যতম কালজয়ী গ্রন্থ 'The City'-এ নগরের উৎপত্তি, বিকাশ এবং এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ওয়েবারের মতে, নগর কেবল কতগুলো দালানকোঠার সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় নগরগুলো বিশ্লেষণ করে একটি 'আদর্শ নগর'-এর রূপরেখা প্রদান করেছেন। আজকের নিবন্ধে আমরা নগর বিকাশে ম্যাক্স ওয়েবারের তত্ত্ব এবং একটি আদর্শ নগরের ৩টি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।"
নগর বিকাশে ম্যাক্স ওয়েবারের তত্ত্ব: একটি বিশ্লেষণ
নিম্নে ম্যাক্স ওয়েবারের প্রদত্ত নগর বিকাশের স্বরুপ সমূহ আলোচনা করা হলো।
১। শহরের অর্থনৈতিক প্রকৃতি:
যে স্থানের লোকজন কৃষির থেকে ব্যবসায় বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়। অর্থনৈতিকভাবে একটি শহর সৃষ্টি হলে এর তিনটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এগুলো হলো-
(ক) ব্যবসায় বাণিজ্য স্থাপন।
(খ) উৎপাদনকারী ও ভোক্তার শহর।
(গ) কৃষিকাজে শহরের সম্পর্ক।
২। শহরের রাজনৈতিক প্রশাসন ধারণা:
অর্থনীতির পাশাপাশি প্রাশাসনিক কারনেও একটি শহর গড়ে উঠতে পারে। প্রতিটি শহরের একটি Economic Association থাকে। এরা বাজেট তৈরি করে আয় ব্যায়ের হিসাব করে। কিন্তু Peasant বা কৃষক সমাজে এটা আমরা Economic Association কে Central করার জন্য Palitical Administrative তৈরি হয়। যেমন Municipa Lity প্রাচীনকালের শহরগুলিতে এ ব্যাপারটি দেখা যেতো না। মধ্যযুগ হতে Political Administrative Concert টা দেখা যায়। তারা শহরের জনগণের জন্য আইন তৈরি করে যা মূলত বণিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার জন্য। এটাই Urban Economic Policy এবং এটি তৈরি হয় Municipality. এসব শহরকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে গঠিত শহর বলবো না।বলবো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক শহর। কারণ, অর্থনৈতিক শহরে ব্যবসায়ী বা বণিকদের সুযোগ সুবিধা বেশি এবং তারাই ঐ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।কিন্তু প্রাশাসনিক বা রাজনৈতিক শহরে আমলাদের গুরুত্ব বেশি। দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে এসব শহর গড়ে উঠে।
(ক) দুর্গ ও দুর্গে সন্নিবিষ্ট সেনাদল।
(খ) নগর দুর্গের সংমিশ্রণ ও বিপণন।
৩। সমাজভিত্তিক এবং সামাজিক অবস্থানের বিশিষ্টতা:
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশাসনিকভাবে গড়ে উঠা নগর প্রাচ্যে এবং পশ্চিম দুদিকেই দেখা যেত কিন্তু সমিতিভিত্তিক এবং সামাজিক অবস্থানের বিশিষ্টতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা নগর শুধু পশ্চিমেই দেখা যেত। একটি নগর সমাজ গড়ে উঠার জন্য ব্যবসায় বাণিজ্যের আবশ্যই প্রধান্য থাকতে হয়। তবে তার সাথে নিম্নে লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি ও দেখা যায়। (ক) বাজার (খ) দুর্গায়ন (গ) বিচারালয়ের নিজস্ব স্বায়িত্বশাসিত আইন (ঘ) সংঘের সাথে সম্পুক্ততা (ঙ) অন্ততপক্ষে আংশিক সায়ত্বশাসন সেখানে প্রাশাসনিক কর্তৃপক্ষের নির্বচান অনুষ্ঠিত হয় ও সে নির্বচনে নগরবাসী অংশগ্রহণ করে।
প্রাচ্য নগর সভ্যতার বিকশিত হওয়ার আর একটি কারণ Cast System. এক্ষেত্রে ওয়েবার বলেন ধর্মীয় আবরণে সামাজিক বিভাজনের সৃষ্টি করে ভারতীয়রা তাদের সামাজিক প্রথা শ্রেণি প্রথার সৃষ্টি করে বিভিন্ন প্রথার ভিত্তিতে যার কারনে নতুন কোন নাগরিক সম্প্রদায় বা নাগরিকের আবির্ভাব ছিল সুদুর পরাহত।
পরিশেষে বলা যায় শুধু পাশ্চাতেই নগর সম্পরদায় গড়ে উঠার জন্য যেমন বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা সবই প্রাচ্য অনুপস্থিত ছিলো। ভারতবর্ষে জাতিবর্ণ প্রথা, আরবদের গোত্র প্রথা, চীন, জাপানের পূর্বপুরুষ পূজা বিদ্যমান ছিলো যা নগর গড়ে উঠার বিরুদ্ধে ছিল। যেখানে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব হয়েছিল সেখানে নগর গড়ে উঠেছিল।
আরও জানুন- আদর্শ নমুনা ও অদর্শ নমুনা্র বৈশিষ্ট্যসমূহ।
