মধ্যমার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর। মধ্যমার সুবিধা অসুবিধা আলোচনা কর

মধ্যমার বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধাসমূহ আলোচনা

ভূমিকা:- কোনো নিবেদনের তথ্য সারিতে মানের উর্ধ্বক্রম বা নিম্নক্রমে সাজালে যে সংখ্যাটি কেন্দ্রবিন্দুতে বা ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে নিবেশনের তথ্য সারিকে সমান দুটি অংশে ভাগ করে তাকে মধ্যমা বলে মধ্যমা দ্বারা বিভক্ত তথ্যসারির একদিকে থাকে মধ্যমা অপেক্ষা ছোট মানের সংখ্যা এবং অন্যদিকে থাকে বড় মানের সংজ্ঞা। মধ্যমা হলো মধ্যক মানের কেন্দ্রীয় প্রবণতার অবস্থানভিত্তিক পরিমাণ। মধ্যমা হলো এমন একটি সংখ্যামান যা মানের উর্ধ্বক্রম বা নিম্নক্রম অনুসারে সাজালে নিবেশনের তথ্যসারি দুভাগে ভাগ করা যায়। আজকের ব্লগে আমরা সমাজবিজ্ঞানের পরিসংখ্যান অংশ হতে আলোচনা করব মধ্যমা কী ও মধ্যমার সুবিধা অসুবিধাসমূহ সম্পর্কে।

মধ্যমার বৈশিষ্ট্যসমূহ ও সুবিধা অসুবিধা আলোচনা

মধ্যমার গুনাবলি বা বৈশিষ্ট্য

মধ্যমা পরিসংখ্যানের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ যার কিছু গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নে মধ্যমার কিছু উল্লেখযোগ্য গুনাবলি বা বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হলো-

১। বুঝতে সহজ: সংজ্ঞা হতে মধ্যমা খুব সহজে বোঝা যায়।

২। নির্ণয় পদ্ধতি: অবস্থান ভিত্তিক পরিমাপ হওয়ায় নির্ণয় পদ্ধতি সহজ।

৩। প্রান্ত খোলা শ্রেণি: মধ্যমা অবস্থান ভিত্তিক পরিমাপ হওয়ায় শ্রেণির প্রান্তসীমা খোলা থাকলেও নির্ণয় করা যায়।

৪। চরম ও প্রান্তিক প্রভাব: মধ্যমা অবস্থান ভিত্তিক পরিমাপ হওয়ায় প্রান্তিক ও চরমমান দ্বারব্য এটি প্রভাবিত হয় না।

৫। অসমশ্রেণি: মধ্যমা নির্ণয়ে শুধু মধ্যমা শ্রেণি ব্যবহার করা হয় বিধায় অন্যান্য শ্রেণি অসম হলেও নির্ণয় করা যায়।

৬।গুণাত্মক তথ্য ব্যবহৃত হয়: গুণবাচক তথ্য যেমন- মেধা, দক্ষতা ও ক্ষমতা ইত্যাদি যাচাইয়ের মধ্যমা ব্যবহৃত হয়।

৭। লৈখিক নির্ণয়: ছক কাগজ ব্যবহার করেও মধ্যমা উপস্থাপন করা যায়।

৮। প্রতিনিধত্বশীল: মধ্যমা তথ্যসারির ঠিক মধ্যবর্তী নির্দেশ করে বলে এটি প্রতিনিধিত্বশীল মান হিসেবে দেখা যায়।

৯। অন্তর্ভূক্ত মান: মধ্যমার মান তথ্যরাশির মধ্যে নিহিত কোন মানকে নির্দেশ করে।

১০। বঙ্কিম নিবেশনে মধ্যমা: বঙ্কিম নিবেশনের ক্ষেত্রে মধ্যমা প্রদর্শন করা যায়।

পরিশেষে বলা যায় যে, মধ্যমার গুণাবলি উর্ধ্বক্রম বা নিম্ন মানের তথ্যসারি হিসেবে পরিচিত।

মধ্যমা বা মধ্যমমানের সুবিধা ও অসুবিধা

কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটি অবস্থানভিত্তিক পরিমাপ হলো মধ্যমা। এটি তথ্যসারিকে সমান দু'ভাগে ভাগ করে কেন্দ্রীয় মান বের করে। কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের মধ্যমার বিশেষ কিছু সুবিধা থাকলেও এর কিছু অসুবিধা ও রয়েছে। নিম্নে মধ্যমার কিছু সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরা হলো।

মধ্যমা

কোন তথ্যসারিকে মানের উর্ধ্বক্রমে সাজালে যে সংখ্যাটি তথ্যসারিকে দুটি সমান অংশে বিভক্ত করে তাকে মধ্যমা বা মধ্যমান বলে।

মধ্যমার সুবিধাসমূহ

(ক) এটা নির্ণয়ের ক্ষেত্র তেমন হিসাবের প্রয়োজন হয় না।

(খ) তথ্যসারির মান অজানা থাকলে মধ্যমা নির্ণয় করা যায়।

(গ) এটা প্রান্তিক চরমমান দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ থাকে না।

মধ্যমার অসুবিধাসমূহ

(ক) মধ্যমা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তথ্য সারিকে ক্রমানুসারে সাজাতে হয় যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

(খ) অতিরিক্ত বড় তথ্যসারির মধ্যমা নির্ণয় করা কঠিন।

(গ) মধ্যমা তথ্যসারির সকল মানের উপর ভিত্তি করে নির্ণীত হয় না।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, সামাজিক ও গুণবাচক উপাত্ত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সব ধরনের কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ পদ্ধতি সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না। এ ক্ষেত্রে মধ্যমা একটি অত্যন্ত কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য পরিমাপ পদ্ধতি। বিশেষ করে যখন উপাত্তে চরম মান বিদ্যমান থাকে বা উপাত্ত অসম বণ্টিত হয়, তখন মধ্যমা বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য কেন্দ্রীয় মান প্রদান করে। তাই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে মধ্যমার গুরুত্ব ও ব্যবহার অপরিসীম।

shikhaprotidin

I have a Master's degree in Sociology from the National University and I run my sociology and education platform Shikhaprotidin.com to help students.

নবীনতর পূর্বতন